thereport24.com
ঢাকা, মঙ্গলবার, ৩ আগস্ট ২০২১, ১৯ শ্রাবণ ১৪২৮,  ২৪ জিলহজ ১৪৪২

জাতিসংঘের প্রস্তাবে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন না থাকায় ‘হতাশ’ বাংলাদেশ

২০২১ জুন ২০ ১১:১০:৩২
জাতিসংঘের প্রস্তাবে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন না থাকায় ‘হতাশ’ বাংলাদেশ

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক: মিয়ানমার নিয়ে জাতিসংঘের প্রস্তাবে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে দিক-নির্দেশনা না থাকায় গভীর হতাশা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ। মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীকে সাধারণ জনগণের ওপর প্রাণঘাতী অস্ত্রের ব্যবহার বন্ধের আহ্বান জানিয়ে শুক্রবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে একটি প্রস্তাব পাস হয়। এতে ১১৯টি দেশ পক্ষে ভোট দেয়। বেলারুশ এর বিরুদ্ধে ভোট দেয়।

বাংলাদেশ, ভারত, চীন, নেপাল, ভুটান, লাওস, থাইল্যান্ড, রাশিয়াসহ ৩৬টি দেশ ভোটদানে বিরত থাকে।

প্রস্তাবে মিয়ানমারে গত ১ ফেব্রুয়ারির সামরিক অভ্যুত্থান নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। মিয়ানমারের সামরিক জান্তার প্রতি অবিলম্বে নিঃশর্তভাবে প্রেসিডেন্ট উইন মিন্ট, স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চি ও অন্যান্য বেসামরিক সরকারের কর্মকর্তা, রাজনীতিকদের মুক্তি দেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

প্রস্তাবে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর প্রতি জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার এবং মানবাধিকারের প্রতি সম্মান জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। এ ছাড়া জাতিসংঘের সব সদস্য রাষ্ট্রের প্রতি মিয়ানমারে অস্ত্র যাওয়া প্রতিরোধে কাজ করতে আহ্বান জানানো হয়।

এ বিষয়ে ভোটদানে বিরত থাকার কারণ ব্যাখ্যায় শনিবার মিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, কানাডাসহ জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর একটি কোর গ্রুপ এ প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছে।

প্রস্তাবে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন নিয়ে কোনো সুপারিশ বা পদক্ষেপ অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। রোহিঙ্গাদের নিরাপদে, স্থায়ীভাবে ও মর্যাদার সঙ্গে মাতৃভূমিতে ফেরত যাওয়ার জন্য রাখাইনে অনুকূল পরিবেশ তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথাও এখানে বলা হয়নি।

রোহিঙ্গা সংকটের মূল কারণও প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। এসব মৌলিক বিষয় প্রস্তাবে উঠে না আসায় বাংলাদেশ ভোটদানে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নেয়।

বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ শুরু হয় ১৯৭৮ সাল থেকে। তখন বাংলাদেশে আসা তিন লাখ রোহিঙ্গার মধ্যে আড়াই লাখকে মিয়ানমার পরে ফিরিয়ে নিয়েছিল। ১৯৯২ সালে আসে দুই লাখ ৫৫ হাজার ৫৫৭ রোহিঙ্গা।

এর মধ্যে মিয়ানমার ফিরিয়ে নিয়েছে দুই লাখ ৩০ হাজার রোহিঙ্গাকে। ফলে প্রতিবারই কিছু রোহিঙ্গা বাংলাদেশে থেকে গেছে।

১৯৯২ সালের পর আরও বেশ কয়েকবার রোহিঙ্গারা এলেও তাদের ফিরিয়ে নেয়ার কোনো উদ্যোগ আর দেখা যায়নি। এরপর থেকে প্রত্যাবাসন বন্ধ হয়।

২০১২ সালের ৩ জুন মিয়ানমারে তাবলিগ জামাতের ওপর হামলা চালায় রাখাইনরা। সে সময় সংর্ঘষ শুরু হয়। সংঘর্ষ মংডু থেকে আকিয়াব পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়লে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন শুরু হয়।

ওই পরিস্থিতিতে প্রাণ বাঁচাতে পালানো শুরু করে রোহিঙ্গারা। তাদের অনেকে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেয়।

২০১৬ সালের ৯ অক্টোবর রাখাইন রাজ্যের সীমান্তে পুলিশের ছাউনিতে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকজন পুলিশ সদস্য হতাহত হয়। তখন মিয়ানমার সরকার দাবি করে, এ হামলার সঙ্গে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা জড়িত।

পরদিন রাতে হঠাৎ মিয়ানমারের সেনারা সন্ত্রাসী দমনের নামে রোহিঙ্গাদের গ্রাম ঘিরে ধরপাকড়, হত্যা, ধর্ষণ, বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট শুরু করে। ওই সময় ৭৮ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়।

সবশেষ ২০১৭ সালের ২৪ আগস্ট রাতে রাখাইনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ২৪টি সীমান্ত চৌকিতে একযোগে হামলা হয়। আবারও শুরু হয় অপরাধী দমনের নামে অভিযান। পরের দিন ২৫ আগস্ট থেকে প্রাণে বাঁচতে বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের ঢল নামে। এর পর থেকে সাড়ে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা আশ্রয় নেয় উখিয়া-টেকনাফে।

প্রায় ১৬ বছর রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বন্ধ থাকার পর ২০১৭ সালের নভেম্বরে একটি নতুন সমঝোতা স্মারকে একমত হয় বাংলাদেশ ও মিয়ানমার। চুক্তিতে দুই মাসের মাথায় প্রত্যাবাসন শুরু হওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত কোনো রোহিঙ্গা রাখাইনে ফেরত যেতে পারেনি।

(দ্য রিপোর্ট/আরজেড/২০ জুন, ২০২১)

পাঠকের মতামত:

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

SMS Alert

বিশ্ব এর সর্বশেষ খবর

বিশ্ব - এর সব খবর