thereport24.com
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই ২০২৪, ৯ শ্রাবণ ১৪৩১,  ১৮ মহররম 1446

উচ্চ শিক্ষা

ডিজিটাল সেবা থেকে বঞ্চিত দেশের ৭৫.৩৬ শতাংশ দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী

২০২৪ জুলাই ০৬ ১৩:৪৫:৪৫
ডিজিটাল সেবা থেকে বঞ্চিত দেশের ৭৫.৩৬ শতাংশ দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী

দ্য রিপোর্ট প্রতিবেদক:রাজধানীতে এক ফিডব্যাক সভায় বক্তারা বলেন, প্রযুক্তিতে বিভিন্ন ধরনের প্রযুক্তিগত কন্টেন্ট এর অভিগম্যতার অভাবে বাংলাদেশের উচ্চ শিক্ষায় অধ্যয়নরত দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা নানা ভাবে শিক্ষা গ্রহণে প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হচ্ছে।

মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন (এম জে এফ) এর ইয়ুথ এঙ্গেজমেন্ট ইন ডেমোক্রেসি (ইয়েড) প্রকল্পের সার্বিক সহায়তায় এবং গ্লোবাল রিসার্চ এন্ড মার্কেটিং (জি আর এম) এর কারিগরি সহায়তায় ভিজুয়ালী ইম্পেয়ার্ড পিপলস সোসাইটি (ভিপস) কর্তৃক কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের মাঝে একটি গবেষণা পরিচালিত হয়।

ভিপস পরিচালিত গবেষণা প্রতিবেদনটিতে ৭৫.৩৬% দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা সীমিত পারিবারিক আয়ের কারণে উচ্চ শিক্ষার জন্য সহায়ক প্রযুক্তি ক্রয়ে বাঁধার সম্মুখীন হয়। ৯২.৯৬% দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা তাদের উপযোগী পাঠ্য উপকরণ পায় না উপরন্তু, ৯১.৫৫% শিক্ষার্থী মনে করে দক্ষ প্রশিক্ষকের অভাব রয়েছে, ৯৭% দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের অনলাইন ভর্তি কার্যক্রমে প্রবেশগম্যতার অভাবে অন্যের উপর নির্ভর করে।

এছাড়া অভিগম্যতা বিষয়ে পৃথক আইন এবং এক্সেসিবল কন্টেন্ট তৈরিতে রাষ্ট্রের সুনির্দিষ্ট কোনো নীতিমালা না থাকায় প্রায় ৯০% সরকারী ও বেসরকারি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট এবং ডিজিটাল সেবায় দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীগণ অংশগ্রহণে বাঁধার সম্মুখীন হচ্ছে।


গত ৯ই মার্চ, ২০২৪ আগারগাঁওয়ের মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘরে "উচ্চ শিক্ষায় প্রযুক্তি ব্যবহারে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের মুখোমুখি হওয়া চ্যালেঞ্জ ও প্রতিবন্ধকতা : বাংলাদেশ প্রেক্ষাপট” শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনটি অংশীজনদের সাথে অবহিত-করণ টাউন হল সভা অনুষ্ঠিত হয়।

তারই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি রাজধানীর আগারগাঁওয়ের মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে টাউন হল সভা পরবর্তী উক্ত ফিডব্যাক সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

উক্ত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন এর
সদস্য প্রফেসর ড. মোঃ সাজ্জাদ হোসেন, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লেখক, শিক্ষক ও তথ্য প্রযুক্তিবিদ ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল।

ভাস্কর ভট্টাচার্য, ন্যাশনাল কনসালট্যান্ট (অ্যাকসেসিবিলিটি), অ্যাসপায়ার টু ইনোভেট (এটুআই) প্রকল্প, আইসিটি ডিভিশন, এবং সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফারজানা সুলতানা, প্রকল্প কর্মকর্তা, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন (এম জে এফ)।

সভায় সভাপতিত্ব করেন ভিপসের সভাপতি এডভোকেট মোঃ মোশারফ হোসেন মজুমদার।

ফিডব্যাক সভায় আলোচনায় সরকারী ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমূহের ওয়েবসাইট এবং ডিজিটাল সেবাকে প্রবেশগম্য এবং শিক্ষকদের পাঠদানের প্রক্রিয়ায় প্রবেশগম্যতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তাৎক্ষনিক পদক্ষেপ গ্রহণের তাগিদ দেওয়া হয়। এছাড়াও প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী-বান্ধব রিসোর্স সেন্টার স্থাপন ও কার্যকর করতে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। টেক কোম্পানি গুলোকে সহায়ক প্রযুক্তি উদ্ভাবনের প্রতি এগিয়ে আসার জন্য গুরুত্বারোপ করা হয়।

স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে সকল নাগরিকের ডিজিটাল সেবা নিশ্চিত করনের লক্ষ্যে প্রযুক্তির অভিগম্যতা ছাড়া অন্য কোনো উপায় নেই বিধায় সকল স্তরে উক্ত বিষয়ে সচেতনতা তৈরি হওয়া উচিত বলে আলোচকগণ মনে করেন।

দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মানুষের ব্যবহার উপযোগী সহায়ক প্রযুক্তি সহজলভ্য করার লক্ষ্যে আমদানিকৃত সহায়ক প্রযুক্তির বিপরীতে এইচ এস কোড নির্ধারণের মাধ্যমে শুল্ক ও মূল্য সংযোজন কর রহিত করা জরুরী এবং সহায়ক প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও গবেষণায় সরকারী প্রণোদনা প্রয়োজন বলে অতিথিগণ মনে করেন।

দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের ডিভাইসের অপ্রতুলটার সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে সরকারিভাবে বিনামূল্যে ল্যাপটপ এবং স্মার্টফোন প্রদানের দাবী উঠে আসে।

উক্ত সভায় উপস্থিত ছিলেন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী, এনজিও ও আই এন জিও প্রতিনিধিবৃন্দ, সরকারী ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, ভিপস এর কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কেয়ারগিভার প্রমুখ।

পাঠকের মতামত:

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

SMS Alert

স্বাস্থ্য এর সর্বশেষ খবর

স্বাস্থ্য - এর সব খবর