thereport24.com
ঢাকা, সোমবার, ৩১ মার্চ 25, ১৭ চৈত্র ১৪৩১,  ১ শাওয়াল 1446

ভিড় থাকলেও নেই ভোগান্তি, ট্রেন ছাড়ছে সময় মতো

২০২৫ মার্চ ২৯ ১৬:২০:৪০
ভিড় থাকলেও নেই ভোগান্তি, ট্রেন ছাড়ছে সময় মতো

দ্য রিপোর্ট প্রতিবেদক:পবিত্র রমজান মাস শেষ পর্যায়ে। তাই পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছেন রাজধানীবাসী।

ফলে মানুষের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে রাজধানীর বিভিন্ন স্টেশন ও টার্মিনালগুলোতে। কমলাপুর রেলস্টেশনে যাত্রীচাপ ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে পেছনের সব ঈদযাত্রার মতো ভোগান্তি নেই এবার।

নির্ধারিত সময়েই ট্রেন ছেড়ে গন্তব্যে যাচ্ছে। ফলে ঈদে ট্রেনে ভ্রমণে কোনো দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে না। ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয়ও হচ্ছে না। ট্রেনে ভিড় থাকলেও এবারের ঈদযাত্রা স্বস্তির বলে জানিয়েছেন যাত্রীরা।

শনিবার (২৯ মার্চ) কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, স্টেশনে উপচে পড়া ভিড় থাকলেও যাত্রীদের তেমন ভোগান্তি নেই। কারণ টিকিট ছাড়া স্টেশনে যাত্রীরা ঢুকতে পারছেন না। যাত্রীদের নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। যাত্রীদের জন্য স্টেশনে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এছাড়া স্টেশনের প্রতিটি প্ল্যাটফর্মের লাইনে রাখা আছে ট্রেনের রেক। কোনো কোনো প্ল্যাটফর্মে অতিরিক্ত রেকও রাখা আছে। প্রতিটি ট্রেন নির্ধারিত সময়ে ঢাকা রেলওয়ে স্টেশন ছাড়ছে। ট্রেন ছাড়ার পর যেসব প্ল্যাটফর্ম খালি হচ্ছে, সেসব প্লাটফর্মে পরবর্তী ট্রেনগুলোর রেক এনে রাখা হচ্ছে বা কোনো ফিরতি ট্রেনের জন্য খালি রাখা হচ্ছে। এভাবেই সময়মতো সব ট্রেন ছেড়ে যাচ্ছে।

জানা গেছে, শনিবার ভোর ৪ টা ৪৫ মিনিট থেকে সকাল ১১টা পর্যন্ত ২৩টি ট্রেন পূর্ব নির্ধারিত ট্রেনগুলো যথাসময়ে ছেড়ে যায়। এরমধ্যে রয়েছে বলাকা, তুরাগ এক্সপ্রেস, জয়দেবপুর কমিউনিটার, দেওয়ানগঞ্জ, ধূমকেতু, পর্যটক এক্সপ্রেস, পারাবত, নীলসাগর, সোনার বাংলা, সৈয়দপুর, তিশা, মহানগর প্রভাতী, সুন্দরবন, মহুয়া, বুড়িমারী, কর্ণফুলী, রংপুর, কিশোরগঞ্জ, জামালপুর এক্সপ্রেস, একতা, রূপসী বাংলা এক্সপ্রেসসহ মোট ২৩টি ট্রেন।

যাত্রীরা জানিয়েছেন, ঈদযাত্রায় এমন দৃশ্য দেখে অনেকটাই বিস্মিত তারা। ভোগান্তি ছাড়া এমন ঈদযাত্রা কমই পেয়েছেন। স্টেশনের ব্যবস্থাপনায় খুশি তারাও।

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার যাওয়ার জন্য কমলাপুর রেল স্টেশনে এসেছেন মো. রায়হান। তিনি বাংলানিউজকে বলেন, দুই বছর পর সৌদি আরব থেকে ছুটিতে দেশে এসেছি দুই দিন হলো। আজ পরিবার নিয়ে গ্রামের বাড়ি যাচ্ছি। এ বছরের মতো এমন সুন্দর পরিবেশ এর আগে কখনো দেখিনি। বাসা থেকে বের হয়ে রেল স্টেশন পর্যন্ত আসতে কোনো ধরনের সমস্যা বা ভোগান্তিতে পড়তে হয়নি। রাস্তায় কোনো যানজট ছিল না। রেল স্টেশনের চেকিং সিস্টেম ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভালো লাগছে। এক রকম স্বস্তি নিয়ে বাড়ি যাচ্ছি।

জামালপুর এক্সপ্রেসের যাত্রী মো. আব্দুল কাদের ময়মনসিংহ যাবেন। তিনি বাংলানিউজকে বলেন, ট্রেনের টিকিট অনলাইনে কেটেছিলাম। ভেবেছিলাম শিডিউল বিপর্যয় হয় কি না। এখন স্টেশনে এসে দেখি ট্রেন আগেই দুই নম্বর প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে আছে। এখন পর্যন্ত স্টেশনে তেমন কোনো অব্যবস্থাপনা লক্ষ্য করা যায়নি। সব কিছু দেখে ভালো লাগছে। এর মূল কারণ হলো ঈদে দীর্ঘ ছুটি হওয়াতে মানুষ ধীরে ধীরে গ্রামে যাচ্ছে। ফলে হঠাৎ করে যাত্রীদের চাপ পড়েনি। কর্তৃপক্ষও সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করছে।

কুমিল্লা যাওয়ার জন্য কমলাপুর ট্রেন স্টেশনে এসেছেন মো. মাইনুল ইসলাম। তিনি বাংলানিউজকে বলেন, আমি ফ্রিল্যান্সিং করি, অনলাইনে টিকিট কেটেছি। কুমিল্লা যাব। একটু পরেই ট্রেন ছেড়ে দেবে। এ বছর ব্যবস্থাপনা খুবই ভালো। তিন স্থানে টিকিট চেক করা হচ্ছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থাও ভালো। দেখলাম যারা টিকিট জাল করে নিয়ে আসছে তারা গেটে ধরা পড়ছে। ট্রেনে ভিড় থাকলেও অন্যান্য বছরের তুলনায় স্বস্তিদায়ক।

একতা ট্রেনের যাত্রী জিল্লুল রহমান বাংলানিউজকে বলেন, আগের মতো ঈদযাত্রায় ভোগান্তি নেই। বিগত বছরগুলোতে ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয়ে যে দুর্ভোগ হতো, সেটা নেই। শিডিউল বিপর্যয় না থাকায় প্লাটফর্মে যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড়ও নেই। বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবার স্বস্তিতে বাড়ি ফিরছেন বলেও জানান তিনি।

সকালে কমলাপুর স্টেশন ম্যানেজার শাহাদাত হোসেন বলেন, যাত্রীসাধারণের নিরাপত্তা এবং স্বাচ্ছন্দ্যে ভ্রমণ উপহার দিতে বাংলাদেশ রেলওয়ে বদ্ধপরিকর। কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে সবচেয়ে বেশি ঘরমুখো মানুষ ট্রেনযোগে ঈদযাত্রা করেন। এ কারণেই বাড়তি নজর রয়েছে কমলাপুরে। এছাড়া তিন স্তরের টিকেট চেকার বসানো এবং বিনা টিকেটে কাউকে স্টেশনে প্রবেশের অনুমতি রেল কর্তৃপক্ষ দিচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, ঈদযাত্রায় আন্তঃনগর, মেইল, কমিউটার মিলে প্রতিদিন ৭০ হাজারের বেশি যাত্রী পরিবহন করছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। সকাল থেকে সব ট্রেন সঠিক সময়ে গন্তব্যের উদ্দেশে ছেড়ে গেছে। তবে আজকে একটি ট্রেন ধূমকেতু ৩০ মিনিট দেরিতে ছেড়েছে। বাকি সব ট্রেন নির্দিষ্ট সময়ে ছেড়ে গেছে। ঈদযাত্রায় প্রতিদিন ৭১টি ট্রেন চলাচল করছে। কমলাপুর স্টেশনে টিকিট ছাড়া কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। যাত্রী নিরাপত্তায় আমরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছি।

ফিরতি টিকেট বিষয়ে কমলাপুর স্টেশন ম্যানেজার বলেন, বাংলাদেশ রেলওয়ে প্রতিদিন ঢাকামুখী ৩০ হাজার ৪৯১টি টিকেট বিক্রি করছে। তবে নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি বিলম্বে কমলাপুর আসায় ১ ঘণ্টা ১৫ মিনিট দেরিতে ছেড়েছে।

তিনি বলেন, সাধারণত ঈদে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে সবচেয়ে বেশি ঘরমুখো মানুষ ট্রেনে ঈদযাত্রা করেন। এ কারণেই বাড়তি নজর রয়েছে কমলাপুরে। গত কয়েকদিনের মধ্যে গতকাল সবচেয়ে বেশি ভিড় ছিল। কারণ গার্মেন্টসগুলো ছুটি হয়েছে। আজকে একটু চাপ থাকবে। আগামীকাল থেকে যাত্রীদের চাপ কমতে থাকবে। এ পর্যন্ত আমরা কয়েকজনকে পেয়েছি যারা জাল টিকিট নিয়ে আসছেন। তাদের আটক করা হয়েছে। এজন্য আমরা যাত্রীদের অনুরোধ করছি ট্রেনের সরকারি অ্যাপ ছাড়া অন্য কোনো স্থান থেকে অনলাইনে টিকিট নেবেন না। একই সঙ্গে সকলকে সচেতন হবে হবে যাত্রা পথে জানালার কাচে মোবাইলে কথা না বলা, কারো দেয়া কিছু না খাওয়া।

ছবি: ডিএইচ বাদল

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানায়, ঈদযাত্রায় (শুক্রবার) যাত্রীদের ভিড় বেশি ছিল। স্টেশনের শুরু থেকে ট্রেনের গন্তব্য পর্যন্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। টিকেট যাচাইয়ের জন্য ভেরিফিকেশন করা হচ্ছে। ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে ১২০টি আন্তঃনগর ট্রেনের পাশাপাশি ৫ জোড়া বিশেষ ট্রেন চালানো হচ্ছে। এ ছাড়া লোকাল, কমিউটার ও মেইল ট্রেন স্বাভাবিকভাবে চলছে। পাশাপাশি ট্রেনের সময়সূচি ঠিক রাখতে এবং যাত্রীদের সুবিধার্থে ঢাকাগামী ৯টি ট্রেনের বিমানবন্দর স্টেশনের যাত্রাবিরতি বাতিল করা হয়েছে। ঢাকামুখী ট্রেনে অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ সামলাতে জয়দেবপুর স্টেশন থেকে ঢাকামুখী এবং ঢাকা স্টেশন থেকে জয়দেবপুরমুখী ট্রেনে টিকেট ইস্যু বন্ধ রাখা হয়েছে।

অন্যদিকে, ঈদযাত্রা নিরাপদ, স্বাচ্ছন্দ্যময় ও উৎসবমুখর করতে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে নেওয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা। টিকিট কাউন্টার, প্ল্যাটফর্মসহ সব জায়গায় র‌্যাব, পুলিশ, আনসার সদস্যের পাশাপাশি রেলওয়ের নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি চোখে পড়েছে।

কমলাপুর স্টেশনে তিন স্তরের নিরাপত্তা দিচ্ছে রেলওয়ে পুলিশ। রেলওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, সার্বক্ষণিক সিসিটিভি মনিটরিং করা হচ্ছে। একই সেবা ঢাকা বিমানবন্দর ও জয়দেবপুর রেলস্টেশনেও দেওয়া হচ্ছে।

উল্লেখ্য, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আগাম টিকিটে ঈদযাত্রা শুরু হয়েছে গত ২৪ মার্চ। গতকাল বৃহস্পতিবার ছিল ট্রেনে ঈদযাত্রার ষষ্ঠ দিন। গত কয়েকদিনের তুলনায় গতকাল যাত্রী বেড়েছে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে। এবারের ঈদযাত্রায় ট্রেনের সূচি বজায় রাখা ও শিডিউল বিপর্যয় নিরসনে ঢাকাগামী ৯টি ট্রেনের বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রাবিরতি বাতিল করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর