thereport24.com
ঢাকা, শনিবার, ২৫ মে 24, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১,  ১৭ জিলকদ  1445

হরতাল-অবরোধে বন্ধ কুরিয়ারের পার্সেল সার্ভিস

২০১৩ ডিসেম্বর ০২ ১৯:২৭:০৫
হরতাল-অবরোধে বন্ধ কুরিয়ারের পার্সেল সার্ভিস

দ্য রিপোর্ট প্রতিবেদক : ধারাবাহিক অবরোধ ও হরতালের কারণে বন্ধ রয়েছে দেশের বিভিন্ন কুরিয়ারের পার্সেল সার্ভিস। এর ফলে প্রয়োজনীয় নথি ও জিনিসপত্র আদান প্রদান করা সম্ভব হচ্ছে না।

এদিকে নভেম্বরের শেষ সপ্তাহের পুরোটা অবরোধ থাকায় লাখ লাখ পার্সেল আটকে রয়েছে কুরিয়ার সার্ভিসগুলোর বিভিন্ন শাখায়। আর আটকে থাকা এসব পার্সেলের নিরাপত্তা ও সংরক্ষণের ব্যাপারে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে তাদের।

গুরুত্বপূর্ণ চিঠি, নথিপত্র ও মালামাল প্রেরণ ও পরিবহনের ক্ষেত্রে সরকারি ডাক বিভাগের চাইতে বেসরকারি কুরিয়ার সার্ভিস অল্প সময়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে আমাদের দেশে। কম সময়ের মধ্যে যে কোন মালামাল এদেশের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে প্রেরণের জন্য কুরিয়ারের উপর সাধারণ মানুষের নির্ভরতা বেড়েছে অনেক বেশি। কিন্তু চলমান রাজনৈতিক সংকটে হরতাল-অবরোধের কারণে স্থবির হয়ে আছে বেসরকারি এই সেবা ব্যবস্থাটি।

গোপালগঞ্জ সাহারা খাতুন মেডিকেল কলেজের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী ববি সাহার ওয়ার্ড এক্সাম ডিসেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহে। এই মুহুর্তে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বই ববির না হলেই নয়। স্থানীয় পর্যায়ে বইগুলো সহজলভ্য না হওয়ায় ঢাকা থেকেই তাকে বইগুলো সংগ্রহ করতে হয়। গত ২৯ নভেম্বর রাজধানীর নীলক্ষেত থেকে ববির প্রয়োজনীয় বইগুলো কিনে সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসে বুকিং দেয় ভাই শিমুল সাহা। কিন্তু তিন দিনেও বই পৌঁছায়নি ববির কাছে। এ ব্যাপারে গোপালগঞ্জে সুন্দরবন কুরিয়ারের শাখায় যোগাযোগ করা হলে বইগুলো পৌঁছেনি বলে জানায়।

অন্যদিকে নীলক্ষেত শাখা থেকেও জানানো হয় বুকিংয়ের এক ঘণ্টার মধ্যেই বইগুলো সুন্দরবন কুরিয়ারের প্রধান শাখায় পাঠানো হয়।

মতিঝিলের দিলকুশার সুন্দরবন কুরিয়ারের প্রধান শাখায় যোগাযোগ করে জানা যায়, গত এক সপ্তাহে বুকিং হওয়া কয়েক লাখ পার্সেল হেড অফিস ও বেশ কয়েকটি শাখা অফিসে আটকে রয়েছে। ধারাবাহিক অবরোধের কারণে কুরিয়ারের পার্সেল পরিবহনের গাড়িগুলো রাজধানী থেকে ছাড়ছে না। আবার বিভিন্ন স্থান থেকেও ঢাকায় পৌঁছাচ্ছে না।

এ ব্যাপারে সুন্দরবন কুরিয়ারের পার্সেল বুকিং বিভাগের কর্মকর্তা আজিজুর রহমান দ্য রিপোর্টকে বলেন, ‘গত এক সপ্তাহে ঢাকা থেকে কোনো কুরিয়ার সার্ভিসের পার্সেল পরিবহন করা সম্ভব হয়নি। শুক্রবার ঢাকার নিকটের কয়েকটি জেলায় পার্সেল পাঠানো হলেও দূরের জেলাগুলোতে কোন গাড়ি যায়নি। বেশ কিছু জেলা রয়েছে যেখানে কুরিয়ারের গাড়ি পৌছাতে সময় লাগে এক থেকে দেড় দিন। কিন্তু বৃহস্পতিবার অবরোধ শেষ হলে কুরিয়ারের গাড়ি ছাড়তে ছাড়তে বেজে যায় রাত ৮টা। আর এসব গাড়ি উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিনবঙ্গে পৌছায় শুক্রবার রাত ৯টা বা ১০টার দিকে। আবার শুক্রবারেই শনিবার থেকে নতুন অবরোধের ঘোষণা আসে। ঘোষণা আসা মাত্রই রাস্তায় যত গাড়ি থাকে তা হামলার শিকার হয়।’

আজিজুর রহমান বলেন, ‘ডাক বিভাগের পার্সেল সার্ভিসের গাড়িগুলোকে পুলিশ পাহারায় পাঠানো সম্ভব হয়। কিন্তু আমাদের মতো বেসরকারি কুরিয়ার সার্ভিসের গাড়ি ঝুঁকি নিয়েই ছাড়তে হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ নথি ও মালামাল থাকায় সেগুলোর ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কায় কর্তৃপক্ষের নির্দেশেই পার্সেল সার্ভিস বন্ধ রাখা হচ্ছে।’

এদিকে সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের মতো এস.এ পরিবহনের পার্সেল সার্ভিসও বন্ধ রয়েছে গত সপ্তাহ ধরে। পার্সেল সার্ভিস বন্ধ থাকায় বেশ আর্থিক ক্ষতির সম্মুখিন হতে হচ্ছে বেসরকারি এই কুরিয়ার সার্ভিসটির।

এ ব্যাপারে কথা বলা হলে এস.এ পরিবহনের পার্সেল বিভাগের বুকিং ম্যান হিরক অধিকারী দ্য রিপোর্টকে বলেন, ‘অবরোধের কারণে পার্সেল বুকিংয়ের পরিমাণ অনেক কমে গেছে। একই সঙ্গে গত এক সপ্তাহে বুকিং দেয়া কয়েক লাখ পার্সেল ও মালামাল পড়ে রয়েছে আমাদের গোডাউনে। অবরোধ শেষ না হওয়া পর্যন্ত এসব মালামাল ও পার্সেল পাঠানো সম্ভব নয়।’

হিরক অধিকারী জানান, বুকিং হওয়া মালামালের মধ্যে বই, আসবাবপত্র, মোটর সাইকেল, ফ্রিজের মতো ভারী জিনিসপত্র রয়েছে। সময় মত এসব মালামাল প্রেরণ করতে না পারায় তা এস.এ পরিবহনের নিজস্ব গোডাউনে সংরক্ষণ করা হয়েছে। বর্তমানে গোডাউনে স্থান সংকুলান না হওয়ায় অনেক মালামাল উন্মুক্ত স্থানে ফেলে রাখতে বাধ্য হচ্ছে এস.এ পরিবহন কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে বুকিং করা মালামালের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কাও রয়েছে বেসরকারি এই কুরিয়ার সার্ভিসটির।

এব্যাপারে কথা বলা হলে এস.এ পরিবহনের ম্যানেজার (প্রশাসন) ফারুক হোসেন দ্য রিপোর্টকে বলেন, ‘শুধু মাত্র এস.এ পরিবহনের কাকরাইলের প্রধান শাখায় না, সারা দেশের বিভিন্ন শাখায় পার্সেল আটকে রয়েছে। অবরোধের কারণে এসব পার্সেল পরিবহণ ও হস্তান্তর সম্ভব নয়।’

তিনি বলেন, ‘কুরিয়ার সার্ভিস পরিবহন বন্ধ থাকায় গত এক সপ্তাহে কয়েক লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে আমাদের। আর গোডাউনে স্থান সংকুলান না হওয়ায় নতুন করে ভারী মালামালের বুকিংও নেয়া হচ্ছে না। এতেও ক্ষতি হচ্ছে আমাদের।’

(দ্য রিপোর্ট/এইচআর/এমসি/ডিসেম্বর ০২, ২০১৩)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

বিশেষ সংবাদ এর সর্বশেষ খবর

বিশেষ সংবাদ - এর সব খবর