দ্য রিপোর্ট ডেস্ক : বাংলাদেশের সম্প্রতি পরিস্থিতি নিয়ে ভারতের ইংরেজি দৈনিক টাইমস অব ইন্ডিয়ায় বার্তা সংস্থা এএফপির বরাত দিয়ে শনিবার একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

‘লড়াইরত দুই বেগম’ খাদের কিনারে নিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশকে- শিরোনামের ওই প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, দুই দশক আগে স্বৈরশাসক এরশাদকে টেনে-হিঁচড়ে ক্ষমতা থেকে নামিয়ে গণতন্ত্রের নতুন দিগন্তের সূচনা করেছিলেন এই দু্ই ‘লড়াইরত বেগম’।

তবে এখন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়ার সাপে-নেউলে সম্পর্ক দেশকে আরও একবার খাদের কিনারায় ঠেলে দিচ্ছে বলে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, রবিবার অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও এর সমর্থক ছাড়া অন্য কোনো দল অংশ না নেওয়ায় শেখ হাসিনার জয় নিশ্চিত হয়ে আছে। তবে জনগণ যখন ভোট দেওয়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে তখন বিএনপি ও বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া কার্যত গৃহবন্দি রয়েছেন। প্রধান বিরোধী দল বিএনপি কারচুপি হওয়ার আশঙ্কায় নির্বাচন বর্জন করায় তাদের নেতাকে গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে।

গত সপ্তাহ পর্যন্তও আশা করা হচ্ছিল যে, এই দুই নারী তাদের মতপার্থক্যকে একপাশে সরিয়ে একমত হতে পারবেন। তবে মধ্যস্থতাকারীদের শত প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ করে এই দুই নারী একমত হতে পারেননি। ২০১৩ সাল বাংলাদেশের সংক্ষিপ্ত ইতিহাসে একটি রক্তক্ষয়ী বছর গেছে। এই পরিস্থিতি আরও খারাপ আকার ধারণ করবে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

ঢাকাভিত্তিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক আতাউর রহমান রবিবারের নির্বাচনকে দুই নারীর আরও রক্তক্ষয়ী লড়াই-এর পূর্ব প্রস্তুতি হিসেবে অভিহিত করেছেন।

গত অক্টোবরে নির্বাচনের ঘোষণা দেওয়ার পর খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আসছিলেন।

তবে হাসিনা তার দাবি নাকচ করে দিয়ে বিএনপির বিরুদ্ধে দেশকে সহিংসতার দিকে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ আনেন।

গত বছরের অক্টোবরে শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়া ১৫ বছরের মধ্যে প্রথম টেলিফোনে কথা বলেন। এই ফোনালাপে তাদের সম্পর্কের তিক্ততা নতুন করে উন্মুক্ত হয়।

২০০৭ সালের জানুয়ারিতে নির্বাচনের রূপরেখার ব্যাপারে একমত হতে ব্যর্থ হন এই দুইনেত্রী। এরপর থেকেই তাদের পারস্পরিক অপছন্দের বিষয়টি আরও তীব্র আকার ধারণ করে। সে সময় এই দুই নেত্রীই দুর্নীতির অভিযোগে কারাগারে ছিলেন। পরে ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে শেখ হাসিনা বিজয়ী হন।

এখন এই দুই নেত্রীর মুখ দেখাদেখি বন্ধ হলেও রাজনৈতিক জীবনের শুরুতে তারা একত্রে কাজ করেছেন। ১৯৯০ সালে একসঙ্গে কাজ করেই তারা স্বৈরশাসনের পতন ঘটান। পরে ওই বছরেই নির্বাচনে খালেদা জিয়া জয়ী হওয়ার পর তারা ব্যক্তিগত শত্রুতে পরিণত হন।

১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে অবশ্য খালেদা জিয়াও পুনর্নির্বাচিত হয়েছিলেন। কিন্তু মাত্র ৪৩ দিন ক্ষমতায় থাকার পর পদত্যাগ করতে বাধ্য হন তিনি। পরে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনে জয়ী হন শেখ হাসিনা। এরপর ২০০১ সালে শেখ হাসিনাকে পরাজিত করে ফের ক্ষমতায় আসেন খালেদা জিয়া।

২০০৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনাকে গ্রেনেড হামলার মাধ্যমে হত্যার চেষ্টা করা হয়। এরপর থেকে এই দুই নেত্রীর সম্পর্ক আরও খারাপ আকার ধারণ করে। এ হামলার জন্য শেখ হাসিনা খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমানকে দায়ী করে আসছেন।

ক্ষমতার দখলের জন্য এই দুই নারীর লড়াই থাকলেও একটি ব্যাপারে তাদের মিল আছে। তারা দুইজনের প্রথম জীবনে রাজনীতি থেকে দূরে ছিলেন। তারা দুজনই ব্যক্তিগত জীবনের ট্র্যাজেডির মাধ্যমে রাজনীতিতে আসেন।

রাজনৈতিক পরিবেশকে দূষিত করার জন্য শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়ার মুসলিম নারীদের জন্য সম্মানসূচক ‘বেগম’ উপাধি থাকলেও সম্মানের চেয়ে তারা নিন্দাই বেশি পেয়েছেন বলে অনেক পর্যবেক্ষক বলেছেন। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া।

(দ্য রিপোর্ট/কেএন/জেএম/সা/জানুয়ারি ০৫, ২০১৪)