দিরিপোর্ট২৪ ডেস্ক : বাংলাদেশে গার্মেন্টস কারখানা বা স্কুল-কলেজে ভূত দেখার গল্প প্রায়ই শোনা যায়। এবার তেমনি এক ঘটনা ঘটল পাকিস্তানের লান্ধির এক গার্মেন্টস কারখানায়। ভূতের ভয়ে অসুস্থ হওয়া গার্মেন্টসটির অনেক কর্মীকে সোমবার সকালে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। খবর ডননিউজের।

গার্মেন্টসটিতে সোমবার ভূতের ভয়ে নারীকর্মীদের চিৎকার ও হৈচৈ অন্যদের মধ্যেও ভয়ের সঞ্চার করে। এর ফলে অনেকেই অসুস্থ হয়ে যায়। অসুস্থদের দ্রুত জিন্নাহ পোস্টগ্রাজুয়েট মেডিক্যাল সেন্টারের (জেপিএমসি) জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, অনেকে খানিকটা সুস্থ হওয়ার পর আবার মূর্ছা যাচ্ছেন।

কারখানার চেকিং বিভাগের সহযোগী সাগুফতা নাজ বলেন, ‘আমি ওয়াশরুমে বিশাল কালো এক ভূত দেখেছি। আমি এত বড় একটা ছায়া দেখেছি যা জীবনে কখনো দেখি নি।’

তিনি আরো বলেন, ‘কিছুদিন ধরেই আমরা ওয়াশরুমে অনেকটা মানুষের মতো করা রহস্যময় শব্দ শুনছিলাম। আমরা এটাকে ব্যাখ্যা করতে পারব না। আজ তাকে আমরা দেখলাম। সে পৃথিবীর কোনো মানুষের মতো নয়।’

অন্য এক নারীকর্মীর জ্ঞান ফেরার পর সে বলে, ‘আমি সুহি।’ কিন্তু তার মা তার নাম শাহিনা বলে স্মরণ করিয়ে দিলে সে বলে, ‘ও আমি শাহিনা।’

জেপিএমসির জরুরি বিভাগের নার্সদের প্রধান দেইশি নাসরিন বলেন, ‘রোগীদের একজন চিৎকার করলে তাকে দেখে সবাই চিৎকার করে ওঠে।’

এ ঘটনার ব্যাপারে অধ্যাপক ডা. আফ্রিদি বলেন, ‘উন্নয়নশীল দেশগুলোর মানুষ-জনের মধ্যে জ্বিন, ভূতে বিশ্বাস একটা সাধারণ বিষয়। সাধারণত কেউ কোনো কারণে ভয় পেলে সেটা সংক্রমিত হয়ে অন্যদের মাঝেও ছড়ায়। তারা কোনো কারণ ছাড়াই ভয় পেয়ে অসুস্থ হয়। এ অবস্থায় তারা প্রায়ই মূর্ছা যায়।’

অসুস্থ কর্মী ও তার পরিবারের লোকজন এ ঘটনার পর ডাক্তারের কাছে যেতে চাইছে না। তারা এক্ষেত্রে মৌলভী বা কবিরাজকে বেশি বিশ্বাস করছে। তাই অনেকেই ডাক্তারের কাছে না গিয়ে কবিরাজের কাছে যাচ্ছেন।

(দিরিপোর্ট২৪/এসকে/এমডি/অক্টোবর ৩০, ২০১৩)