দ্য রিপোর্ট প্রতিবেদক : টেস্ট খেলছে বাংলাদেশ, অথচ মিডিয়া বিরক্ত করছে না প্রেসবক্স স্কোরারকে। শ্রীলংকার বিপক্ষে টেস্টের দ্বিতীয় দিনের চেয়ে মিডিয়ার কৌতূহল বরং বেশি দুবাইয়ে আইসিসির সভার দিকে! প্রেসবক্সে এমন দৃশ্য দেখা যায়নি কখনো। এমন উৎকণ্ঠার কারণ আইসিসির খসড়া সংস্কার প্রস্তাব। ভারতীয় বোর্ড (বিসিসিআই), ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি) ও ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার (সিএ) আজ্ঞাবহ এই কমিটি ডেঞ্জার জোনে রাখছে র‌্যাংকিংয়ের নীচু সারির দলগুলোকে। এমন এক হঠকারী প্রস্তাব যখন আইসিসির আলোচনার টেবিলে; তখন বাংলাদেশের মিডিয়া খেলায় মন দেয় কিভাবে?

জ্যামাইকার শীর্ষস্থানীয় দৈনিক জ্যামাইকান অবজারভারের খবরে বেরিয়ে এসেছে, ‘১৮ মিলিয়ন ডলারের প্রলোভনে ‘বিগ থ্রি’র প্রস্তাবে সমর্থন দিয়েছে জিম্বাবুয়ে। বিসিসিআই’র সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নে এ প্রস্তাবের সমর্থক তারা।’ খবরটি যে সত্য, ভারতের বহুল প্রচারিত দৈনিক আনন্দবাজার জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটের সভাপতি পিটার চিঙ্গোকার উদ্ধৃতিই যথেষ্ট, ‘জানি নোংরা ব্লাকমেইলের শিকার হতে যাচ্ছি, কিন্তু করার কিছুই নেই। আমাদের বোর্ডে আগে দরকার টাকা।’

প্রস্তাবটি পাস হলে বর্তমানে টেস্ট র‌্যাংকিংয়ে ৯ নম্বরে থাকা জিম্বাবুয়ে পড়বে বিপদে, তা জেনেও তারা মৃত্যু পরওয়নায় স্বাক্ষর করেছে! র‌্যাংকিংয়ের ৭ ও ৮ নম্বর দলের বোর্ড নিউজিল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজও দিয়েছে সমর্থন। বিতর্কিত প্রস্তাবের পক্ষে ৬টি ভোট নিশ্চিতের পর প্রয়োজন ছিল বাংলাদেশের ভোট। সেই ভোটের জন্য বিসিসিআই সভাপতি শ্রীনিবাসন স্কাইপিতে বিসিবি সভাপতির সঙ্গে কথা বলেছেন, প্রস্তাবের পক্ষে ভোট না দিলে বাংলাদেশে অনুষ্ঠেয় এশিয়া কাপ ও টোয়েন্টি২০ বিশ্বকাপ খেলবে না ভারত, প্রচ্ছন্ন এই হুমকিও দেয়া হয়েছে বলে কলকাতার ওই দৈনিকে খবর প্রকাশিত হয়েছে। প্রেসবক্সে ঢু মারতে এসে এই খবর শুনে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন বিসিবির মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস। সংস্কার প্রস্তাবটি অনুমোদিত হতে যে সংখ্যাগরিষ্ঠতা দরকার, তা পাবে না প্রস্তাবকরা, এমন ধারণাই পোষণ করেছেন জালাল ইউনুস। তবে আইসিসি’র সভা শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত বলতে পারবেন না বলেও জানিয়েছেন তিনি।

এদিকে পিসিবি প্রেসিডেন্ট জাকা আশরাফ আইসিসির সভায় যোগ দেওয়ার আগে পিসিবি, দক্ষিণ আফ্রিকা, শ্রীলংকা ও বাংলাদেশ এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করতে এক মঞ্চে অবস্থান করছে বলে এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন। প্রস্তাবে যেহেতু সংখ্যাগরিষ্ঠের ভোট থাকছে না, সেহেতু এই প্রস্তাব অনুমোদনের সম্ভাবনা ক্ষীণ-তা ধরেই নেওয়া হয়েছিল। দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট বোর্ড এই প্রস্তাবের খসড়া নতুন করে তৈরির অনুরোধ করায় প্রস্তাবটির অনুমোদন নিয়ে সংশয় দেখা দেয়। পরবর্তী দিন আইসিসির সভা শেষে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকার কথা ছিল। তবে সে পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়নি।

সভায় যোগ দেওয়ার আগে যে উচ্চবাচ্য করেছেন পিসিবি চেয়ারম্যান, শ্রীলংকা ক্রিকেট বোর্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকা; তা কিন্তু আইসিসির সভায় বলতে পারেননি। বাংলাদেশ ছাড়া অর্থের প্রলোভনে সবাই নতজানু হয়েছেন। নিরঙ্কুশ ভোটে জিতে প্রস্তাব অনুমোদিত হয়ে গেছে। আইসিসি সভার আলোচ্যসূচি প্রকাশিত হয়েছে। সভায় যোগ্যতার ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচে অংশগ্রহণ, আর্থিক ভাগ-বাটোয়ারা, তিন জমিদারের ক্রিকেট শাসন প্রবর্তনের পক্ষেই পড়েছে ভোট। নতুন এই আইনে এ বছরের জুন থেকে বিসিসিআই’র প্রতিনিধি আইসিসি’র নতুন চেয়ারম্যান পদে অধিষ্ঠিত হবে, সিএ’র প্রতিনিধি নির্বাহী কমিটি ও ইসিবি’র প্রতিনিধি ফিন্যান্সিয়াল অ্যান্ড কমার্শিয়াল কমিটির প্রধান হবেন- তাও অনুমোদিত হয়ে গেছে। বিসিসিআই, ইসিবি ও ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে নির্বাহী কমিটি এবং ফিন্যান্সিয়াল অ্যান্ড কমার্শিয়াল অ্যাফেয়ার্স কমিটি এই ৫ সদস্য আইসিসি পরিচালনা করবে। আইসিসি’র ইভেন্টসমূহের ভবিষ্যৎ কমার্শিয়াল স্বত্ব টেন্ডারের মাধ্যমে এই কমিটি নির্ধারণ করবে। আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি বাদ পড়ছে না, প্রতি ৪ বছরে আইসিসি তিনটি প্রধান টূর্নামেন্ট পরিচালনা করবে।

এফটিপি না থাকলেও; দ্বি-পাক্ষিক আলোচনার ভিত্তিতে এখন থেকে টেস্ট সিরিজ অনুষ্ঠিত হবে। আর আইসিসির বৈঠকে তিনটি ধারায় সংশোধন আনা হয়েছে। ফলে যতটা কঠিন-কঠোর ভাবা হয়েছিল বিষয়টি তা হয়নি।

এই প্রস্তাব শেষ পর্যন্ত সংশোধিত হয়ে অনুমোদিত হওয়ায় বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়েছে বাংলাদেশ। তবে এই প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করে স্বার্থ রক্ষায় সাধ্যমত চেষ্টা করেছে বিসিবি। বিসিবির ভারপ্রাপ্ত সিইও নিজামুদ্দিন চৌধুরী সুজন সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সে অবস্থানের কথাই জানিয়েছেন- ‘আইসিসি বোর্ডকে আমরা জানিয়ে দিয়েছি যে, এই প্রস্তাবনা সমর্থন করে না বাংলাদেশ, যার কারণে বাংলাদেশের টেস্ট স্ট্যাটাস ও টেস্টে অংশগ্রহণ বাধাগ্রস্থ হবে। বাংলাদেশই একমাত্র পূর্ণ সদস্য, যারা এই প্রস্তাবের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে।’

(দ্য রিপোর্ট/এএস/এসকে/জানুয়ারি ২৯, ২০১৪)