দিরিপোর্ট২৪ : পদ্মাসেতুর নকশা প্রকল্পে নানা অনিয়মের সন্ধান পেয়েছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়। বাস্তবায়ন পরীবিক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এই বিষয়টি উঠে এসেছে। এতে বলা হয়েছে, সংশোধন ছাড়া অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হয়েছে, যা আর্থিক ও পরিকল্পনা শৃঙ্খলা পরিপন্থি। এছাড়া অস্বাভাবিক টাইম-ওভার রান ও কস্ট-ওভার রানের কথা উঠে এসেছে প্রতিবেদনে।

এই বিষয়ে আইএমইডি’র উপ-পরিচালক (সড়ক) প্রকৌশলী মো. মোমিতুর রহমান দিরিপোর্ট২৪কে বলেন, যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের বাস্তবায়নাধীন ডিটেইল ‘ডিজাইন স্টাডি ফর দি কন্সট্রাকশন অফ পদ্মা মাল্টিপারপাস ব্রিজ (২য় সংশোধনী)’ শীর্ষক কারিগরী প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা ও পূর্বমূল্যায়ন প্রতিবেদন প্রণয়ন হচ্ছে। এই উদ্দেশ্যে আইএমইডি’র নেতৃত্বে গঠিত আন্ত:মন্ত্রণালয় কমিটির প্রণীত বাস্তবায়ন অগ্রগতি মূল্যায়ন প্রতিবেদনটি সেতু বিভাগের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দফতরে পাঠানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রকল্পটির সর্বশেষ অনুমোদিক টিপিপি মোতাবেক আন্তর্জাতিক পরামর্শ সেবা খাতে মোট ৫৫৪ জনমাস বাবদ ৭৩৯ কোটি টাকা সংস্থান থাকলেও, এ খাতে ৬০৮ জনমাস বাবদ ৮৩৯ কেটি ৪৯ লাখ ২০ হাজার টাকা বৈদেশিক পরামর্শের আউট অফ পকেট এক্সপেন্সেস বাবদ ৮৮ কোটি ৭০ লাখ টাকা সংস্থানের বিপরীতে ৯৫ কোটি ৫৯ লাখ ২০ হাজার টাকা, স্থানীয় পরামর্শকের আউট অফ পকেট এক্সপেন্সেস বাবদ ১১২ কোটি ৭৮ লাখ ৪০ হাজার টাকার বিপরীতে ১২১ কোটি ২৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা ব্যয় করা হয়েছে। প্রকল্প সংশোধন ব্যতিরেকে অনুমোদিত টিপিপির অঙ্গভিত্তিক সংস্থান হতে অতিরিক্ত এ ব্যয় আর্থিক ও পরিকল্পনা শৃঙ্খলা পরিপন্থি।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, প্রকল্পটির কস্ট-ওভার রান হয়েছে ৩৯.৪৭ শতাংশ এবং টাইম-ওভার রান হয়েছে ৪২ মাস বা ১৭৫ শতাংশ। এ জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের ডিজাইন কাজে অস্বভাবিক টাইম-ওভার রান ও কস্ট-ওভার রানের বিষয়টি লক্ষণীয়।

(দিরিপোর্ট২৪/জেজে/এমসি/এমডি/নভেম্বর ০৪, ২০১৩)