চট্টগ্রাম অফিস : চট্টগ্রামে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (কেজিডিসিএল) বরাবরে সংযোগ ফি ও জামানতের টাকা দেওয়ার তিন বছরেও গ্যাস সংযোগ পায়নি ২৫ হাজার গ্রাহক। এ নিয়ে বর্তমানে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। বিক্ষুব্ধ গ্রাহকরা দফায় দফায় যোগাযোগ এমনকি তদবির করেও সংযোগ না পেয়ে ঠিকাদারদের ওপর চড়াও হচ্ছে।

অবিলম্বে গ্যাস-সংযোগ শুরুর দাবিতে সোমবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছে গ্রাহক ঐক্যজোট ও ঠিকাদার কল্যাণ সমিতি।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, গ্যাস বিক্রয় নীতিমালা অনুযায়ী টাকা জমা দেওয়ার ১৮ কার্যদিবসের মধ্যে গ্রাহক সংযোগ পাবেন। অথচ ২৫ হাজার গ্যাস-সংযোগ প্রত্যাশী গ্রাহক সংযোগ না পেয়ে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। অনেকে বাড়ি বানিয়েও ভাড়া দিতে পারছেন না।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে গ্রাহক ঐক্যজোটের মহাসচিব আলমগীর নূর বলেন, বিভিন্ন এনজিও সংস্থা থেকে ঋণ নিয়ে গ্যাস সংযোগের জন্য টাকা জমা দেওয়া গ্রাহকরা তিন বছরেও গ্যাস সংযোগ না পেলেও ঋণের বোঝা টেনে রীতিমত ক্লান্ত তারা। এ নিয়ে অনেকের সংসার ভাঙার উপক্রম হয়ে পড়েছে।

এদিকে গ্রাহকদের কাছ থেকে জমা নেওয়া ৩০ কোটি টাকা ব্যাংকে জমা রেখে লভ্যাংশ ভোগ করছেন কেজিডিসিএল কৃর্তপক্ষ। সংবাদ সম্মেলনে ২৫ হাজার গ্রাহকের গ্যাস সংযোগ দ্রুত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার দাবি জানান বৃহত্তর চট্টগ্রাম উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটির মহাসচিব মজিবুল হক শুক্কুর।

তিনি আরও বলেন, নির্ধারিত সময়ে সংযোগ না দেওয়ার ব্যর্থতা কেজিডিসিএলের। অথচ এ নিয়ে প্রতিনিয়ত গ্রাহকদের কাছে ঠিকাদারদের নাজেহাল হতে হচ্ছে। অনেক এলাকায় ঠিকাদারেরা শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হয়েছেন।

গ্রাহক ও ঠিকাদারদের দাবি মানা না হলে আরো কর্মসূচি নেওয়া হবে বলে সংবাদ সম্মেলনে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়।

২০১৪ সালের ১৮ আগস্টের গেজেটের আলোকে দেওয়া চিঠিতে বলা হয়, বর্তমানে কেজিডিসিএলের অধীন চাহিদাপত্র, রাস্তা কাটার অনুমতি ও চুক্তিপত্র সম্পাদন করে রাইজার উত্তোলনপূর্বক গ্যাস সংযোগের জন্য প্রায় ২৫ হাজার গ্রাহকের ফাইল অপেক্ষমান রয়েছে।

গ্রাহকরা অভিযোগ করেন, মালামালের স্বল্পতা, মালামাল ক্রয়ে দীর্ঘসূত্রতা ও অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন কারণে সংযোগ প্রক্রিয়া এক প্রকার স্থবির হয়ে রয়েছে। পেট্রোবাংলার অন্যান্য কোম্পানি যেমন তিতাস, জালালাবাদ, বাখরাবাদ ও পশ্চিমাঞ্চলের গ্যাস কোম্পানিগুলোতে এ ধরনের সংযোগের কোনো অপেক্ষমান তালিকা নেই। শুধু সংযোগ প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা সৃষ্টি হয়েছে কেজিডিসিএলে।

সংবাদ সম্মেলনে প্রয়োজনীয় মালামালের ব্যবস্থা করে জরুরি ভিত্তিতে ২৫ হাজার গ্রাহককে সংযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়ে বলা হয়, অপেক্ষমান গ্রাহকদের সংযোগ প্রক্রিয়ায় জটিলতা সৃষ্টি হলে জনসাধারণের মাঝে বিরূপ প্রভাব পড়বে এবং সরকারের ও প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়নের যে ধারাবাহিকতা তা প্রশ্নের সম্মুখীন।

সংবাদ সম্মেলনে বৃহত্তর চট্টগ্রাম উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটির মহাসচিব মজিবুল হক শুক্কুর, কেজিডিসিএল ঠিকাদার কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক একেএম অলিউল্লা হক, অর্থ সম্পাদক আবদুল মজিদ, গ্রাহক ঐক্যজোটের মহাসচিব আলমগীর নুর, কাউন্সিলর ও গ্রাহক ঐক্যজোটের সভাপতি মনোয়ারা বেগম মনি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

(দ্য রিপোর্ট/এমএইচএ/এপি/ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০১৭)