চট্টগ্রাম অফিস : জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেছেন, ‘সময় খুব কম, তাই জাতীয় পার্টির নেতৃত্বে সম্ভাব্য জাতীয় ঐক্যজোটের মাধ্যমে ক্ষমতায় যেতে এখন থেকে প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে।’ 

মঙ্গলবার (২৮ মার্চ) চট্টগ্রামে একদিনের সফরে এসে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে এ কথা বলেন।

এ সময় এরশাদ বলেন, ‘জাতীয় পার্টির শাসনামলে দেশে সন্ত্রাস, জঙ্গীবাদ ছিলো না। দেশের মানুষ শান্তিতে ছিলো। তখন দেশে ছিল উন্নয়ন অগ্রগতির সোনালী সময়।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার সময় সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে মিলকারখানা চালু করে ও গার্মেন্টস শিল্প প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ বেকার মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেশকে স্থিতিশীল করেছিলাম। তাই সে সময় দেশে কোনো প্রকার নাশকতা ও জঙ্গীবাদ ছিলো না। পরবর্তী সরকারের ব্যর্থতায় ধীরে ধীরে দেশে সন্ত্রাস মাথাচাড়া দিতে শুরু করে। তা আজ জঙ্গীবাদে রূপ নিয়েছে।’

এ সময় তিনি দ্রুত কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।

এ সময় তিনি আরও বলেন, ‘দেশকে অর্থনীতিতে এগিয়ে নিতে প্রয়োজন রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা। জনগণের প্রতি ভালবাসা, যা অন্যদের নেই। দেশে আইনের শাসন, জবাবদিহিতা ফিরিয়ে আনতে পারে একমাত্র জাতীয় পার্টি।’

এদিকে পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদের চট্টগ্রামে আগমন উপলক্ষে দুপুরে বিমানবন্দরে দলের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

মহানগর-উত্তর ও দক্ষিণ জেলা জাতীয় পার্টির উদ্যোগে অনানুষ্ঠানিক এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য জিয়াউদ্দীন আহমেদ বাবলু, মহানগর জাতীয় পার্টির সভাপতি মাহজাবীন মোরশেদ এমপি, কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান মোরশেদ মুরাদ ইব্রাহীম, সাবেক এমপি ও কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান সাবেক এমপি নজরুল ইসলাম, দক্ষিণ জেলা সভাপতি সাবেক মেয়র সামশুল আলম মাস্টার, নগর জাপা সিনিয়র সহ-সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা তপন চক্রবর্ত্তী, সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব এয়াকুব হোসেন প্রমুখ।

মহানগর জাপার প্রচার সম্পাদক নাছির উদ্দিন সিদ্দিকী জানান, সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদ একদিনের সফরে মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রামে আসেন। তিনি চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত তার মালিকানাধীন ইউনিয়ন ব্যাংকের বোর্ড সভায় অংশ নেন। বিকেলে নগরীরপেনিনসোলা হোটেলে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। তবে চট্টগ্রামে এরশাদের কোন রাজনৈতিক কর্মসূচি নেই।

(দ্য রিপোর্ট/এমএইচএ/এনআই/মার্চ ২৮, ২০১৭)