চট্টগ্রাম অফিস : বঙ্গোপসাগরের চট্টগ্রামের সন্দ্বীপের গুপ্তছড়া ঘাটে ইঞ্জিন চালিত লালবোট ডুবির ঘটনায় নিখোঁজ যাত্রীদের মধ্যে মঙ্গলবার দিনভর অভিযান চালিয়ে আরও ৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এনিয়ে এ ঘটনায় মোট ১৪ জনের লাশ মিলেছে।

 

মঙ্গলবার (৪ এপ্রিল) সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সন্দ্বীপ মাইটভাঙ্গা ঘাটঘর দুম্বার খাল, সীতাকুণ্ডের বাঁশবাড়িয়া এবং ঘটনাস্থল গুপ্তছড়া এলাকা থেকে ৩ কি.মি. এর মধ্যে এসব মৃতদেহ পাওয়া গেছে বলে স্থানীয় সূত্র জানায়।

 

রতে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক সামসুল আরেফিন ৯টি মরদেহ উদ্ধারের খবর নিশ্চিত করে বলেন, মঙ্গলবার দিনভর উদ্ধারকারী বিভিন্ন সংস্থা স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় ৯টি মরদেহ উদ্ধার করেছে। এসব মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

উদ্ধারকৃতরা হলেন- সন্দ্বীপের মুসাপুর গ্রামের হাফেজ উল্লাহ (৫৫), কাছিয়াপাড়া গ্রামের মাইনুদ্দিন (৩৫), টেকনাফের বাসিন্দা শামসুল আলম (৩১), বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী তানভীর মো. জোবায়ের (৩০), রহমতপুর খোদা বক্সের বাড়ির শিক্ষক ইউসুফ আলম (৩০), মুছাপুর শান্তির হাট এলাকার মাকসুদুর রহমান (২২), কামরুজ্জামান (৩৫), উসমান মাস্টার (৩৫) ও নিজাম উদ্দিন (৪০)।

এর মধ্যে ৩টি লাশ উদ্ধার হয়েছে সীতাকুণ্ডের বাঁশবাড়িয়া এলাকা থেকে।

উল্লেখ্য, রবিবার (২ এপ্রিল) সন্ধ্যার দিকে সন্দ্বীপ গুপ্তছড়া ঘাটের কাছে লালবোট নামে ছোট ইঞ্জিন চালিত বোট ডুবে যায়। বোটটিতে ঠিক কতজন যাত্রী ছিল তা কেউ সুনির্দিষ্ট করে বলতে পারেননি।

তবে কোস্টগার্ড এবং স্থানীয়রা জানান, বোটটিতে ৫০ থেকে ৬০ জন যাত্রী ছিল। তার মধ্যে ৩২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানান স্থানীয় প্রশাসন।

জেলা প্রশাসক সামশুল আরেফিন জানান, এখনো ৭ থেকে ৮ জন নিখোঁজ রয়েছে বলে স্বজনদের দাবি।

জানা গেছে, কুমিরা ঘাটঘর থেকে জাহাজে করে যাত্রীরা সন্দ্বীপ যাওয়ার পর জাহাজ থেকে লালবোটে করে গুপ্তছড়া ঘাটে যাওয়ার সময় সাগরে বিরূপ আবহাওয়ার কারণে ছোট ইঞ্জিন চালিত এ লালবোটটি ডুবে যায়।

(দ্য রিপোর্ট/এমএইচএ/এনআই/এপ্রিল ০৪, ২০১৭)