যশোর অফিস : সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা ‘সহজবোধ্য’ করতে উচ্চ আদালতের দেওয়া ‘স্পষ্ট অক্ষরে’ ব্যবস্থাপত্র লেখার নির্দেশনা মানছেন না যশোরের অধিকাংশ চিকিৎসক। ফলে অনেক ক্ষেত্রে ফার্মেসি থেকে ওষুধ ক্রয় করতে গিয়ে হয়রানির শিকার হচ্ছেন রোগী ও স্বজনরা।  

চলতি বছরের প্রথম দিকে দেশের সব চিকিৎসককে রোগীর ব্যবস্থাপত্রে ইংরেজি বড় হরফে লেখার নির্দেশনা দেন উচ্চ আদালত। এরপর মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি দিয়ে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনাটি বাস্তবায়নের তাগিদ দেওয়া হয়। কিন্তু যশোরে তা একেবারেই বাস্তবায়ন হয়নি।

বুধবার (১৯ এপ্রিল) যশোর জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে জোবায়ের হোসেন নামে এক যুবকের সঙ্গে কথা হয়। তিনি দাঁতের যন্ত্রণার চিকিৎসা নিতে আসেন। কিন্তু চিকিৎসকের দেওয়া অস্পষ্ট ব্যবস্থাপত্র নিয়ে ফার্মেসি থেকে ওষুধ সংগ্রহ করতে পারছেন না। এজন্য তিনি ফের ডাক্তারের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু তাকে আর রুমের মধ্যে ঢুকতে দেওয়া হয়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের একাধিক চিকিৎসকরা বলেন, ‘আউট ডোরে প্রতিদিন একজন চিকিৎসক ৭০ থেকে ৮০ জন রোগীকে সেবা দেন। কোন কোন দিন ১০০ রোগীর ব্যবস্থাপত্র লিখতে হয়। এতো বিপুল সংখ্যক রোগীর ব্যবস্থাপত্র উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ইংরেজি বড় হরফে লেখা সম্ভব নয়। সেটা করতে গেলে নির্ধারিত সময়ে সর্বোচ্চ ৩৫ জন রোগীর ব্যবস্থাপত্র লেখা সম্ভব। কিন্তু হাসপাতালে রোগী প্রচুর চাপ থাকে। এজন্য অনেক সময় ইচ্ছা থাকার পরও নির্দেশনা পুরোপুরি মেনে ব্যবস্থাপত্র লেখা সম্ভব হচ্ছে না।’

তারা আরও বলেন, ‘যদিও নির্দেশনা বাস্তবসম্মত নয়। তারপরও আমরা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছি।’

এ ব্যাপারে যশোর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক কামরুল ইসলাম বেনু দ্য রিপোর্ট টুয়েন্টিফোর ডটকমকে জানিয়েছেন, আমার দায়িত্ব নেওয়ার আগে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। ঐ সময়ে যিনি দায়িত্বে ছিলেন তিনি সব চিকিৎসককে নির্দিশনার কথা জানিয়েছিলেন। সেই অনুযায়ী চিকিৎসকরা ব্যবস্থাপত্রে লিখার চেষ্টা করছে। তবে দ্রুত উচ্চ আদালতের নির্দেশনা শতভাগ বাস্তবায়ন হবে বলে আশা করছি।

(দ্য রিপোর্ট/কেএনইউ/এপি/এপ্রিল ১৯, ২০১৭)