দ্য রিপোর্ট প্রতিবেদক : দিনভর বৃষ্টি। থমকে যাওয়া মানুষের নিত্য জীবন। জলমগ্ন পথ-ঘাট-মাঠ। শুক্রবার এই চিত্র রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে। বৃষ্টির এই ধারা অব্যাহত থাকবে শনিবারও (২১ অক্টোবর)। আবহাওয়া অফিস থেকে জানা গেছে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের কারণে শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি হতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, স্থল নিম্নচাপে রূপ নিয়ে নিম্নচাপটি শুক্রবার সকালে ভারতের ওডিশা রাজ্য ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় অবস্থান করছিল। এটি উত্তর উত্তপূর্ব দিকে এগিয়ে এসে দুর্বল হয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে উপকূলীয় এলাকায় জলোচ্ছ্বাস হতে পারে। এ জন্য চট্টগ্রাম, মোংলা, পায়রা ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর ও নৌবন্দরগুলোকে ২ নম্বর সতর্কতা সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌযানগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

ভারী বৃষ্টির কারণ সম্পর্কে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, নিম্নচাপের প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্যের অধিক্য বিরাজ করছে এবং গভীর সঞ্চলনশীল মেঘমালা তৈরি অব্যাহত রয়েছে। এ কারণে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। সকাল ৯টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টায় রাজধানী ঢাকায় ১৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।

নিম্নচাপের প্রভাবে জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা রয়েছে উল্লেখ করে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, ভোলা, বরিশাল, পটুয়াখালী, বরগুনা, পিরোজপুর, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট এবং এসব এলাকার চর ও দ্বীপগুলোর নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ১ থেকে ২ ফুট বেশি উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে ডুবে যেতে পারে।

দক্ষিণাঞ্চল ছাড়াও পাবনা, যশোর, কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, কুমিল্লার ওপর দক্ষিণপূর্ব অথবা পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। দেশের অন্যান্য অঞ্চলে ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে বজ্রবৃষ্টির অশঙ্কা রয়েছে।

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে ফেরি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থার (বিআইডব্লিউটিসি) চেয়ারম্যান জ্ঞান রঞ্জন শীল জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার দিবাগত থেকে মাওয়া-শিমুলিয়া ও কাঁঠালবাড়ী নৌপথে ডাম্প ফেরি চলাচল বন্ধ।

বিআইডব্লউটিসি সূত্রে জানা গেছে, মাওয়ায় শিমুলিয়া ও কাঁঠালবাড়ী নৌপথে চলা ১৬টি ফেরির মধ্যে ১০টি বন্ধ রাখা হয়েছে। অন্য ফেরিগুলোও ধীর গতিতে চলছে। শুক্রবার দুপুর থেকে এ নৌপথে লঞ্চ ও স্পিডবোট চলাচল বন্ধ রয়েছে। পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া রুটেও ফেরিগুলো চলছে ধীরগতিতে।

ঢাকার সদরঘাটে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডাব্লিউটিএ) যুগ্ম পরিচালক মো. জয়নাল আবেদীন জানিয়েছেন, ছোট লঞ্চগুলোর চলাচল শুক্রবার সকাল থেকে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। হাতিয়া ও রাঙাবালি নৌপথে চলাচল বন্ধ থাকবে। পরিস্থিতি দেখে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

(দ্য রিপোর্ট/জেডটি/অক্টোবর ২০, ২০১৭)