দ্য রিপোর্ট প্রতিবেদক : প্যারাডাইস পেপারসে বাংলাদেশের যেসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম এসেছে, তাদের তথ্য প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন স্বতন্ত্র সাংসদ রুস্তম আলী ফরাজী। একই সঙ্গে তিনি এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রীর ব্যাখ্যা দাবি করেছেন

 

জাতীয় সংসদ রবিবারের অধিবেশনে অনির্ধারিত আলোচনায় রুস্তম আলী ফরাজী এই দাবি জানিয়েছেন। তবে এ সময় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত সংসদে অনুপস্থিত ছিলেন।

 

তিনি বলেছেন, ‘এর আগে পানামা পেপারসে অনেকের নাম এসেছিল। বিষয়টি তদন্ত করে একটি প্রতিবেদন দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এখনো তা হয়নি। এবার ২১ জনের নাম এসেছে। আবদুল আউয়াল মিন্টু ও তার স্ত্রী সন্তানসহ অনেকের নাম এসেছে। তারা বারমুডায় বিনিয়োগ করেছেন কেন? কারণ, বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে হলে কর দিতে হয়। তাদের উদ্দেশ্য কর ফাকি দেওয়া।’

 

এখন পর্যন্ত প্যারাডাইস পেপারসে এসেছে ১১ ব্যক্তি ও বাংলাদেশ নামযুক্ত ১০টি প্রতিষ্ঠানের নাম। বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানই জ্বালানি খাতের সঙ্গে সম্পর্কিত। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যভুক্ত ছোট্ট একটি অঞ্চল বারমুডা। অঞ্চলটি নামমাত্র করের বিনিময়ে ব্যবসা করার জন্য বা সহজেই কোম্পানি নিবন্ধনের জন্য পরিচিত। এর একটি ল ফার্মের নাম অ্যাপলবি। বারমুডায় যারা কোম্পানি নিবন্ধন করেছে, তাদের সব তথ্য ছিল অ্যাপলবির কাছে।

সম্প্রতি অ্যাপলবির হাতে থাকা ১ কোটি ৩৪ লাখ গোপন নথির তথ্য ফাঁস হয়ে চলে যায় অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের আন্তর্জাতিক সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল কনসোর্টিয়াম অব ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিস্টসের (আইসিআইএজে) কাছে। সংগঠনটির সঙ্গে যুক্ত ৬৮ দেশের ৩৮০ জন অনুসন্ধানী সাংবাদিক বর্তমানে তথ্যগুলো নিবিড় তদন্ত করছেন। প্রতিদিন নতুন তথ্য বের করছেন তারা। তবে কেউ অর্থ পাচারের সঙ্গে যুক্ত—এ কথা এখনো বলা হয়নি।

এদিকে, জাতীয় পার্টি দলীয় এমপি জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবুল ও জাসদের মইনউদ্দিন খান বাদল পৃথক দুটি পয়েন্ট অব অর্ডারে চট্রগ্রামের উন্নয়ন নিয়ে কথা বলেন। চট্রগ্রাম বন্দরের নিয়োগ পরিস্থিতি নিয়ে তথ্য তুলে ধরে মইনউদ্দিন খান বাদল বলেন, সেখানে কে বা কাদের নির্দেশে নিয়োগ বাণিজ্য করা হচ্ছে। এ নিয়ে এখনও আন্দোলন চলছে। বিষয়টির দ্রুত সমাধান করা না গেলে সামান্য ভুলে বড় ধরনের বিস্ফোরন ঘটতে পারে।

(দ্য রিপোর্ট/জেডটি/নভেম্বর ১৯, ২০১৭)