লালমনিরহাট প্রতিনিধি : লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় যৌতুকের টাকা না পেয়ে চার সন্তানে জননী শাহানারা বেগমকে (২৬) মাথা ন্যাড়া করে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে পাষণ্ড স্বামী ও তার দুই বোনের বিরুদ্ধে। বর্তমানে ওই গৃহবধূর হাতীবান্ধা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি রয়েছেন।

এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (২৯ মার্চ) সকালে স্বামীসহ দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ।

এর আগে বুধবার (২৮ মার্চ) বিকেলে উপজেলার সিন্দুর্না ইউনিয়নের উত্তর হলদীবাড়ি এলাকায় এ নেক্কারজনক ঘটনা ঘটে।

রাতেই ওই গৃহবধূ স্বামীসহ চারজনের নামে থানায় অভিযোগ দিলে পুলিশ দুইজনকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসে।

আটককৃতরা হলেন- উপজেলার সিন্দুর্না ইউনিয়নের উত্তর হলদীবাড়ি গ্রামের স্বামী বাবলু মিয়া (৩০) ও ননদ মহুরন নেছা (৩৭)।

জানা গেছে, ১০ বছর আগে উপজেলার টংভাঙ্গা ইউনিয়নের মৃত ঝুল্লুর রহমানে মেয়ে শাহানারা বেগমের বিয়ে হয় সিন্দুর্না ইউনিয়নের উত্তর হলদীবাড়ি এলাকার মৃত মহির উদ্দিনের ছেলে বাবলু মিয়ার সঙ্গে। বিয়ের সময়ে ২ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করলে মেয়ের জামাইকে ১ লাখ টাকা দেন ঝুল্লুর। কিছুদিন আগে ঝুল্লুর রহমানের মৃত্যু হলে বাবলু আরও ১ লাখ টাকা অথবা তার শ্বশুরের বসতভিটা ১০ শতাংশ জমির বিক্রি করে টাকা আনার জন্য তার স্ত্রীকে চাপ দেন। শাহানারা এতে রাজি না হলে তার উপর নেমে আসে অমানুষিক নির্যাতন। এ ঘটনার পর বুধবার বিকেলে আসামি বাবলু মিয়া (৩৫), তার বড় ভাই আব্দুল গফুর (৪০), স্বামী পরিত্যাক্ত দুই বোন মহুরন নেছা (৩৭) ও আমেনা বেগম (৩০) মিলে যৌতুকের টাকা নিয়ে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে লাঠি দিয়ে শাহানারাকে বেধড়ক মারধোর করে। পরে সকলেই মিলে তার হাত-পা বেঁধে তার মাথা ন্যাড়া করেন এবং ঘরের মধ্যে তালাবন্ধ করে রাখেন। পরে তিনি ঘরের বেড়ার কেটে পালিয়ে এসে হাতীবান্ধা হাসপাতালে ভর্তি হন।

হাতীবান্ধা থানার অফিসারস ইনচার্জ (ওসি) উমর ফারুক বলেন, লিখিত অভিযোগ পাবার পরে বাবলু মিয়া ও তার বড় বোন মহুরন নেছাকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। অন্যদেরকেও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

(দ্য রিপোর্ট/এনটি/মার্চ ২৯, ২০১৮)