দ্য রিপোর্ট প্রতিবেদক: এমপিওভুক্তির দাবিতে শিক্ষকদের আমরণ অনশন ও দাবির বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, ‘আন্দোলন-হুমকি দিয়ে লাভ নেই।’

সঠিক পথে নিয়মানুযায়ী এমপিও (মান্থলি পে-অর্ডার) দেওয়া হবে। ইতোমধ্যে কমিটি কার্যক্রম শুরু করেছে। নীতিমালা অনুযায়ী জুলাই থেকেই যোগ্য নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে এমপিও দেওয়া হবে।’ রবিবার (১ জুলাই) জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডে (এনসিটিবি) একাদশ শ্রেণির বই বাজারজাতকরণ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রীর ভাষ্য, ‘আমরা এমপিও সংক্রান্ত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। এককভাবে এ কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। এর সঙ্গে পাঁচটি মন্ত্রণালয়ের সম্পৃক্ততা রয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। নীতিমালা অনুযায়ী যোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে যাচাই-বাছাই চলছে। যোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলোকেই এমপিও দেওয়া হবে। তবে এমপিও সুবিধা পেতে আরও কিছু সময় লাগবে।’

অনুষ্ঠানে একাদশ শ্রেণির ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের বাংলা সাহিত্য, বাংলা সহপাঠ ও ইংলিশ ফর টুডে বই বাজারজাতকরণ উদ্বোধন করা হয়। পরে রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মাঝে বই তুলে দেন শিক্ষামন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে আরও ছিলেন জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের চেয়ারম্যান নারায়ণ চন্দ্র সাহা, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক মাহাবুবুর রহমান, ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান মু. জিয়াউল হক প্রমুখ।

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ লক্ষ্যে দুটি কমিটি গঠন করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ। এগুলো হলো—শর্ত পূরণ করা প্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রস্তুতের জন্য ‘অনলাইন অ্যাপলিকেশন গ্রহণ ও ব্যবস্থাপনা’ কমিটি এবং ‘এমপিওভুক্তির জন্য বাছাই’ কমিটি। প্রথম পর্যায়ে এক হাজার বা তার কিছু বেশি প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করবে সরকার।

এদিকে ২৫ জুন থেকে ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এমপিওভুক্তির দাবিতে আমরণ অনশন করছে নন-এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশন। অনশনকারীরা জানান, বর্তমানে নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে পাঁচ হাজার ২৪২টি। এছাড়া সরকার নতুনভাবে ১৩১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে স্বীকৃতি দিয়েছে। তাদের দাবি, ‘সারা দেশে পাঁচ হাজারের বেশি স্বীকৃতিপ্রাপ্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা ১৫ থেকে ২০ বছর ধরে ২০ লাখের বেশি শিক্ষার্থীদের বিনা বেতনে পাঠদান করে অত্যন্ত কষ্টকর ও মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অনেকের চাকরির মেয়াদ আছে ৫ থেকে ১০ বছর। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা উন্নয়নবঞ্চিত অবস্থায় রয়েছেন।’

এমপিওভুক্তির দাবিতে নন-এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীরা গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর থেকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে লাগাতার কর্মসূচি শুরু করেন। নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশনের ডাকে ওই অবস্থান ও অনশনের একপর্যায়ে এ বছরের ৫ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে তার একান্ত সচিব সাজ্জাদুল হাসান সেখানে গিয়ে দাবি পূরণের আশ্বাস দেন।

(দ্য রিপোর্ট/এমএসআর/জুলাই ০১, ২০১৮)