দ্য রিপোর্ট ডেস্ক : বাংলাদেশে বরগুনা শহরে স্ত্রীর সামনে প্রকাশ্য দিবালোকে স্বামীকে কুপিয়ে হত্যার মামলার প্রধান অভিযুক্তের বিচার-বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড নিয়ে হাইকোর্ট আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্ক হতে বলেছে।

আইনজীবীরা জানিয়েছেন, আদালত বলেছে, বিচার-বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড আদালত সমর্থন করে না। খবর বিবিসির

বরগুনার ঘটনার ব্যাপারে সেখানকার স্থানীয় প্রশাসনের যে প্রতিবেদন আদালতে পেশ করা হয়, তাতে বলা হয়, পুলিশ আত্ম-রক্ষার্থে গুলি চালিয়েছিল।

তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, কথিত বন্দুকযুদ্ধের নামে বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনাগুলোর কখনও তদন্ত হয় কিনা, তা জানা যায় না।

হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী বরগুনার পুলিশ প্রশাসন রিফাত শরিফকে কুপিয়ে হত্যার মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে প্রতিবেদন পেশ করে।

সেই প্রতিবেদনে মামলার প্রধান অভিযুক্ত সাব্বির আহমেদ নয়ন ওরফে নয়ন বন্ড কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ার ঘটনা তুলে ধরে তার পক্ষে যুক্তি দেয়া হয়।

ডেপুটি এটর্নি জেনারেল আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার বিবিসিকে বলেছেন, "আদালত বলেছেন, বিচার-বহির্ভূত যে হত্যাকাণ্ডগুলো হয়, সেগুলো উনারা পছন্দ করেন না, সমর্থন করেন না। আইনে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আত্মরক্ষায় গুলি করার যে সুযোগ দেয়া আছে, তার যেন অপপ্রয়োগ না হয় সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে বলেছে।"

"এই আত্মরক্ষার বিষয় সামনে রেখে যাতে কেউ অযাচিত বা উদ্দেশ্যমূলকভাবে এই বিচার-বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড না ঘটানো না হয় সেব্যাপারে সতর্ক থাকতে বলেছে আদালত," বলেন তিনি।


মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ছয় মাসে দেশের বিভিন্ন জায়গায় আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর সাথে কথিত বন্দুকযুদ্ধে কমপক্ষে ২০৪ জন নিহত হয়েছে এবং প্রতিটি ঘটনার ক্ষেত্রেই বাহিনীগুলো আত্মরক্ষায় গুলি চালানোর একই কথা বলে আসছে।

সম্প্রতি কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন, এমন দু'জনের পরিবারের সদস্যদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিবিসিকে বলেছেন, তাদের স্বজনদের মৃতদেহের ময়নাতদন্ত করা হয়েছিল। কিন্তু তাদের কোন মামলা করতে দেয়া হয়নি।

বিচার-বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডগুলোর কোন তদন্ত হয় কিনা সেই প্রশ্ন করে আসছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক শিপা হাফিজা বলেন, বিভিন্ন সময় কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করেও তারা কোন জবাব পাননি।

"আমরা জানি না, বিচার-বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের কোন তদন্ত হয় কিনা। আমাদের একটা বড় দাবি, এগুলোর তদন্ত করা। আমরা বিভিন্ন ঘটনার ব্যাপারে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে জানতে চেয়েছি, কিন্তু জানতে পারি নি। আমার মনে হয়েছে, তারা আমাদের কোন জবাব দেবে না।"

তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান দাবি করেছেন, প্রতিটি ঘটনার তদন্ত করা হয়।

তিনি এটুকুই বলেছেন যে, তদন্তের ভিত্তিতে কোন সমস্যা চিহ্নিত হলে তাতে তারা ব্যবস্থা নিয়ে থাকেন।

"অবশ্যই তদন্ত হয়। এগুলো একজন ম্যাজিস্ট্রেটের আন্ডারে তদন্ত হয়। ম্যাজিস্ট্রেট তদন্ত হওয়ার পরে এগুলোর নিষ্পত্তি হয়। এবং তার তদন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়," বলেন মি. খান।

পুলিশ এবং র‍্যাবের ঊর্ধ্বতন একাধিক কর্মকর্তার সাথে কথা বললে তারাও এই একই বক্তব্য দেন। এর বাইরে আর কোন প্রশ্নের জবাব পাওয়া যায় না।

(দ্য রিপোর্ট/একেএমএম/জুলাই ০৪,২০১৯)