দ্য রিপোর্ট প্রতিবেদক: তামিম-সাকিবদের নতুন কোচ হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক কোচ রাসেল ডোমিঙ্গো। বুধবার সকাল সাড়ে সাতটায় ক্রিকেটারদের সঙ্গে সাক্ষাতও করেছেন তিনি। এরপর সাড়ে দশটায় সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে কর্মপরিকল্পনার কথা জানান বাংলাদেশের নতুন এই কোচ।

নতুন দায়িত্ব পেয়ে বেশ মুখিয়ে আছেন ডোমিঙ্গো। তবে নিজেই জানালেন কাজটা তার জন্যে চ্যালেঞ্জিং। কারণ, ‘বাংলাদেশের ক্রিকেট সংস্কৃতি সম্পর্কে আমি সবটা জানি না। তবে উপমহাদেশের ক্রিকেট সংস্কৃতি তো প্রায় একই রকম। এরা ক্রিকেটপাগল জাতি। এই ধরনের পরিবেশে কাজ করার আনন্দ আছে। সমর্থকদের চাপের কথা মাথায় রেখেই ভালো করার চ্যালেঞ্জ নিতে হয়। আমি চেষ্টা করব দর্শকদের খুশি করতে।’

দক্ষিণ আফ্রিকার কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করার পর বাংলাদেশের প্রতি আগ্রহের কারণটাও জানান নতুন এই কোচ। তার কাছে বাংলাদেশের ক্রিকেট উন্মাদনাই এর পেছনে প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে, ‘বাংলাদেশে প্রথম আসি ২০০৪ সালে অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপে। এটা অবশ্য পুরনো কথা। আমাকে এ বিষয়টাই সব সময় নাড়ায় যে এত মানুষ এই খেলাটির প্রতি আগ্রহী। দক্ষিণ আফ্রিকায় বড় কোনও খেলায় সংবাদ সম্মেলনে পাওয়া যায় মাত্র ৮ থেকে ৯জন রিপোর্টার। কিন্তু এখানে এত রিপোর্টারের সমাগম জীবনেও দেখিনি। গতকাল বিমান বন্দরেই ছিল প্রায় শ’খানেক। তাদের সামলাতে পুলিশও লেগেছে। বাংলাদেশের এই ক্রিকেট উন্মাদনাই আমাকে বিশ্বের এ প্রান্তে আসতে আগ্রহী করে তুলেছে।’

দীর্ঘসময় পর পর টেস্ট খেলছে বাংলাদেশ। ফলে টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের উন্নতি আশাব্যাঞ্জক নয়। টেস্ট ক্রিকেটে সাফল্য পেতে হলে আরও বেশি টেস্ট খেলা প্রয়োজন বলে মনে করেন সাকিবদের নতুন এই কোচ, 'বাংলাদেশ প্রায় ৬ মাস পর আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট খেলতে যাচ্ছে। এতো দীর্ঘ সময় পর পর খেলা হলে সত্যিই ভালো করা খুব কঠিন। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের মাধ্যমে আশা করি এ অবস্থার পরিবর্তন হবে। বাংলাদেশ আরও বেশি টেস্ট খেলার সুযোগ পাবে।'

সামনেই টেস্ট চ্যাম্পিয়ন্সশিপ শুরু হবে বাংলাদেশের। সেই লক্ষ্যে নিজের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি, ‘নভেম্বরে ভারতে দুটি টেস্ট খেলব। ওই সিরিজের জন্য ভালো একটা দল গঠন করতে চাই। আমার লক্ষ্য হলো, টেস্ট র‌্যাংকিংয়ে আগামী দুই বছরে পাঁচ থেকে ছয় নম্বরে জায়গা করে নেওয়া।’

টেস্টের মতো টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটেও বেশ পিছিয়ে বাংলাদেশ। ডোমিঙ্গোর তাই মূল লক্ষ্য কুড়ি ওভারের ক্রিকেটেও বাংলাদেশের উন্নতিতে ভূমিকা রাখা, 'সামনে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, এর আগে আমার লক্ষ্য থাকবে ভালো একটি টি-টোয়েন্টি দল গড়ে তোলা।'

(দ্য রিপোর্ট/আরজেড/আগস্ট ২১, ২০১৯)