দিরিপোর্ট২৪ প্রতিবেদক : একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বিএনপির নেতা ও সাবেক মন্ত্রী আবদুল আলীমের বিরুদ্ধে ১৭টি অভিযোগের মধ্যে হামলা, গণহত্যা, হত্যাসহ নয়টি অভিযোগ (১, ২, ৬, ৭, ৮, ৯, ১০, ১২, ১৪) প্রমাণিত হয়েছে। বাকিগুলো প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ। এর মধ্যে চতুর্থ ও পঞ্চম অভিযোগে রাষ্ট্রপক্ষ কোনো সাক্ষী হাজির করতে পারেনি।

বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ বিচারকাজ চলছে। বুধবার সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে বিচারপতিরা ট্রাইব্যুনালে আসেন।

রায়ের পড়া শুরুর আগে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান বলেন, ‘আজ আলীমের বিরুদ্ধে মামলার রায় ঘোষণা করা হচ্ছে। রায়টি ১৯১ পৃষ্ঠার। তবে এটি সংক্ষিপ্ত আকারে পড়া হবে।’

ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের মাধ্যমে অন্যান্য আইনজীবীকে উদ্দেশ করে বিচারপতি ওবায়দুল হাসান বলেন, ‘সম্পূর্ণ রায় না পড়ে মনগড়া মন্তব্য করবেন না। এটা আইনের শাসনের জন্য ক্ষতিকর।’

এরপর রায়ের প্রথম অংশ পড়েন বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলাম। বর্তমানে রায়ের দ্বিতীয় অংশ পড়ছেন বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া। চূড়ান্ত অংশ পড়বেন ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান। এটি হবে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার অষ্টম এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর পঞ্চম রায়।

সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে আবদুল আলীমকে ট্রাইব্যুনালের হাজতখানা থেকে আসামির কাঠগড়ায় আনা হয়। ট্রাইব্যুনালে আবদুল আলীমের পরিবারের পক্ষ থেকে তার দুই ছেলে সাজ্জাদ বিন আলীম ও খালিদ বিন আলীম উপস্থিত আছেন।

এর আগে সকাল পৌনে ১০টার দিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রিজন সেল থেকে আবদুল আলীমকে অ্যাম্বুলেন্সে করে ট্রাইব্যুনালে আনা হয়।

আজ রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে ট্রাইব্যুনাল এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া সতর্ক অবস্থানে রয়েছে সাঁজোয়া যান। সংশ্লিষ্টদের পরিচয় নিশ্চিত ও তল্লাশি করে ট্রাইব্যুনালে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে।

বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-২ মঙ্গলবার আবদুল আলীমের রায়ের দিন ধার্য করে আদেশ দেন।

গত ২২ সেপ্টেম্বর এই মামলার কার্যক্রম শেষে রায় অপেক্ষাধীন রাখা হয়। ওই দিন বিচারপতি ওবায়দুল হাসান, বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-২-এ আলীমের বিরুদ্ধে মামলায় রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষ হয়। যুক্তি উপস্থাপন শেষে ট্রাইব্যুনাল বলেন, যেকোনো দিন এ মামলার রায় ঘোষণা করা হবে। ট্রাইব্যুনাল আলীমের জামিন বহাল রাখার আবেদন বাতিল করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আলীমকে ২০১১ সালের ২৭ মার্চ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জয়পুরহাটের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই বছরের ৩১ মার্চ শারীরিক অবস্থার কারণে তাকে জামিন দেন ট্রাইব্যুনাল-১। গত বছরের ২৭ মার্চ আলীমের বিরুদ্ধে মামলাটি ট্রাইব্যুনাল-১ আমলে নেন। রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ১৬ এপ্রিল মামলাটি ট্রাইব্যুনাল-২-এ স্থানান্তর করা হয়। ওই বছরের ১১ জুন ট্রাইব্যুনাল-২ আলীমের বিরুদ্ধে ১৭টি অভিযোগ গঠন করেন। এর মধ্যে গণহত্যার তিনটি অভিযোগ রয়েছে। এগুলো হলো জয়পুরহাটের কড়ইকাঁদিপুর গ্রামে ৩৭০ জন হিন্দুকে হত্যা, উত্তর হাটশহরে নয়জনকে এবং জয়পুরহাট চিনিকলে বিচার বসিয়ে ২৫ জনকে হত্যা। অন্যান্য অভিযোগের মধ্যে হত্যার ১০টি এবং দেশান্তরকরণের একটি অভিযোগ আনা হয়েছে।

এই মামলায় গত বছরের ৬ আগস্ট রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয় এবং রাষ্ট্রপক্ষের ৩৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয় চলতি বছরের ২২ আগস্ট। আসামিপক্ষের তিন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয় ২৭ আগস্ট থেকে ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। রাষ্ট্রপক্ষ ৪ সেপ্টেম্বর থেকে চার কার্যদিবস এবং আসামিপক্ষ ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে পাঁচ কার্যদিবস যুক্তি দেয়। ২২ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপক্ষের আইনগত যুক্তি উপস্থাপন শেষে রায় অপেক্ষাধীন (সিএভি) রাখেন ট্রাইব্যুনাল।

(দিরিপোর্ট২৪/ওএস/জেএম/অক্টোবর ০৯, ২০১৩)