দ্য রিপোর্ট ডেস্ক: ওয়ানডে ক্রিকেটে বছরের শুরুটা হয়েছিল হোয়াইটওয়াশের মাধ্যমে। ফেব্রুয়ারিতে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে তিনটি ম্যাচেই বড়সড় পরাজয় বরণ করে মাশরাফির নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ। তবে বিশ্বকাপের আগে আয়ারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় সিরিজে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় টাইগাররা।

যদিও ঐ সিরিজে খর্বশক্তির আয়ারল্যান্ডের সাথে দ্বিতীয় সারির দল পাঠায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আর আয়ারল্যান্ডের মাটিতে তাই অপরাজিত থেকেই প্রথমবারের মত কোন শিরোপা জেতে বাংলাদেশ। মে মাসে সিরিজের প্রথম ম্যাচে ক্যারিবিয়দের ৮ উইকেটে হারিয়ে সিরিজ শুরু করা বাংলাদেশ ফাইনালেও হারায় একই দলকে।

ঐ সিরিজে মোট টানা ৪ জয় পায় বাংলাদেশ। এরপর সাকিবকে নিয়ে আয়ারল্যান্ড থেকে ইংল্যান্ডে উড়াল দেয় বিশ্বকাপের মিশন নিয়ে। সেখানে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে বিশ্বকাপে উড়ন্ত সূচনা পায় বাংলাদেশ। সাকিব-মুশফিকের নৈপুণ্যে বড় জয়ে দারুণ কিছুর ইঙ্গিত দিলেও পরের ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পরাজিত হয় টাইগাররা।

বিশ্বকাপে বাংলাদেশ খেলার সুযোগ পায় মোট নয়টি ম্যাচ। এরমধ্যে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষের ম্যাচটি পরিত্যক্ত এবং জয়ের দেখা পায় তিনটি ম্যাচে। পাঁচটি হার নিয়ে বাংলাদেশ ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের সমাপ্তি টানে টেবিলের অষ্টম স্থানে থেকে। যেখানে শেষ চারে থাকার লক্ষ্য নিয়ে দেশ ছেড়েছিল টাইগাররা।

বিশ্বকাপের ব্যর্থতা শেষে দেশে ফিরেও কোচবিহীন বাংলাদেশ রওনা দেয় শ্রীলঙ্কা সফরের উদ্দেশ্যে। সাকিবের স্বেচ্ছাবিরতি এবং মাশরাফির ইনজুরি- অস্থায়ী কোচ আর ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক তামিমের নেতৃত্ব শ্রীলঙ্কায় ধবলধোলাই হয় টিম বাংলাদেশ।

এই বছরে বিশ্বকাপসহ মোট ১৯ টি ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে জয়ের সংখ্যা ৭ টি। পরাজয় ১১ টি এবং পরিত্যক্ত ১ টি। সাফল্যের হার কমেছে গত বছরের তুলনায় অনেক বেশি। যেখানে এই ফরম্যাটে গত বছর বাংলাদেশ ২০ ম্যাচ খেলে জয় পায় ১৩ টিতে। পরাজয় মোটে ৭ টি। বছর ঘুরতেই টাইগারদের প্রিয় ফরম্যাটেও নেমে এসেছে অবনতির ছায়া।

রঙ্গীন জার্সিতে এই বছরে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ রান করেছেন মুশফিকুর রহমান। ১৮ ইনিংসে মুশফিকের সংগ্রহ ৭৫৪ রান। ১ শতক এবং ৫ অর্ধশতকে সর্বোচ্চ স্কোর ১০২ রান। পঞ্চাশের উপরে গড় থাকা মুশফিকের পরেই রয়েছেন সাকিব। যদিও মাত্র ১১ ইনিংস খেলেছেন এই অলরাউন্ডার। সাকিবের গড় ঈর্ষনীয়। সর্বোচ্চ ৯৩ গড়ে তাঁর সংগ্রহ ৭৪৬ রান! সর্বোচ্চ ১২৪, তাও বিশ্বকাপে।

অন্তত পাঁচটি ওয়ানডে খেলা খেলোয়াড়দের তালিকায় গড় রানে সাকিবের আশেপাশে কেউ নেই। বিরাট কোহলি, ওয়ার্নার কিংবা রোহিত শর্মা- সবাইকে পেছনে ফেলেছেন এই অলরাউন্ডার। এছাড়া বাংলাদেশিদের মধ্যে সর্বোচ্চ দুটি শতক এবং ৭ টি অর্ধশতক তুলেছেন সাকিব।

বল হাতে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ সফল বোলার মুস্তাফিজুর রহমান। বাজে বছর পার করার পরেও কাটার মাস্টার ১৬ ম্যাচ খেলে দেশিয়দের মধ্যে সর্বোচ্চ এবং আন্তর্জাতিকভাবে চতুর্থ সর্বোচ্চ- মোট ৩৪ টি উইকেট নিয়েছেন। দুইবার পেয়েছেন পাঁচ উইকেটের দেখা। তবে রান খরচ করেছেন ওভারপ্রতি প্রায় সাতের কাছাকাছি। তবে এই বছরে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ডাক মারার রেকর্ডটিও মুস্তাফিজের দখলে। ৯ ইনিংস ব্যাট করে তিনটি ডাক মেরেছেন মুস্তা।

(দ্য রিপোর্ট/আরজেড/ডিসেম্বর ২৪,২০১৯)