দ্য রিপোর্ট প্রতিবেদক: ধারাবাহিক দরপতন রোধে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) শেয়ার-ইউনিট দরে বেঁধে দেওয়া ফ্লোর প্রাইস (সর্বনিম্ন দর) বিনিয়োগকারীদের আস্থা এবং ব্রোকারে হাউজ-মার্চেন্ট ব্যাংকের বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে ফ্লোর প্রাইসের কারণে দ্রুত পুঁজিবাজারে ধারাবাহিক দরপতন রোধ করা সম্ভব হলেও লেনদেন আশঙ্কাজনকহারে কমেছে। ফলে পুঁজিবাজারে ফ্লোর প্রাইস নিয়ে দুশ্চিন্তায় বিনিয়োগকারী ও সংশ্লিষ্টরা।

বিনিয়োগকারী ও সংশ্লিষ্টদের টানাপোড়েন কীভাবে লাঘব করা যায় সে বিষয়ে চিন্তা-ভাবনা করছে বিএসইসি। সার্বিক প্রেক্ষপটে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ বিবেচনা করে পুঁজিবাজারে অনুকূল পরিবেশ তৈরি না হওয়া পর্যন্ত ফ্লোর প্রাইস শিগগিরই প্রত্যাহার না করার বিষয়ে বিএসইসি ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, ফ্লোর প্রাইসের কারণে পুঁজিবাজারের কোম্পানির শেয়ার ও ফান্ডের ইউনিটে সর্বনিম্ন দর বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এতে শেয়ারের প্রকৃত বাজার মূল্য প্রতিফলিত হচ্ছে না। এছাড়া প্রত্যাশা অনুযায়ী শেয়ারের ক্রেতা বা বিক্রেতা না থাকায় বিনিয়োগ আটকে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আর বিনিয়োগ আটকে যাওয়ার সম্ভাবনায় অনেক ব্যক্তি, প্রাতিষ্ঠানিক ও বিদেশি বিনিয়োগকারী নতুন বিনিয়োগে আসছে না। একইসঙ্গে লেনদেন কমে যাওয়ায় ব্রোকারেজ হাউজ ও মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর লোকসান ক্রমেই বেড়ে চলেছে। এ পরিস্থিতি দীর্ঘমেয়াদি হলে অনেক ব্রোকারেজ হাউজ ও মার্চেন্ট ব্যাংকে শাখা বন্ধের পাশাপাশি কর্মী ছাঁটাইয়ের সম্ভাবনা দেখা দিবে।

প্রস্তাবিত ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে শর্তহীন ভাবে কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ দিলে ও শেয়ার লেনদেনের ওপর অগ্রিম কর কমানো হলে পুঁজিবাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। এতে একদিকে পুঁজিবাজারে তারল্য প্রভাব বাড়বে, অন্যদিকে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ফ্লোর প্রাইস চালুর পর থেকেই বড় দরপতন অনেকটাই হ্রাস পেয়েছে। লেনদেনের পরিমাণ অনেক কমেছে। গত ২৬ মার্চ লেনদেন বন্ধ হয়ে যাওয়ার আগের ৫ কার্যদিবসে ডিএসইতে দিনে গড়ে লেনদেন হয়েছে ১৮৭ কোটি ২৮ লাখ টাকার। আর ৩১ মে থেকে পুনরায় লেনদেন চালু হওয়ার পর সর্বশেষ গত ৫ কার্যদিবসে গড়ে লেনদেন হয়েছে ৬৪ কোটি ১৩ লাখ টাকা। ফলে সময়ের ব্যবধানে ফ্লোর প্রাইসের কারণে লেনদেনে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কাজী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, পুঁজিবাজার স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ফ্লোর প্রাইস রাখার দাবি বিনিয়োগকারীদের। বিনিয়োগকারী ও বাজারের কথা বিবেচনা করে আপাতত ফ্লোর প্রাইস বহাল রাখার অনুরোধ জানাচ্ছি। বাজার স্বাভাবিক হলে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরে ফ্লোর প্রাইস তুলে নেওয়া যেতে পারে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালক শাকিল রিজভী বলেন, দীর্ঘদিন ফ্লোর প্রাইস অব্যাহত রাখলে পুঁজিবাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। বর্তমান প্রেক্ষপটে পুঁজিবাজারের জন্য ফ্লোর প্রাইস জরুরি। তবে বাজাটে শর্ত ছাড়াই কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ, শেয়ার লেনদেনের ওপর অগ্রিম কর কমালে এবং ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ অব্যাহত রাখলে পুঁজিবাজারে তারল্য প্রবাহ বাড়বে। তখন ফ্লোর প্রাইস তুলে নেওয়া যেতে পারে।

বিএসইসির চেয়ারম্যান শিবলী রুবায়েত উল ইসলাম বলেন, ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ বিবেচনা করে ফ্লোর প্রাইস তুলে নেওয়ার বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। পুঁজিবাজার স্বাভাবিক হওয়ার পর আমরা এ বিষয়টি নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করব।

(দ্য রিপোর্ট/আরজেড/২০জুন, ২০২০)