দ্য রিপোর্ট প্রতিবেদক: কর ফাঁকিবাজ গাড়ির মালিক ধরতে যৌথভাবে কাজ করবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ)।  এই উদ্দেশ‌্য বাস্তবায়নে উভয় সংস্থা যৌথভাবে ৭ সদস্য বিশিষ্ট টেকনিক্যাল কমিটি গঠন করেছে।  

গত ২১ জুলাই এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ভার্চুয়াল সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই কমিটি গঠন করা হয়।

কমিটি মোটর গাড়ির অগ্রিম আয়কর জমা-পদ্ধতি, ভুয়া টিআইএন ব্যবহার রোধ ছাড়াও গাড়ির মালিকদের তথ্য নিয়ে ফাঁকি রোধে কাজ করবে। একইসঙ্গে দুই সংস্থার সমন্বয় ও সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করে সুপারিশ করবে ওই কমিটি।

যৌথ টেকনিক্যাল কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে এনবিআরের সিস্টেমস ম্যানেজার মো. শফিকুর রহমানকে। কমিটির সদস্য সচিব করা হয়েছে সিস্টেম এনালিস্ট মো. গোলাম মোস্তফাকে। বাকি ৫ সদস‌্য হলেন—এনবিআরের কর জরিপের যুগ্ম কমিশনার মো. মহিদুল ইসলাম, বিআরটিএ’র পরিচালক (অপারেশন) শীতাংশু শেখর বিশ্বাসসহ প্রতিষ্ঠানটির তিন কর্মকর্তা ও এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা।

জানতে চাইলে এনবিআরের ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘গাড়ির রেজিস্ট্রেশন ও ফিটনেস সার্টিফিকেট নিতে যে সব মালিক অগ্রিম আয়কর ফাঁকি দিয়েছেন কিংবা জাল টিআইএন দিয়েছেন, তাদের শনাক্ত করতে বিআরটিএ এবং ব্যাংকের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। ওই বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটির কাজ হবে নতুন কেনা গাড়ির প্রকৃত লেনদেনের মূল্যসহ মালিকদের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহসহ কর ফাঁকিবাজদের শনাক্ত করা। ’

এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ যেন এনবিআরের টিআইএন রেজিস্ট্রেশন সার্ভারে ঢুকে গাড়ি মালিকদের টিআইএন নম্বর যাচাই করতে পারে, সে ব্যবস্থা করা হবে। কারণ বিআরটিএ এর আগে অনেকবার বলেছে, টিআইএন নম্বরের সত্যতা যাচাই করতে বিভিন্ন রকম সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে।’ এই ধরনের সমস্যা সমাধানে যৌথভাবে নতুন কমিটি কাজ করবে বলেও তিনি জানান।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে এনবিআর সদস্য (করনীতি) মো. আলমগীর হোসেন এ বিষয়ে বলেন, ‘বিআরটিএকে প্রতিষ্ঠান হিসাবে এনবিআর সার্ভারের আইডি ও পাসওয়ার্ড দিলে এর মাধ্যমে তারা কর্মকর্তারা টিআইএন যাচাই করতে পারবে। একইসঙ্গে যাচাই প্রক্রিয়াটির অপব্যবহারও ঠেকানো সম্ভব হবে। ’ তবে, মোবাইলফোনে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত বলতে রাজি হননি।

উল্লেখ‌্য, অনেক ক্ষেত্রে একাধিক গাড়ি রয়েছে, এমন করদাতারা নিজেদের ট্যাক্স ফাইলে অতিরিক্ত কর এড়াতে কেবল একটি গাড়ির তথ‌্য উল্লেখ করেন। কারণ, আয়কর আইনে একাধিক গাড়ির মালিকদের দ্বিতীয় গাড়ির জন্য ৫০ শতাংশ বেশি কর দিতে হয়। এছাড়া, কর ফাঁকি দিতে গাড়ির সিসিও কম দেখান করদাতারা।

(দ্য রিপোর্ট/আরজেড/২৯জুলাই, ২০২০)