দ্য রিপোর্ট ডেস্ক: হোম টেস্ট সিরিজে ইংল্যান্ডের কাছে ২-০ তে হোয়াইটওয়াশ হওয়ার পর পদত্যাগ করলেন শ্রীলঙ্কার প্রধান নির্বাচক আশান্থা ডি মেল। এর আগে দক্ষিণ আফ্রিকায় ২-০ তে হোয়াইটওয়াশ হয়েছিল লঙ্কানরা। ইংল্যান্ড সিরিজ শেষ হওয়ার পর পর নির্বাচক হিসেবে পদত্যাগের পরিকল্পনা আগে থেকেই ছিল তার।

কদিন আগে টিম ম্যানেজারের দায়িত্ব থেকে ইস্তফা দেন ডি মেল। ২০১৮ সালের নভেম্বর থেকে একসঙ্গে দুটি দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি। ক্রিকইনফোকে ডি মেল বলেছেন, ‘আমি দুটি পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর পরিকল্পনা করছিলাম, অপেক্ষায় ছিলাম দ্বিতীয় টেস্ট (ইংল্যান্ডের বিপক্ষে) শেষ হওয়ার। আসন্ন সফরের আগে নতুন ম্যানেজারের ভিসা পেতে যেন সমস্যা না হয়, সেজন্য আগেই ম্যানেজারের দায়িত্ব ছেড়েছি। দুই বছর হয়ে গেলো।’

২০১৫ ও ২০১৬ সালে অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান কোচ হওয়াসহ দলে বিভিন্ন ভূমিকা রাখা জেরোমে জয়ারত্নে ম্যানেজারের দায়িত্ব নেবেন বলে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট নিশ্চিত করেছে। নতুন নির্বাচন কমিটির দায়িত্ব কে পাবেন তা এখনও ঘোষণা হয়নি।

প্রধান নির্বাচক ও ম্যানেজারের দায়িত্বে থেকে জাতীয় দলের টেস্ট ও ওয়ানডেরে নেতৃত্ব দিমুথ করুণারত্নেকে দেন ডি মেল। কিন্তু হতাশার বৃত্তে ঘুরপাক খেতে থাকে দল, বিশেষ করে টেস্ট ক্রিকেটে। তার সময়ে মাত্র চারটি টেস্ট জিতেছে লঙ্কানরা, হার ৯টি। এর মধ্যে অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তিনটি সিরিজে ২-০ তে হোয়াইটওয়াশ হয়েছে তারা। অথচ তার দায়িত্বের প্রথম ছয় মাসের মধ্যে ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি-মার্চে শ্রীলঙ্কা প্রথমবার দক্ষিণ আফ্রিকায় টেস্ট সিরিজ জিতেছিল।

কিন্তু গত চারটি টেস্টে লজ্জাজনক হারের পর ডি মেল তার শেষ দেখে ফেললেন। অবশ্য এমন ব্যর্থতার জন্য ঠাসা সূচিতে প্রস্তুতির ঘাটতিকে দায়ী করেছেন তিনি। লঙ্কান প্রিমিয়ার লিগ খেলার দুই দিন পর দক্ষিণ আফ্রিকার উদ্দেশ্যে রওনা হন ক্রিকেটাররা। করোনা প্রটোকলের কারণে সেখানে প্রস্তুতিও নিতে পারেননি। আর ইংল্যান্ড সিরিজের আট দিন আগে দেশে ফিরে কেবল একটি নেট সেশন করেছিলেন ক্রিকেটাররা।

ডি মেল জানান, তার ক্ষমতা থাকলে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে দলই পাঠাতেন না। বরঞ্চ ইংল্যান্ডের জন্য প্রস্তুতি নিতেন। শেষ মুহূর্তে সফর বাতিল করায় দুই বোর্ডের সম্পর্কে তিক্ততা হলেও এই সিদ্ধান্ত নিতেন তিনি!

(দ্য রিপোর্ট/আরজেড/২৮ জানুয়ারি, ২০২১)