দ্য রিপোর্ট প্রতিবেদক:‘বাংলাদেশের পুঁজিবাজার গত তিন মাস ধরে এশিয়ার শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। এছাড়াও বিনিয়োগকারীদেরকে মুনাফা দেওয়ার ক্ষেত্রে সারা পৃথিবীতে এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ।আপনারা বাংলাদেশে বিনিয়োগ করে অতি সহজেই খুব ভালো পরিমাণ মুনাফা করতে পারবেন’।

যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে বুধবার (২৮ জুলাই) বিএসইসি আয়োজিত‘দ্য রাইজ অব বেঙ্গল টাইগার : পটেনশিয়ালস অব ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষকরোড শোতে প্রধান অতিথির বক্তব্যেবাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম অতিথীদের উদ্দেশ্যে এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন,বাংলাদেশ শিক্ষিত ও অর্ধশিক্ষিত শ্রমিক খুব সহজেই পাওয়া যায়।যা আমাদের খুব মূল্যবান সম্পদ। ব্যবসায়ের জন্যসহজেই ইলেক্ট্রিসিটি, গ‌্যাসসহ সকল কিছুই বাংলাদেশে পাওয়া যাচ্ছে। বাংলাদেশের সরকার ব্যবসায়ের সকল খাতকে সুসংঘঠিতভাবে সাজিয়েছে। এর ফলে ব্যবসায়ের সকল পদ্ধতিগুলো খুব সহজ হয়েছে। এদিকে আমাদের রয়েছে বাংলাদেশ এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন (বেপজা)। দেশকে বিনিয়োগবান্ধব করতে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) ওয়ান স্টপ সেবা দিয়ে যাচ্ছে।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন শান্তা এসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির ভাইস চেয়ারম্যান আরিফ খান। এসময় তিনি বাংলাদেশে ধারাবাহিক উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ যে করুণ অবস্থা থেকে যাত্রা শুরু করেছিলো, আজ দেশটি সারা বিশ্বের জন্য রোলমডেল।এশীয় অঞ্চলে দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির মধ্যে শীর্ষে বাংলাদেশ। বর্তমানে বিদেশি সহায়তা ছাড়াই আমাদের সক্ষমতা বাড়ছে। ১৯৭১ সালে আমাদের বিদেশি সহায়তার হার ছিল ৯৮ শতাংশ। আর ২০২১ সালে তা মাত্র ২ দশমিক ৯৮ শতাংশ।বিশ্বব্যাংকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন নেক্সট এলিভেনের একটি।বাংলাদেশ সামাজিক, অর্থনৈতিকসহ বিভিন্নসূচকে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর চেয়ে ভাল করছে। বাংলাদেশের মানুষ এ অঞ্চলের অন্যান্য দেশের মানুষের চেয়ে বেশিদিন বাঁচে। রেমিটেন্সের দিক দিয়ে বাংলাদেশ পাকিস্তান,আর্জেন্টিনার মতো দেশকে পেছনে ফেলে দিয়েছে। মাথাপিছু আয়েও বাংলাদেশ পাকিস্তান ও ভারতের চেয়ে এগিয়ে গেছে।

তিনি প্রবন্ধে উল্লেখ করেন- বাংলাদেশ পাট রপ্তানিতে বিশ্বে প্রথম,পোষা্ক রপ্তানিতে বিশ্বে দ্বিতীয়,মাছ উৎপাদনে তৃতীয়, সবজি উৎপাদনে বিশ্বে চতুর্থ স্থানে অবস্থানে করছে।ভৌগোলিক দিক থেকেও আমরা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছি। তিনি বলেন, আমাদের সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তারা এখানে এসেছেন। সবার কথার মূল বিষয় হলো, অর্থনৈতিক উন্নয়নে সরকার বদ্ধপরিকর। আমাদের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাত এগিয়ে যাচ্ছে।যদিও আমাদের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ বেশি।কিন্তু এসএমই খাতে খেলাপি ঋণ মাত্র ৩ শতাংশ হলেও মোট কর্মসংস্থানের ৭০ শতাংশই এ খাতের আওতাধীন। আগামী ৫ বছরে শিল্প খাতে নেতৃত্ব দেবে এসএমই।এ কারণে শেয়ারবাজারেও এসএসইর জন্য আলাদা বোর্ড গঠন করা হয়েছে।

তিনি বলেন ব্যবসা সহায়কই শুধু নয় শিল্প কারখানায় পূঁজি সরবরাহের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে পূজিবাজারকে।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প এবং বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, বাণিজ্য সচিব তপন কান্তি ঘোষ, অর্থ মন্ত্রণালয়ের ফাইন্যান্স ডিভিশনের সিনিয়র সচিব আবদুর রউফ তালুকদার, বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. সিরাজুল ইসলাম, রপ্তানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. নজরুল ইসলাম, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব ফাতেমা ইয়াসমিন ও ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম আর এফ হোসাইন বক্তব্য রাখেন।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের অর্থনীতির সম্ভাবনা তুল ধরে বিদেশি ও প্রবাসী বিনিয়োগ আর্কষণে যুক্তরাষ্ট্রের ৪টি গুরুত্বপূর্ণ শহরে ১০দিনের রোড শোর আয়োজন করা হয়েছে। ইতিমধ্যে নিউইর্য়ক, ওয়াশিংটন এবং লস এঞ্জলেসে রোড শো অনুষ্ঠিত হয়েছে।আগামী ২ আগষ্ট সানফ্রানসিসকোতে শেষ রোড শো অনুষ্ঠিত হবে ।

দ্য রিপোর্ট/এএস/জুলাই ২০২১