দ্য রিপোর্ট ডেস্ক : ফিফা প্রেসিডেন্ট সেপ ব্লাটার বেজায় ক্ষেপেছেন ইউরোপীয় সংবাদ মাধ্যমের ‘আক্রমণাত্মক’ ভূমিকায়। তিনি কঠোর সমালোচনাও করেছেন। ২০২২ বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ কাতারে অবকাঠামোগত কাজ নিয়ে ইউরোপীয় দেশ ও কোম্পানিগুলোর বিতর্কিত ভূমিকা নিয়েও আপত্তি তার। অথচ ইউরোপীয় মিডিয়া ঢালাওভাবে কাতারের অযাচিত সমালোচনা করছে।

বিশ্বকাপের ভেন্যু নির্মানের কাজে নিয়োজিত ভিনদেশী শ্রমিকদের সঙ্গে পাশবিক আচরণ করা হচ্ছে বলে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল যে সমালোচনা করেছে তার জন্য ইউরোপীয় নির্মাণ প্রতিষ্ঠানগুলোকেই অভিযুক্ত করেছেন ব্লাটার।

ফিফা কর্ণধার মালয়েশিয়ায় এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (এএফসি) পুরস্কার বিতরনী অনুষ্ঠানে কাতার বিষয়ে মিডিয়ার অন্যায় আচরনের বিপক্ষে অবস্থান ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘আন্তর্জাতিক মিডিয়া, বিশেষ করে ইউরোপীয় সংবাদ মাধ্যমগুলো এশিয়ার আরব দেশ কাতারকে যেভাবে আক্রমণ এবং সমালোচনা করছে তা অন্যায়। আমরা এর প্রতিবাদ জানাই। আরব বিশ্বের ওই দেশটিতে আমরা বিশ্বকাপ আয়োজনের সিদ্ধান্তে অটল। ২০২২ সালের বিশ্বকাপ ফুটবল কাতারেই অনুষ্ঠিত হবে।’

এএফসির প্রেসিডেন্ট শেখ সালমান বিন ইব্রাহিম আল খালিফা বলেছেন, ‘কাতার বিষয়ে সমালোচনা বাড়াবাড়ি পর্যায়ে চলে গেছে। বিশ্বকাপ টুর্নামেন্ট আয়োজনে ভুমধ্যসাগরীয় দেশটির পক্ষে অবশ্যই সম্ভব।’ তিনি সংযোগ করেছেন, ‘আমি মনে করি একটি উদ্যোগ গ্রহণের পরও এ বিষয়ে সমালোচনার পরিমাণ মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। কাতার এশিয়ারই একটি অংশ। যত ধরনের পন্থা আছে সবগুলো অবলম্বন করে হলেও আমরা এশিয়ায় তথা কাতারে বিশ্বকাপ আয়োজনে সমর্থন যোগাব।’

২০১০ সালে বিশ্বকাপ আয়োজক হবার দৌড়টি সফলতার সঙ্গে শেষ করে সম্পদশালী দেশটি প্রমাণ করেছে যে, তারা যোগ্য আয়োজক। কাতারে গ্রীষ্মের খর তাপের উষ্ণতাকে পাশ কাটানোর জন্য জোরালো ও দীর্ঘ সময় ধরে প্রতিবাদের পর ব্লাটার টুর্নামেন্টটি বছরের শেষভাগে আয়োজন করার উদ্যোগ নিতে সক্ষম হয়েছেন।

পাশাপাশি ব্লাটার নিজেও ভিনদেশী শ্রমিকদের সঙ্গে অমানবিক আচরণ গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেছিলেন এবং কাতার কর্তৃপক্ষ বিষয়টি অতিরঞ্জিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে।

(দ্য রিপোর্ট/এএস/এমআই/নভেম্বর ২৮, ২০১৩)