দ্য রিপোর্ট প্রতিবেদক : জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নির্বাচন বর্জনের ঘোষণার পেছনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকা নাকি ইন্ধন জুগিয়েছেন! আর এ কারণেই রাজধানীর শাহবাগে বাসে পেট্রোল বোমা ছুড়ে মারার মামলায় খোকাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। দ্য রিপোর্টের অনুসন্ধানে এমন তথ্যই বেরিয়ে এসেছে।

সাদেক হোসেন খোকাকে বুধবার রাতে রাজধানীর উত্তরার একটি বাসা থেকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। বৃহস্পতিবার দুপুরে খোকাকে র‌্যাবের পক্ষ থেকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পুলিশ তাকে আদালতে নিয়ে গাড়ি পোড়ানো ও নাশকতার অভিযোগে ২০ দিনের রিমান্ড দাবি করলে আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

নির্দলীয় সরকারের দাবিতে আন্দোলনরত বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলের নেতাকর্মীরা প্রায় প্রতিদিনই গ্রেফতার হচ্ছেন। কিন্তু মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাদেক হোসেন খোকার গ্রেফতারের পর রাজনৈতিক অঙ্গন ও চায়ের টেবিলে এমনকি তার দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনার ঝড় উঠেছে। খোকাকে বিএনপির নেতাকর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে বর্তমান সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রাখার অভিযোগে অভিযুক্ত ও সন্দেহ করে আসছে।

এ ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হঠাৎ করে খোকা সরকারের বিরাগভাজন হওয়ার পেছনের কারণও দেশীয় রাজনীতির ‘আনপ্রেডিক্টেবল পারসন’ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। নিজেদের অধীনে নির্বাচনের সিদ্ধান্তে অটল মহাজোট সরকারের মন্ত্রিসভা থেকে দলের নেতাদের পদত্যাগ ও নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়ে সরকারকে বেকায়দায় ফেলে দিয়েছেন তিনি। আর এরশাদের সিদ্ধান্তের পেছনে অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছেন ঢাকা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাদেক হোসেন খোকা। নিজ দলে হারানো ‘ইমেজ’ ফিরিয়ে আনতে খোকা এরশাদকে ব্যবহার করেন।

সূত্র জানায়, গত ৩ ডিসেম্বর নির্বাচন বর্জনের ঘোষণার পর এরশাদ ২৬ ঘণ্টা তার বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কের বাইরে ছিলেন। তার ওই নিরুদ্দেশ থাকা নিয়ে গণমাধ্যমগুলোতে কৌতুহলেরও সৃষ্টি হয়।

জানা গেছে, দীর্ঘ ওই সময় এরশাদ ছিলেন গুলশান এলাকার একটি পুরনো বাড়িতে। ওই বাড়িতে তার সঙ্গে ছিলেন ব্যক্তিগত সহকারী বাদশা। সেই রাতেই সেখানে এরশাদের সঙ্গে কথা বলেন ঢাকা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাদেক হোসেন খোকা।

দ্য রিপোর্টের পক্ষ থেকে শুক্রবার দুপুরে গুলশানের সম্ভাব্য ওই বাড়ির ব্যাপারে অনুসন্ধান চালানো হয়। তবে নির্দিষ্ট বাড়ির খোঁজ পাওয়া যায়নি। ওই এলাকায় জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের যাতায়াত আছে-এমন একটি বাড়ির সন্ধান পাওয়া যায়। বাড়িটির কেয়ারটেকার ওয়াহিদুল ইসলাম অবশ্য এমন কোনো তথ্যের কথা অস্বীকার করেন।

তিনি জানান, গত ২ ডিসেম্বরের পর ‘স্যার’ (এরশাদ) ওই বাড়িতে আসেননি। শেষ সেদিন স্যার আমাকে বলে গেছেন, তিনি বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কে থাকবেন।

তিনি আরও বলেন, ‘খোকা স্যার বলেও আমি কাউকে চিনি না। আমি গত তিন মাস ধরে এখানে দায়িত্ব পালন করছি।’

সূত্র আরও জানায়, বুধবার রাতে গ্রেফতার হওয়া বিএনপির এ নেতা নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্তে অনড় থাকতে এরশাদকে অনুরোধ করেন।এ সময় এরশাদের ওপর ক্ষমতাসীনদের যেকোনো ‘অ্যাকশনের’ প্রতিবাদ বিএনপি জোরালোভাবে করবে বলেও আশ্বস্ত করা হয়। তিনি দলের চেয়ারপারসনের নির্দেশনাতেই এরশাদকে এ আশ্বাস দেন বলে জানা যায়।

সূত্র জানায়, খোকার আশ্বাসে এরশাদ তার স্ত্রী বেগম রওশন এরশাদের মাধ্যমে ওই রাতেই বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। রওশন এরশাদ বিএনপি চেয়ারপারসনের সঙ্গে বেশকিছু সময় আলাদা কথা বলেন। বিএনপি প্রধানের সঙ্গে ফোনালাপ শেষে এরশাদকে সিদ্ধান্তে অটল থাকার কথা জানান রওশন।

সূত্র জানায়, এরশাদের সঙ্গে খোকার এই ফলপ্রসূ বৈঠকের কথা বিভিন্ন মাধ্যমে সরকারের উচ্চ মহল পর্যন্ত দ্রুত পৌঁছায়। পরবর্তীতে সরকারের ওপর মহলের নির্দেশেই দ্রুত আটক করা হয় খোকাকে।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার দিনভর নানা গুঞ্জন ও নাটকের পর এরশাদ তার দলের ৫ মন্ত্রীর পদত্যাগপত্র নিজের কাছে জমা নেন। শুক্রবার চিকিৎসা শেষে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ অ্যাডভোকেট দেশে ফিরলে তার কাছে এ পদত্যাগপত্রগুলো জমা দেবেন বলে জানান এরশাদ।

(দ্য রিপোর্ট/এমএইচ/এস/এআইএম/ডিসেম্বর ০৭, ২০১৩)