দ্য রিপোর্ট প্রতিবেদক : দশম সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট অচলাবস্থা নিরসনে চলমান সংলাপ নিয়ে সরকার জনগণকে ‘বিভ্রান্ত’ করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন ‘জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য মন্ত্রী ও দলীয় নেতারা বলেছেন, দশম নয়, একাদশ জাতীয় নির্বাচন নিয়ে সংলাপ চলছে। এটা সর্বৈব অসত্য ও নিলর্জ্জ মিথ্যাচার।’

এক বিবৃতিতে বুধবার মির্জা ফখরুল এ সব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘জনগণের দুর্ভাগ্য ও দেশের গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতার কথা চিন্তা করে আমরা দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকালীন সরকার বিষয়ে আলোচনা এবং সে জন্য চলমান নির্বাচনী তফসিল স্থগিত করার দাবিতেই সংলাপে অংশ নিয়েছিলাম। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে নয়।’

দলীয় প্যাডে নিজের স্বাক্ষর করা বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল সরকারের প্রতি আহ্বান রেখে বলেন, ‘আত্মহননের প্রক্রিয়া থেকে সরে আসার জন্য সরকারের প্রতি আমি আবারও আহ্বান জানাচ্ছি। ভয়াবহ সংকট থেকে জাতিকে উদ্ধার করার জন্য চরম হঠকারিতা, দাম্ভিকতা, ঔদ্ধত্য ও অসহনশীলতা পরিহার করে সমঝোতা ও শান্তির পথে আসুন।’

সব দলের অংশগ্রহণে নির্দলীয়-নিরপেক্ষ সরকারের কাছে ক্ষমতা হন্তান্তরের দাবি জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এতটুকু সময় নষ্ট না করে দেশের স্বার্থে পদত্যাগপূর্বক নির্দলীয় সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের মাধ্যমে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।’

‘অন্যথায় গণতন্ত্র, জনগণের ভোটাধিকার রক্ষার জন্য চলমান আন্দোলনকে জনগণ চূড়ান্ত বিজয়ের পথে নিয়ে যাবে ইনশাল্লাহ’ বলেন তিনি।

একতরফা নির্বাচনের তফসিলের কঠোর সমালোচনা করে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, ‘দশম সংসদ নির্বাচন ইতোমধ্যেই দেশের মানুষ প্রত্যাখ্যান ও বর্জন করেছে বলেই ১৫৪ আসনে কোনো প্রার্থী নেই। দেশের নির্বাচনের ইতিহাসে এটা কলঙ্কময় নজির হয়ে থাকবে। কেবল তাই নয়, একটি বিশেষ রাজনৈতিক দল ও তার নেতাকে নিয়ে সরকার যে নাটক তৈরি করেছে, এটা তাদের রাজনৈতিক দেউলিয়াপনার পরিচয় বহন করে। এতে সরকারের নৈতিক পরাজয় হয়েছে।’

ফখরুল বলেন, ‘আমরা মনে করি, রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশনকে সেবাদাসে পরিণত করে প্রার্থীবিহীন নির্বাচনে ক্ষমতা ধরে রাখা যাবে না। জনগণ তা মেনে নেবে না।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুনের বিশেষ দূত অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকোর উদ্যোগে বিএনপির প্রতিনিধি দল ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে দশম সংসদ নির্বাচনে সৃষ্ট অচলাবস্থা নিরসনে সংলাপ শুরু করেছিলেন। তারানকোর উপস্থিতিতে দু’টি এবং তার অনুপস্থিতিতে একটি সংলাপ হয়েছে। সর্বশেষ বৈঠকে বিএনপির পক্ষ থেকে ফলপ্রসূ সংলাপের জন্য পরিবেশ সৃষ্টি করতে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব করা হয়। আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দল প্রস্তাবগুলো নিয়ে তাদের নীতিনির্ধারণী ফোরামে আলোচনা করে পুনরায় বৈঠক বসতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তারা আজ পর্যন্ত বৈঠকে বসার জন্য কোনো তারিখ জানাননি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা স্পষ্টভাবে জানাতে চাই, দশম সংসদ নির্বাচনের জন্য বিরোধী দলের দাবি হচ্ছে, নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠান। দেশের বেশিরভাগ রাজনৈতিক দল সরকারের নীলনকশার নির্বাচনের অংশ নিচ্ছে না। সেহেতু সব দলের অংশগ্রহণে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে একতরফা নির্বাচনের তফসিল বাতিল করে নিরপেক্ষ নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা করা অত্যন্ত জরুরি।’

সারাদেশে দমন-পীড়ন ও হত্যা-গুমের মাধ্যমে জনজীবনকে স্থবির করার জন্য সরকারই দায়ী বলে উল্লেখ করেন মির্জা ফখরুল।

(দ্য রিপোর্ট/এমএইচ/এনডিএস/নূরু/ডিসেম্বর ১৮,২০১৩)