গুজরাট দাঙ্গায় মোদির ক্লিনচিট বহাল
কলকাতা প্রতিনিধি : ২০০২ সালে গুজরাট দাঙ্গা ইস্যুতে নরেন্দ্র মোদির ক্লিনচিট রিপোর্টকে বহাল রেখেছে গুজরাটের একটি আদালত৷ মামলার রায়ে বৃহস্পতিবার আদালত জানিয়েছে, বিশেষ তদন্তকারী দলের ক্লোজার রিপোর্টকেই গ্রহণ করা হচ্ছে।
তবে মামলা দায়েরকারী জাকিয়া জাফরি চাইলে উচ্চ আদালতে আবেদন করতে পারবেন বলেও জানিয়েছেন বিচারক৷
মামলায় রায়ে হতাশ জাকিয়া জাফরি জানান, কিছুদিনের মধ্যেই তিনি এই রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আবেদন করবেন৷
এদিকে আদালতের রায়ের পর স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন বিজেপির শীর্ষ নেতারা৷ বিজেপি নেতা অরুণ জেটলি বলেছেন, ‘রাজনৈতিকভাবে মোদির সঙ্গে লড়াই করতে পারছে না কংগ্রেস৷ তাই আদালতে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এনেছিল৷ কিন্তু তাও জিততে পারল না তারা৷’
আদালতের রায় ঘোষণার পরপরই উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা৷
এর আগে এহসান জাফরি হত্যা মামলায় মোদিকে প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে দাবি করেছিলেন তার স্ত্রী জাকিয়া জাফরি৷ জাকিয়ার অভিযোগের ভিত্তিতে ২০০৮ সালে সুপ্রিমকোর্ট বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করেছিল৷ চার বছর তদন্তের পর ২০১২ সালে সিট তার তদন্ত রিপোর্ট পেশ করে৷ রিপোর্টে বলা হয়, এহসান জাফরি হত্যা মামলায় নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ মেলেনি৷ এর ফলে ক্লিনচিট পেয়ে যান গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী মোদি৷
এরপর সিট রিপোর্ট চ্যালেঞ্জ করে আদালতের দ্বারস্থ হন জাকিয়া জাফরি৷ সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার এ রায় দিল গুজরাটের একটি আদালত।
জাকিয়া তার আবেদনে বলেছিলেন, ২০০২ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ঠাণ্ডা মাথায় হত্যা করা হয়েছিল প্রাক্তন সাংসদ এহসান জাফরিকে৷ নরেন্দ্র মোদির নির্দেশেই তা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি৷
প্রসঙ্গত, গোধরায় সবরমতি এক্সপ্রেসে আগুন লাগার ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছিলেন ৫৯ ব্যক্তি। এরপরই গুজরাটে দাঙ্গা ছড়িয়ে পরে। ২৮ ফেব্রুয়ারি আহমেদাবাদের গুলবার্গ সোসাইটি এলাকায় হত্যা করা হয় এহসান জাফরিসহ ৫৮ জনকে৷
জাকিয়ার অভিযোগ, সে সময় জাকিয়া জাফরি নরেন্দ্র মোদিকে টেলিফোন করে সাহায্যের আবেদন জানালেও কোনো উত্তর পাননি৷ এরপরই প্রাণ হারান প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ৷
(দ্য রিপোর্ট/এসএম/এসকে/নূরুল/ডিসেম্বর ২৬, ২০১৩)