সাগর আনোয়ার, দ্য রিপোর্ট : দুই-একদিনের মধ্যেই নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণার প্রস্তুতি নিচ্ছে জাতীয় পার্টি (জাপা), বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ)। মহাজোট সরকারের শরিক দল তিনটির শীর্ষ নেতারা জানিয়েছেন, তাদের ইশতেহার তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। যেকোনো সময় তা ঘোষণা করা হবে। ইশতেহারে জাপা রাষ্ট্রপতির শাসন, ওয়ার্কার্স পাটি ও জাসদ অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার করেছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

জাতীয় পার্টির সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনী ইশতেহার ছাপানো শেষ। পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় কীভাবে এরশাদকে ছাড়াই ইশতেহার ঘোষণা করা হবে এখন সেই কর্মকৌশল প্রণয়নের প্রক্রিয়া চলছে। এ ব্যাপারে কঠোর গোপনীয়তাও অবলম্বন করছেন জাপা নেতাদের একাংশ। তারা চাচ্ছেন, রওশন এরশাদকে দিয়ে ইশতেহার ঘোষণা করতে। তবে তিনি মিডিয়ার সামনে আসতে চাচ্ছেন না।

অবশ্য ইশতেহারের বিষয়ে ১৬ সেপ্টেম্বর এরশাদের নির্দেশে গঠিত জাপার ৪ সদস্যের ইশতেহার প্রণয়ন কমিটির আহ্বায়ক জিএম কাদের ও সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়াও ‘কিছু জানেন না’ বলে জানিয়েছেন দ্য রিপোর্ট প্রতিবেদককে।

এ বিষয়ে অ্যাডভোকেট রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, ‘আমি চেয়ারম্যানের নির্দেশে নির্বাচন থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছি। আমি কিছু জানি না।’

তবে প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশিদ ও তাজুল ইসলাম চৌধুরী জাপার নির্বাচনী ইশতেহার প্রণয়নের কাজটি করছেন বলে দলীয় সূত্র জানায়। সূত্র জানায়, জাপার নির্বাচনী ইশতেহারের মূল শ্লোগান থাকছে ‘শান্তির জন্য পরিবর্তন, পরিবর্তনের জন্য জাতীয় পার্টি’। এ ছাড়া সংসদীয় শাসন ব্যবস্থার পরিবর্তে রাষ্ট্রপতি শাসিত ব্যবস্থা চালু, নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী করা ও আনুপাতিক হারে নির্বাচনী ব্যবস্থা চালুর অঙ্গীকার থাকছে। এবং জাপা ক্ষমতায় গেলে সংবিধান সংশোধন করে রাষ্ট্রপতি শাসিত শাসন ব্যবস্থাসহ অন্যান্য অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করা হবে বলে ঘোষণা থাকবে ইশতেহারে।

এ বিষয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়া জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশিদ দ্য রিপোর্টকে বলেন, ‘ইশতেহার তৈরি হয়ে গেছে। যেকোনো সময় আপনাদের জানানো হবে।’

এদিকে ওয়ার্কার্স পার্টির ইশতেহারের ভূমিকাতেই দাবি করা হয়েছে, রাজনৈতিক গূরুত্বের দিক দিয়ে এবারের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন শুধুমাত্র নির্বাচনী সংগ্রাম নয়, এই সংগ্রামে নিহিত রয়েছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ধারাবাহিকতা রক্ষাসহ অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক শক্তির বিকাশ। এ দেশের গরিব মেহনতি মানুষের পার্টি হিসেবে স্বৈরতন্ত্র, সামরিকতন্ত্র, মৌলবাদ জঙ্গিবাদবিরোধী সংগ্রামসহ সাম্রাজ্যবাদবিরোধী সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে।

ইশতেহারে ২৪টি খাতকে গুরুত্ব দিয়ে সেগুলো বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেছে ওয়ার্কার্স পার্টি। বিশেষ করে খাদ্য নিরাপত্তা, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান ও দারিদ্র্য নিরসন, কৃষক ও ক্ষেতমজুর প্রসঙ্গ, শিল্প, শ্রমিক, কর্মচারীদের সাবলম্বীকরণ, সাম্রাজ্যবাদবিরোধী আন্দোলন, তেল-গ্যাস, খনিজ, সম্পদ রক্ষা, পরিবেশ সুরক্ষা, আইন-বিচার ও আদালতের সংস্কার, নারী-পুরুষের বৈষম্যহীন সমতা, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ ইত্যাদি অঙ্গীকার থাকবে।

ইশতেহারের বিষয়ে ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান মল্লিক বলেন, ‘অসাম্প্রদায়িক ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে প্রাধান্য দিয়ে নির্বাচনী ইশতেহার প্রণয়ন করা হয়েছে। ৩০ ডিসেম্বর ইশতেহার প্রকাশ করা হবে।’

উল্লেখ্য, ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে ওয়ার্কার্স পার্টির ১৪ জন হাঁতুড়ি প্রতীকে ও ৪ জন নৌকা প্রতীকে অংশ নিচ্ছেন।

জাসদের ইশতেহার তৈরির কাজও প্রায় শেষ বলে জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য শিরিন আকতার। তিনি জানিয়েছেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার থাকছে জাসদের ইশতেহার। এবারের ইশহারটি মূলত হবে জঙ্গিবাদ ও মৌলবাদের অভিশাপমুক্তির অঙ্গীকার।’

৫ জানুয়ারির নির্বাচনে জাসদের ২৬ জন প্রার্থী প্রতিন্দন্দ্বিতা করেছেন। এদের মধ্যে জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুসহ নৌকা প্রতীকের ৩ জন বিনা প্রতিন্দন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। নরসিংদী থেকে নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করছেন জায়েদুল কবির। এ ছাড়া ১৯ জন মশাল প্রতীকে ও ৩ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেব নির্বাচন করছেন।

(দ্য রিপোর্ট/এসএ/আইজেকে/ডিসেম্বর ২৮, ২০১৩)