দ্য রিপোর্ট প্রতিবেদক : ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’ কর্মসূচি সফল করতে যেখানে হাজার-হাজার, লাখ-লাখ বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের পদভারে ও স্লোগানে উত্তাল থাকার কথা পুরো নয়াপল্টন এলাকা, সেখানে নেতাকর্মীদের স্থানদখল করে নিয়েছে র‌্যাব-পুলিশ-গোয়েন্দা সংস্থাসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য ছাড়া আরও রয়েছেন দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমের কর্মীরা। তবে এখনও দেখা যায়নি রাজপথ কাঁপানো আন্দোলনকর্মীদের। দেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের লোহার কলাপসিবল গেটে আগের মতোই ঝুলছে তালা। কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে আছে শুধু পুলিশ।

নয়াপল্টন এলাকা র‌্যাব-পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সদস্যদের দিয়ে জাল ফেলা হয়েছে। পুরো এলাকায় চলছে তাদের কঠোর নজরদারি। এলাকার বিভিন্ন স্থানে রয়েছে লোহার কাটাতারের ব্যারিকেড।

দেখা গেছে, ১৮ দলের রবিবারের কর্মসূচি এখনও অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকলেও এর খবর সরাসরি সম্প্রচার করতে ইলেক্ট্রনিক মিডিয়াগুলোর কর্মীদের কার্যালয় প্রাঙ্গণে ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। অনেক বেসরকারি টেলিভিশনের কর্মীরা রাত জেগে কাজ করছেন। এছাড়াও রয়েছেন বিভিন্ন প্রিন্ট ও অনলাইন মিডিয়ার কর্মীরাও।

এদিকে, ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’র গণতান্ত্রিক অভিযাত্রাকে কেন্দ্র করে যে কোনো ধরনের নাশকতা এড়াতে রাজধানীজুড়ে র‌্যাব-পুলিশের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। র‌্যাবের পাশাপাশি কিছুক্ষণ পর পর চলছে যৌথবাহিনীর টহল। বিভিন্ন স্থানে রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে পথচারীসহ যানবাহনের যাত্রীদের তল্লাশি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন আবাসিক হোটেল, মেস ও বাসা-বাড়িতেও চলছে ব্যাপক তল্লাশি।

শনিবার রাতে রাজধানীর নয়াপল্টন, বিজয়নগর, কাকরাইল, ফকিরেরপুল, দৈনিক বাংলা, বায়তুল মোকাররম, গুলিস্তান, মতিঝিল, কমলাপুর, সায়েদাবাদ, যাত্রাবড়ী, মালিবাগ, মগবাজার, রামপুরা, বাড্ডা, ফার্মগেট, মিরপুর, গাবতলীসহ বিভিন্ন সড়কে একাধিক চেকপোস্ট বসিয়েও তল্লাশি চালিয়েছে পুলিশ। পাশাপাশি চলছে গণগ্রেফতারও।

পুলিশ জানিয়েছে, ১৮ দলের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে নাশকতা ঘটতে পারে। এ জন্য সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসা ও তল্লাশি করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে ডিএমপির মুখপাত্র ও পুলিশের যুগ্ম-কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘কর্মসূচিকে ঘিরে নাশকতার তথ্য রয়েছে গোয়েন্দাদের হাতে। যে কোন ধরনের নাশকতা এড়াতে তাই প্রস্তুত রয়েছে পুলিশ। জনগণের জানমালের নিরাপত্তায় নাশকতাকারীদের গ্রেফতারে আমরা একটি বিশাল তালিকা নিয়ে অভিযান চালাচ্ছি। এ জন্য সন্দেহভাজন এলাকা ও স্থানগুলোতে বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে।’

(দ্য রিপোর্ট/টিএস/এমএআর/ডিসেম্বর ২৯, ২০১৩)