দ্য রিপোর্ট প্রতিবেদক : আগামী ৫ জানুয়ারির দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের ৫৯ জেলার ১৪৬ আসনে সশস্ত্রবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা নিয়ে পরিপত্র জারি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এতে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা জোরদারে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় প্রয়োজনে মেটাল ডিটেক্টর ব্যবহারের পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।

ইসির আইনশৃঙ্খলা বৈঠকের সিদ্ধান্তের আলোকে স্বরাষ্ট্র মণ্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব সি কিউ কে মুসতাক আহমদ গত বৃহস্পতিবার পরিপত্রটি জারি করেন।

৫ জানুয়ারি ভোটের আগে দশম সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্দেশনায় বলা হয়, বৃহস্পতিবার থেকে নির্বাচনী কাজে নিয়োজিত হয়েছে সশস্ত্রবাহিনী। জয়পুরহাট, রাজবাড়ী, মাদারীপুর, শরিয়তপুর ও চাঁদপুর জেলা ছাড়া অন্য নির্বাচনী এলাকায় ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত ১৫ দিনের জন্য স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে থাকবে সশস্ত্র বাহিনী।

র‌্যাব ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন ১ জানুয়ারি থেকে ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত এবং বিজিবি ও কোস্টগার্ড ৩ জানুয়ারি থেকে ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে নিয়োজিত থাকবে। ব্যাটালিয়ন আনসাররা সহযোগী ফোর্স হিসেবে পুলিশের সঙ্গে মোবাইল টিমে দায়িত্ব পালন করবে।

এছাড়া ভোটের দুই দিন আগে থেকে ভোটের পরদিন পর্যন্ত ভোটকেন্দ্রে পুলিশ নিয়োজিত থাকবে এবং অঙ্গীভূত আনসার থাকবে ভোটের তিনদিন আগে থেকে ভোটের পরদিন পর্যন্ত। গ্রাম পুলিশও মোতায়েন থাকবে ভোটকেন্দ্রে।

মেট্রোপলিটন এলাকার সাধারণ ভোটকেন্দ্রে ১৬ জন ও গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ১৮ জন, মেট্রোপলিটন এলাকার বাইরে ভোটকেন্দ্রগুলোয় ১৪ জন করে এবং বিশেষ এলাকায় (পার্বত্য ও দীপাঞ্চল, হাওড়) সাধারণ কেন্দ্রে ১৫ জন ও গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ১৬ জন করে পুলিশ, আনসার, ভিডিপি, গ্রাম পুলিশ মোতায়েন থাকবে।

রিটার্নিং অফিসারের সঙ্গে পরামর্শ করে পুলিশ কমিশনার বা পুলিশ সুপার স্থানীয় গুরুত্ব বিবেচনা করে প্রয়োজন অনুসারে ভোটকেন্দ্রে পুলিশের সংখ্যা বৃদ্ধি করবে বলে পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়।

উল্লেখ্য, জাতীয় সংসদের ১৫৪ আসনে একক প্রার্থীদের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়েছে। বাকি ১৪৬ আসনে ৫ জানুয়ারি ভোটগ্রহণ হবে। এসব আসনে ১৮ হাজারের বেশি ভোট কেন্দ্র রয়েছে।

সশস্ত্র বাহিনী ও র‌্যাব হেলিকপ্টার ব্যবহার করবে

আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনে র‌্যাব হেলিকপ্টার ব্যবহার করতে পারবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণায়, ইসি সচিবালয় ও বাহিনীগুলোর অনুরোধে বিমানবাহিনী প্রয়োজনীয় সংখ্যক হেলিকপ্টার সহায়তা দেবে। স্ব স্ব বাহিনীর সদরের নির্দেশ অনুযায়ী রোগী/হতাহতদের জরুরি চিকিৎসা, স্থানান্তরে প্রয়োজনীয সংখ্যক হেলিকপ্টার সুবিধাজনক স্থানে মোতায়েন করবে বিমানবাহিনী।

সেনা সদরের বিবেচনায় প্রতিটি স্তরে প্রয়োজনীয় সংখ্যক সেনা সদস্য রিজার্ভ হিসেবে মোতায়েন থাকবে।

তাছাড়া দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে নির্বাচন কর্মকর্তা, নির্বাচনী মালামাল পাঠাতেও হেলিকপ্টার প্রয়োজন হয়। এলক্ষ্যে নির্বাচনের কয়েকদিন আগে থেকে নির্বাচনের পরের দিন পর্যন্ত হেলিকপ্টার সার্ভিস দিতে সশস্ত্রবাহিনী বিভাগ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

‘ঝুঁকিপূর্ণ’ এলাকায় প্রয়োজনে মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে চেকিং করারও সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি।

ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে আসতে পারেন সেজন্য পরিবেশ তৈরি করতে ভ্রাম্যমাণ সব ইউনিটকে নিবিড় টহল দিতে বলা হয়েছে। যেকোনো প্রকার অশুভ কার্যকলাপ প্রতিরোধে সজাগ থাকার কথাও পরিপত্রে বলা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় প্রয়োজনে মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে চেকিংয়ের ব্যবস্থা করার কথাও বলা হয়েছে।

নিষেধাজ্ঞা

৪ জানুয়ারি রাত ১২টা থেকে ভোটের দিন ৫ জানুয়ারি মধ্যরাত পর্যন্ত অননুমোদিত যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকবে। ৩ জানুয়ারি থেকে ৭ জানুয়ারি মোটরসাইকেল চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। লাইসেন্সধারী অস্ত্র নিয়ে চলাচলে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে ২২ ডিসেম্বর থেকে ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত।

ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে এবং ভোট শেষ হওয়ার ৪৮ ঘণ্টা সময়ের মধ্যে নির্বাচনী এলাকায় কোনো সভা, সমাবেশ, শোভাযাত্রা করা যাবে না।

ভোটে বিচারিক হাকিম নিয়োগ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মপরিধি, প্রশাসন ব্যবস্থাপনা, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা ও প্রার্থীর এজেন্ট নিয়োগ, ফলাফল প্রকাশ বিষয়ে ইসির নির্দেশনা অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের আইনানুগভাবে কাজ করতে বলেছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়।

(দ্য রিপোর্ট/এমএস/জেএম/রাসেল/ডিসেম্বর ২৯, ২০১৩)