দিরিপোর্ট২৪প্রতিবেদক: ক্ষমতাসীন সরকারের শেষ সময় এসে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন খাতের চার প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও একটি প্রকল্পের উদ্বোধন করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৩১ অক্টোবর বৃহস্পতিবার এগুলোর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও উদ্বোধন করবেন।

এসব প্রকল্পের জন্য বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে ৩৫ হাজার কোটি টাকার চুক্তি হয়েছে বলে জানান যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। মন্ত্রণালয়ে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের অগ্রগতি পর্যালোচনা বৈঠক শেষে যোগাযোগমন্ত্রী সাংবাদিকদের রবিবার এ তথ্য জানান।

ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট লাইন-৬ (মেট্রো রেল), বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) ও জয়দেবপুর-চন্দ্রা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর বৃহস্পতিবার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। একইদিনে নবীনগর-ডিইপিজেড-চন্দ্রা চার লেন মহাসড়ক উদ্বোধন করা হবে।

এ ছাড়া ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দ্বিতীয় কাঁচপুর, দ্বিতীয় মেঘনা এবং দ্বিতীয় গোমতী সেতু নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তরও ওই দিন উদ্বোধন করা হবে বলে জানান যোগাযোগমন্ত্রী।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রকল্পগুলোর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হচ্ছে না। নির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ীই ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হচ্ছে। তবে এই প্রকল্পগুলো নেকস্ট জেনারেশন প্রজেক্ট।’

যোগাযোগ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মেট্রো রেল প্রকল্পের নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা। ২০ দশমিক ০১ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের (উত্তরার উত্তর থেকে পল্লবী মিরপুর হয়ে শাপলা চত্বর পর্যন্ত) প্রকল্পটি হবে বাংলাদেশের প্রথম দ্রুতগতি ও উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন গণপরিবহন ব্যবস্থা। উভয় দিকে ঘণ্টায় ৬০ হাজার যাত্রী পরিবহন করতে সক্ষম হবে।

একই সূত্রে জানা যায়, গাজীপুর থেকে এয়ারপোর্ট পর্যন্ত বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে দুই হাজার ৩৯ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০১২ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০১৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত।

ওই সূত্রে আরও জানা যায়, জয়দেবপুর-চন্দ্রা-টাঙ্গাইল-এলেঙ্গা পর্যন্ত সড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়েছে চলতি বছরের এপ্রিল থেকে ২০১৮ সালের মার্চ পর্যন্ত। ৭০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এ সড়কের নির্মাণ কাজে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৭৮৮ কোটি টাকা।

এদিকে নবীনগর-চন্দ্রা সড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। ৩১ অক্টোবর তা উদ্বোধন করা হবে। ১৬ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এ সড়কের নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ১৩০ কোটি টাকা।

এ ছাড়া ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দ্বিতীয় কাঁচপুর, দ্বিতীয় মেঘনা এবং দ্বিতীয় গোমতী সেতু প্রকল্পের আওতায় ৩৯৬.৫ মিটার দৈর্ঘে্যর কাঁচপুর সেতুসহ ৭০৩.৫ মিটার এপ্রোচ সড়ক, ৯৩০ মিটার দীর্ঘ মেঘনা সেতুসহ ৮৭০ মিটার এপ্রোচ সড়ক এবং ১৪১০ মিটার দীর্ঘ গোমতী সেতুসহ ১০১০ মিটার এপ্রোচ সড়ক নির্মিত হবে।

এ প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৮ হাজার ৪৮৭ কোটি টাকা। প্রকল্পের বাস্তবায়ন কাল ধরা হয়েছে ২০১৩ সালের এপ্রিল থেকে ২০২১ সালের অক্টোবর পর্যন্ত।

(দিরিপোর্ট২৪/রানা মাসুদ/আইজেকে/এমডি/অক্টোবর ২৭, ২০১৩)