thereport24.com
ঢাকা, বুধবার, ১৭ জুলাই ২০১৯, ২ শ্রাবণ ১৪২৬,  ১৩ জিলকদ  ১৪৪০

নুসরাত হত্যা: মাদরাসা পরিচালনা কমিটি বাতিল

২০১৯ এপ্রিল ২০ ০০:৩২:৫০
নুসরাত হত্যা: মাদরাসা পরিচালনা কমিটি বাতিল

দ্য রিপোর্ট প্রতিবেদক : নুসরাত জাহান রাফি হত্যার ঘটনায় ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার পরিচালনা কমিটি বাতিল করা হয়েছে। শুক্রবার পরিচালনা বাতিল করে আহ্বায়ক কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছে ইসলামি আরবী বিশ্ববিদ্যালয়।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, গভর্নিং বডির সভাপতিসহ একাধিক সদস্য নুসরাতের নিপীড়নের ঘটনা জানলেও তা ধামাচাপা দিয়েছেন। এতে নিপীড়ক অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলা পার পেয়ে যান। এর জেরে নুসরাতকে প্রাণ দিতে হয়।

ফেনীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক পিকেএম এনামুল করিম জানান, আরবী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জেলা প্রশাসনকে কমিটি বাতিলের কথা জানিয়ে দিয়েছেন। শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় লিখিত আদেশ এখনও পাওয়া যায়নি। খোলার দিন রেজিস্ট্রারের নির্দেশ হাতে আসবে বলে তিনি জানান।

গত সেপ্টেম্বরে এই মাদরাসার পরিচালনা পর্ষদের ১২ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে চারজন অভিভাবক সদস্য, তিনজন শিক্ষক প্রতিনিধি, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, একজন শিক্ষানুরাগী, একজন দাতা সদস্য, অধ্যক্ষকে সদস্যসচিব এবং ফেনীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে সভাপতি করা হয়।

দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, নুসরাত হত্যায় গভর্নিং বডির সদস্যদের জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠায় কমিটি বাতিল করা হয়েছে। নুসরাতের বাবা ও মাদরাসার অন্য ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পরিবারের সদস্যরা গভর্নিং বডির সভাপতির কাছে লিখিতভাবে অধ্যক্ষ সিরাজের কুকর্মের তথ্য তুলে ধরে দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন। ওই অভিযোগের অনুলিপি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা চেয়ারম্যান ও গভর্নিং বডির অন্য সদস্যদেরও দেওয়া হয়। সিরাজের সব কুকর্ম জেনেও নির্দয়ভাবে নিশ্চুপ ছিল গভর্নিং বডি।

গত ৬ এপ্রিল সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসায় আলিম প্রথমপত্রের পরীক্ষা দিতে যান নুসরাত। তিনি এই মাদরাসার এবারের আলিম পরীক্ষার্থী ছিলেন। এর আগে ২৭ মার্চ মাদরাসাটির অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলার হাতে যৌন হয়রানির শিকার হন নুসরাত। এ ঘটনায় তার মা বাদী হয়ে সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। মামলা তুলে নিতে আসামিপক্ষ নানাভাবে চাপ প্রয়োগ করে। নির্যাতনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন নুসরাত। এর জের ধরেই তাকে ডেকে নিয়ে শরীরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ৮০ শতাংশ পোড়া শরীর নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে পাঁচ দিন লড়ার পর মারা যান নুসরাত।

নুসরাতকে পুড়িয়ে হত্যার মামলাটি তদন্ত করছে পিবিআই। এ পর্যন্ত অধ্যক্ষ সিরাজ, মাদরাসাছাত্র নুর উদ্দিন, শাহাদাত, জোবায়ের আহম্মেদ, জাবেদ হোসেন, মাদরাসাছাত্রী উম্মে সুলতানা পপি এবং সোনাগাজী পৌরসভার কাউন্সিলর ও পৌর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাকসুদ আলমসহ ১৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে এজাহারভুক্ত সাতজন আসামি। তাদের মধ্যে নুর উদ্দিন ও শাহাদাত রোববার রাতে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নুর উদ্দিন ও শাহাদাতের জবানবন্দিতে সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রুহুল আমিনের নাম উঠে এসেছে। যৌন হয়রানি মামলায় অধ্যক্ষ সিরাজ গ্রেফতার হওয়ার পর তারই নির্দেশে নুর উদ্দিন ও শাহাদাত অধ্যক্ষের মুক্তির দাবিতে আন্দোলনে নামে। নুসরাতের শরীরে আগুন দেওয়ার পর মোবাইল ফোনে রুহুল আমিনকে প্রথম জানিয়েছিল শাহাদাত। দু'জনের মধ্যে মাত্র ছয় সেকেন্ড কথা হয়েছিল। পরে শুক্রবার সোনাগাজী পৌর এলাকার নিজ বাড়ি থেকে রুহুল আমিনকে গ্রেফতার করে পিবিআই।

(দ্য রিপোর্ট/একেএমএম/এপ্রিল ২০,২০১৯)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

শিক্ষা এর সর্বশেষ খবর

শিক্ষা - এর সব খবর