thereport24.com
ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই ২০১৯, ৮ শ্রাবণ ১৪২৬,  ১৯ জিলকদ  ১৪৪০

চীনে ইসলাম ধর্মের উপর আঘাত কেন?

২০১৯ মে ১০ ১৬:১২:২৮
চীনে ইসলাম ধর্মের উপর আঘাত কেন?

মফিজুল ইসলাম

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম টাইম ম্যাগাজিন জানায়, স্যাটেলাইটের মাধ্যমে তোলা ছবিতে চীনের পশ্চিমাঞ্চলের শিনজিয়াং প্রদেশের ৯১টি ইসলামিক স্থাপনার অবস্থা পরীক্ষা করে দেখা যায়, ২০১৬ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে ৩১টি মসজিদ ধ্বংস করা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে ১৫টি স্থাপনা 'সম্পূর্ণ বা প্রায় সম্পূর্ণ' গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে কিরগিলিক মসজিদ ছিল অন্যতম বৃহৎ মসজিদ। সেখানে সরকারের তীব্র দমন-নিপীড়নের মধ্যে বাস করছেন সংখ্যালঘু মুসলিম উইঘুর অধ্যুষিত প্রদেশটির মুসলিমরা।

এদিকে এ অঞ্চলের মুসলিমদের রমজানে রোজা রাখার উপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। রোজা রাখলে জোর করে খাবার খাইয়ে দেওয়া হয়। পাশাপাশি মুসলিম মালিকদের রেস্তোরাঁ খোলা রাখার নির্দেশনা আছে। উইঘুরের মানবাধিকার সংগঠনগুলো মনে করে, এর ফলে জাতিগত উত্তেজনা বাড়বে। গত কয়েক বছরে এ প্রদেশে জাতিগত দাঙ্গায় শত শত মানুষ মারা গেছেন।

সম্প্রতি বিবিসি জানিয়েছে, সম্প্রতি মোবাইল আপ দিয়ে উইঘুর মুসলিমদের উপর নজরদারি করা হচ্ছে। যারা সরকারের অনুমতি না নিয়ে হজ্জ্বে গেছেন, যারা খুব বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন, যাদের কোন পরিচিতজন বিদেশ থাকেন, যারা লোকজনের সাথে বেশি মেলামেশা করেন না এবং বাড়ির সামনের দরজা দিয়ে কম বের হন, এরকম লোকদের উপর বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে। এমনকি প্রতিবেশিদের সাথে যোগাযোগসহ নিত্য দিনের আচরণ ও গতিবিধিও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের রিপোর্ট অনুযায়ী, চীনা কর্মকর্তারা ৩৬ ধরণের লোকের উপর নজর রাখা ও তাদের তথ্য সংরক্ষণ করার জন্য অ্যাপটিকে কাজে লাগাচ্ছে।

সেখানে সংখ্যালঘু মুসলিমদের মদ আর শুকরের মাংস খেতে বাধ্য করা হচ্ছে, যা মুসলিম আইনে নিষিদ্ধ। খবর-ইয়েনি শাফাক।

স্থানীয় শিঞ্জিয়ানরা বলেন, আমরা যদি নতুন বছরে রাতের খাবারে শুকরের মাংস না খাই তাহলে কারিগরি শিক্ষাকেন্দ্রের নামে বন্দিশিবিরে আটকে রাখার হুমকি দিচ্ছে চীনা কর্তপক্ষ। এছাড়া লম্বা দাঁড়ি ও মুখঢাকা পোশাক নিষিদ্ধ করা হয়েছে প্রদেশটিতে।

মানবাধিকার গ্রুপগুলোর মতে, চীনে উইঘুর মুসলিমরা তীব্র নির্যাতনের স্বীকার। জাতিসংঘ বলেছে, তাদের কাছে বিশ্বাসযোগ্য রিপোর্ট আছে যে, প্রায় ১০ লক্ষ উইঘুর মুসলিমদের শিনজিয়াং এ বন্দিশিবিরে আটক রাখা হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠগুলো বলছে, এসব বন্দিশিবিরে যাদেরকে আটকে রাখা হয়েছে তাদেরকে চীনা মান্ডারিন ভাষা শেখানো হচ্ছে। বলা হচ্ছে, প্রেসিডেন্ট শিজিনপিং-এর অনুগত থাকতে এবং তাদের নিজেদের ধর্মীয় বিশ্বাসের সমালোচনা করতে অথবা সেই ধর্ম পরিত্যাগ করতে।

সংখ্যালঘু মুসলিমদের উপর দমন-নিপীড়ন চালানোর অভিযোগে সারা বিশ্বের তীব্র সমালোচনার সম্মুখীন হচ্ছে কমিউনিস্ট দেশ চীন। তবে বিবৃতি দিয়ে নিন্দা বা উদ্বেগ প্রকাশ করা ছাড়া কোন দেশ আর কিছুই করেনি। চীনের কমিউনিস্ট সরকার এতে কর্ণপাত না করে বরং সংখ্যালঘু মুসলিমদের উপর নির্যাতন দিন দিন বাড়িয়ে চলেছে।

আমরা মনে করি, নির্যাতন করে বা কারো মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করে কোন লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব নয়। বরং যার যে প্রাপ্য অধিকার তা তাকে দিলে সবার জন্যই কল্যানকর এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত হয়। এজন্য চীন সরকারকে আমরা সংখ্যালঘু মুসলিমদের উপর দমন-নিপীড়ন বন্ধ করার জোর দাবী করি। সাথে সাথে বিশ্বের প্রভাব বিস্তারকারী শক্তিশালী রাস্ট্রগুলোকে এ ব্যাপারে কার্যকর ভূমিকা পালন করার আহবান জানাই।

লেখক: ব্যাংকার ও কলামিস্ট

(দ্য রিপোর্ট/একেএমএম/ মে ১০,২০১৯)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

সংবাদ পর্যালোচনা এর সর্বশেষ খবর

সংবাদ পর্যালোচনা - এর সব খবর