thereport24.com
ঢাকা, রবিবার, ৮ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬,  ৯ রবিউস সানি 1441

আশুরা পালিত

২০১৯ সেপ্টেম্বর ১০ ২৩:৪৬:১৩
আশুরা পালিত

দ্য রিপোর্ট প্রতিবেদক: বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও যথাযোগ্য ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পবিত্র আশুরা পালিত হয়েছে । তবে মঙ্গলবার ইরাকের কারবালায় মিছিলে পদপিষ্ট হয়ে ৩১ জনের মৃত্যু বিশ্ববাসীর মতো বাংলাদেশের মানুষকে শোকাহত করে তোলে।

সারা বিশ্বের মুসলিম উম্মাহর জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও শোকাবহ এক দিন আজ। এ দিনটি (১০ মহররম) পবিত্র আশুরা নামে পরিচিত। হিজরি ৬১ সনের এই দিনে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে যুদ্ধ করতে গিয়ে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর নাতি হজরত ইমাম হোসাইন (রা.) এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরা কারবালার ময়দানে ইয়াজিদের সৈন্যদের হাতে শহীদ হন।

শান্তি ও সম্প্রীতির ধর্ম ইসলামের মহান আদর্শকে সমুন্নত রাখতে হজরত ইমাম হোসাইনের (রা.) আত্মত্যাগ মানবতার ইতিহাসে সমুজ্জ্বল হয়ে আছে। কারবালার শোকাবহ ঘটনা অন্যায় ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে এবং সত্য ও সুন্দরের পথে চলতে প্রেরণা জোগায়।

১০ মহররমে অনেক ফজিলতময় ঘটনা ঘটেছে। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা নফল রোজা, নামাজ, জিকির-আসকারের মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করেন। মুসলিম বিশ্বে ত্যাগ ও শোকের প্রতীক হিসেবে দিনটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ পবিত্রতম দিবস। বাংলাদেশেও আজ যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদা ও নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পবিত্র আশুরা পালিত হয়েছে।

আশুরা উপলক্ষে মঙ্গলবার ছিলো সরকারি ছুটি। দেশব্যাপী বিভিন্ন সংগঠন আশুরা উপলক্ষে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে গতকাল সোমবার বাদ জোহর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে ‘আশুরার তাৎপর্য ও শিক্ষা’ শীর্ষক ওয়াজ ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। মাহফিলে বক্তব্য দেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম মাওলানা মুহাম্মদ মিজানুর রহমান।

পবিত্র আশুরা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, জাতীয় জীবনে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে পবিত্র আশুরা থেকে শিক্ষা নিতে হবে।

আশুরা উপলক্ষে পুরান ঢাকার হোসেনি দালানের সামনে থেকে সকালে বের হয় শিয়া সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী তাজিয়া মিছিল। কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে এই তাজিয়া মিছিল বের হয়।

কালো-লাল-সবুজের নিশান উড়িয়ে, কারবালার মাতম উঠেছে হাজার হাজার মানুষের মিছিলে। বুক চাপড়ে ‘হায় হোসেন, হায় হোসেন’ মাতমধ্বনি তুলে এগিয়ে যায় মিছিল, সবার পা খালি। ঢাকায় হোসেনি দালান ঘিরে শিয়াদের তাজিয়া মিছিলের ঐতিহ্য কয়েক শ বছরের।

তাজিয়া মিছিলটি বকশীবাজার, উর্দ্দুরোড, লালবাগ চৌরাস্তা, গৌর-এ শহীদের মাজার, আজিমপুর, নিউমার্কেট হয়ে জিগাতলা (ধানমন্ডি লেকের কাছে) গিয়ে শেষ হয়। পথের দুপাশে ছিল উৎসুক জনতার ভিড়। মানুষ ছাদে দাঁড়িয়ে, জানালা দিয়ে মিছিল উপভোগ করে। পুরো মিছিল ঘিরে ছিল পুলিশ, র‍্যাবসহ বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
পুবের আকাশে সূর্য উঁকি দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দলে দলে মানুষ এসে যোগ দেন তাজিয়া মিছিলে।

তাজিয়া মিছিল উপলক্ষে সকাল থেকেই বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান নেন হোসেনি দালানে। প্রতিটি ইমামবাড়া সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। সকালে মিছিলে আসা লোকজনকে আর্চওয়ে ও মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে দেহ তল্লাশি করে অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করানো হয়।

কারবালার বিয়োগান্ত ঘটনা স্মরণ করে বিশ্বের মুসলিম ধর্মাবলম্বীরা যথাযোগ্য মর্যাদায় দিনটি পালন করে থাকেন। শান্তি ও সম্প্রীতির ধর্ম ইসলামের মহান আদর্শকে সমুন্নত রাখতে তাঁদের এই আত্মত্যাগ মানবতার ইতিহাসে সমুজ্জ্বল রয়েছে। কারবালার শোকাবহ এই ঘটনা অর্থাৎ পবিত্র আশুরার শাশ্বত বাণী সবাইকে অন্যায় ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে এবং সত্য ও সুন্দরের পথে চলতে প্রেরণা জোগায়।

জাতীয় দৈনিকগুলো আশুরার তাৎপর্য নিয়ে বিশেষ প্রবন্ধ, নিবন্ধ প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ বিভিন্ন বেসরকারি রেডিও-টিভি চ্যানেল বিশেষ অনুষ্ঠান সম্প্রচার করছে।
(দ্য রিপোর্ট / টিআইএম/১০ সেপ্টেম্বর,২০১৯)

পাঠকের মতামত:

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

SMS Alert

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর