thereport24.com
ঢাকা, বুধবার, ২০ নভেম্বর ২০১৯, ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬,  ২১ রবিউল আউয়াল 1441

সাকিব-মুশফিক অধিনায়ক হতে চান না কেন?

২০১৯ অক্টোবর ০১ ১৫:৫০:২৮
সাকিব-মুশফিক অধিনায়ক হতে চান না কেন?

দ্য রিপোর্ট প্রতিবেদক: দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়কত্ব নিয়ে চলছে নানা আলোচনা। বিশেষ করে সম্প্রতি সাকিব আল হাসান ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের পৃথক মন্তব্যে বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে।

চট্টগ্রামে আফগানিস্তানের সঙ্গে টেস্টে হেরে যাওয়ার পর ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে নিজের হতাশা গোপন করেননি সাকিব। তিনি বলেন, আমাকে অধিনায়ক না রাখলেই ভালো হয়। যদি রাখা হয় সেক্ষেত্রে আমার কিছু বিষয়ে আলোচনা করা প্রয়োজন। যদিও সেই "কিছু বিষয়" নিয়ে গণমাধ্যমে খোলাসা করেননি বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা ক্রিকেটার। এর আগে দুবার সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়কত্ব নিয়ে অনাগ্রহের কথা জানান তিনি।

সদ্য সমাপ্ত ত্রিদেশীয় সিরিজ শেষে সংবাদ সম্মেলনে দলের সহঅধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ বলেন, যদি অধিনায়কত্বের সুযোগ আসে তা হলে সেটা নিতে তিনি প্রস্তুত আছেন।

অধিনায়কত্ব এখন 'অনীহার জায়গা'?
মুশফিকুর রহিম ২০১১-১৭ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন মেয়াদে বাংলাদেশের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন। মূলত ২০১৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট সিরিজের পর অধিনায়কত্ব হারান তিনি। এর মাঝে অল্প সময়ের জন্য মাহমুদউল্লাহকে ছয় ম্যাচে এবং তামিম ইকবালকে এক ম্যাচে অধিনায়ক করা হয়। কিন্তু ঘুরে ফিরে আবারও সাকিবকে অধিনায়কের দায়িত্ব দেয় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ২০১৭-১৮ মৌসুমে দুটো সিরিজে ছুটি চান তিনি। সেই সময়ই তাকে অধিনায়ক করে দেয়া হয়।

গত বছরের জুলাইয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে বিপর্যয়ের পর বিসিবি বস বলেন, টেস্ট ক্রিকেট খেলতে চান না সাকিব। তার দাবি ছিল, সিনিয়র ক্রিকেটারদের অনেকে টেস্ট ক্রিকেটে আগ্রহী নয়। যদিও ২০১৭ সালে সাকিব নিজেই বলেন, তার ইচ্ছা সবার শেষে টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নেয়া। টেস্টের আগে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট ছাড়বেন তিনি।

মুশফিক মূলত উইকেটের পেছনে দায়িত্ব পালন করেন। ব্যাটিংয়ে মনোযোগী হওয়ার কারণ দেখিয়ে অধিনায়কত্বের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন তিনি। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তাকে সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়কত্ব নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। জবাবে খানিকটা অভিমানের সুরে তিনি বলেন, অধিনায়ক হিসেবে তার আর দেয়ার কিছু নেই। আর অধিনায়ক হতে চান না।

অধিনায়কত্ব হারানোর পর গণমাধ্যমে অসন্তোষ প্রকাশ করেন মুশফিক। তাতে মনে হয়, তার অধিনায়কত্ব যেভাবে কেড়ে নেয়া হয়েছিল, সেটা ভালো লাগেনি। ওর অধিনায়কত্ব নিয়ে নানা কথা হলেও বাংলাদেশ টেস্ট ক্রিকেটে অন্যতম সফল অধিনায়ক তিনি।

বিশ্বকাপের পর ইনজুরিতে পড়েন ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। বিশ্রামে যান সহঅধিনায়ক সাকিব। ফলে শ্রীলংকা সফরে অধিনায়ক হওয়ার প্রস্তাব আসে মুশফিকের কাছে। তামিম সদ্য শেষ হওয়া ত্রিদেশীয় সিরিজে ছুটিতে ছিলেন। বিশ্বকাপের পর শ্রীলংকা সফরে ব্যর্থ হন তিনি। মানসিক চাপ কাটাতে ছুটি নেন বলে জানিয়েছেন ড্যাশিং ওপেনার।

মাশরাফি অবসর নেয়ার পর ওয়ানডে ক্রিকেটেও নতুন অধিনায়কের কথা ভাবতে হবে বোর্ডকে। বিশ্বকাপের পর হওয়া শ্রীলংকা সফরে তিনি ইনজুরিতে থাকায় সেই সিরিজে নেতৃত্ব দেন তামিম। সিরিজটিতে ৩-০ ব্যবধানে হারে বাংলাদেশ।

ক্রীড়া বিশ্লেষকদের সঙ্গে আলাপ করে বোঝা যাচ্ছে, বোর্ডের মধ্যে 'পেশাদারিত্বের অভাব'টাকেই দায়ী করছেন অনেকে। সাকিব খুব কম বয়সে দলের নেতৃত্ব দেন। মুশফিক সবসময় বলে আসছেন অধিনায়কত্ব উপভোগ করেন। তামিম বিভিন্ন মেয়াদে দলের সহঅধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন।

২০১৭ সালে সাকিবকে টেস্ট অধিনায়ক করা হয়। কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই মাহমুদউল্লাহকে সহঅধিনায়ক করে দেয়া হয়। এর আগেও ২০১৪ সালে এমন ঘটনা ঘটে। ২০১৭ সালে বোর্ড প্রেসিডেন্ট নাজমুল হাসান পাপনের কাছে তামিমের সহঅধিনায়কত্ব নিয়ে প্রশ্ন রাখা হয়। জবাবে বলেন, তিনি জানতেন না তামিম ভাইসক্যাপটেন ছিলেন।

'অধিনায়কত্ব চাপিয়ে দেয়ার ফল ভালো হবে না'
তবে অধিনায়কত্ব বিষয়টি কারও ওপর চাপিয়ে দেয়ার পক্ষে নয় বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও প্রধান নির্বাচক ফারুক আহমেদ। তিনি বলেন, অধিনায়ক হতে চাইলেই হয়ে যাবে ব্যাপারটি এমন নয়। আবার বোর্ড যদি কাউকে পছন্দ করে তারও ইচ্ছার ব্যাপার আছে। কোনো কিছু যদি চাপিয়ে দেয়া হয়; সেটির ফলও ভালো হবে না।

ক্রিকেট মাঠে অধিনায়কের দায়িত্ব অনেক বলে মনে করেন তিনি। এখানে শুধু যে মাঠের ভূমিকা প্রভাব ফেলে তা নয়। ফারুক আহমেদ বলেন, গোটা সিস্টেমে অধিনায়কের একটা সিদ্ধান্ত প্রভাব ফেলতে পারে। সাকিব খেলোয়াড় হিসেবে যতটা উচ্চতায় গেছে, অধিনায়ক হিসেবে কিন্তু ও রকম হয়নি। সে একবার ভারপ্রাপ্ত অধিনায়কত্ব করেছে, মাশরাফি তখন ইনজুরিতে ছিল। সিরিজ জিতেছে ঠিক। কিন্তু ও কখনও লম্বা সময় দায়িত্ব পালন করেনি।

সাকিব বোর্ডের সঙ্গে আলোচনার কথা বলেছে। এটা তাদের ঠিক করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। সাবেক টাইগার অধিনায়ক বলেন, সাকিবের সঙ্গে জিনিসটা ঠিক করা দরকার। কারণ দলে জায়গাটা তার নিশ্চিত। কিন্তু অধিনায়কত্ব করতে হবে খুশি মনে। সে হয়তো আরেকটু অথরিটি (কর্তৃত্ব) চায়। সেটি যদি বোর্ড দিতে না পারে তাও আলোচনা করে পরিষ্কার হওয়া উচিত।

মাহমুদউল্লাহকেও অধিনায়ক হওয়ার 'যোগ্য' বলে মনে করেন মি. আহমেদ। বিপিএলে খুলনা টাইটানসের হয়ে ভালো অধিনায়কত্ব করেছেন তিনি।

সিদ্ধান্ত কীভাবে হয়
অধিনায়কত্ব নিয়ে দ্বন্দ্ব তৈরি হয় কেন? এমন প্রশ্নে ক্রিকেট বোর্ডের অন্যতম পরিচালক আহমেদ সাজ্জাদুল আলম ববি বলেন, এ রকম সমস্যা হয় বলে আমি মনে করি না। মাঝেমধ্যে জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন অভিব্যক্তি আসে নানা সময়। এর মানে এই না যে, জোর করে দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, আমার ধারণা- এগুলো একটা প্রক্রিয়া। ক্রিকেট অপারেশন্স ও বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আলোচনা করেই সিদ্ধান্তে উপনীত হন।

সাকিবের বিষয়টি নিয়ে বোর্ডের ক্রিকেট অপারেশন্সের প্রধান আকরাম খান বলেন, এসব নিয়ে কথা বলছে মিডিয়া। সে ক্রিকেট অপারেশন্সকে অধিনায়কত্ব নিয়ে কিছুই জানায়নি। এটা নিয়ে আসলে তার আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগে কথা বলা উচিত হবে না।

তিনি বলেন, তামিম শুধু শ্রীলংকা ট্যুরে অধিনায়কত্ব করেন। কারণ তখন সাকিব যায়নি। আসার পর সে তা করছে। অফিশিয়ালি ও কিছুই জানায়নি। তাই আমরা এ বিষয়ে তেমন কিছুই ভাবছি না। যেহেতু দেশসেরা অলরাউন্ডার আছে, আমাদের সব পরিকল্পনা তাকে ঘিরে।

বাংলাদেশের অধিনায়কদের রেকর্ড
টেস্ট ফরম্যাটে বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল অধিনায়ক সাকিব। কমপক্ষে ১০টি টেস্ট ম্যাচে অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করা খেলোয়াড়দের মধ্যে তার সাফল্যের হার সবচেয়ে বেশি। ১৪টি ম্যাচের মধ্যে ৩টিতে জয় পায় বাংলাদেশ সাকিবের নেতৃত্বে। ওয়ানডেতে সাকিব দ্বিতীয় সফল অধিনায়ক। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ ৫০ ম্যাচের মধ্যে ২৩টিতে জয় পায়। আর টি-টোয়েন্টিতে তার নেতৃত্বে ২১টি ম্যাচের মধ্যে দল জয় পেয়েছে ৭টি ম্যাচে।

মুশফিক ৩৪ ম্যাচে অধিনায়কত্ব করেন। তার রেকর্ডও বেশ ভালো। ৭টি ম্যাচে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ তার নেত্বত্বে। এর মধ্যে অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড ও শ্রীলংকার বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচ জয় রয়েছে। ওয়ানডেতে ৩৭টি ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়ে ১১টি জয়ের দেখা পান তিনি। টি-টোয়েন্টিতে ২৩টি ম্যাচের মধ্যে ৮টি ম্যাচে জয় পেয়েছেন টাইগাররা।

ওয়ানডে ফরম্যাটে বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল অধিনায়ক মাশরাফি। ৮৫ ম্যাচে ৪৭টিতে জয় পায় দল তার নেতৃত্বে। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটেও তিনি এগিয়ে। ২০১৭ সালে সীমিত ওভারের এ ফরম্যাট থেকে অবসর নেন ম্যাশ। তার আগ পর্যন্ত তিনি অধিনায়কত্ব করেছেন ২৮টি ম্যাচে। যার মধ্যে ১০টি ম্যাচে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ।

(দ্য রিপোর্ট/আরজেড/অক্টোবর ০১,২০১৯)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

খেলা এর সর্বশেষ খবর

খেলা - এর সব খবর