thereport24.com
ঢাকা, সোমবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৯, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬,  ১৯ রবিউল আউয়াল 1441

বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস আজ

২০১৯ অক্টোবর ১৫ ১০:১৪:৫৪
বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস আজ

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক: কিছু সুঅভ্যাস আমাদের জীবন এবং স্বাস্থ্যকে সুস্থ সুন্দর রাখে। সুঅভ্যাসেই সুস্বাস্থ্য বা সুঅভ্যাসেই মুক্তি, এমন কতো কথাই তো আমরা শুনেছি। এই সুঅভ্যাসের মধ্যে নিয়মিত হাতধোয়া অন্যতম একটি। ছোটবেলা থেকে আমাদের গুরুজনেরাই খুব কড়াভাবে শিখিয়ে দিতো নিয়মিত হাত পরিস্কার করে ধোয়ার কথা। পরবর্তীতে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পর্যন্ত চালু হয়ে গেছে। তাহলে হাত ধোয়া আসলে কতোটা গুরুত্বপূর্ণ, সেটা আর নতুন করে বলে দিতে হয় না।

আমাদের সার্বিক সুস্থতা অনেকাংশে নির্ভর করে আমাদের নিজের সচেতনতার ওপর। আমরা অনেক সময়েই অলসতা, নিজেদের অনীহার কারণেই হাত না ধুয়েই খেতে বসে যাই বা অন্যের পরিচর্যা করি। এতে করে কতো ভয়ংকর রোগে আমরা আক্রান্ত হতে পারি, তার কোনো ঠিক নাই।

আজ বিশ্ব হাত ধোয়া দিবসে আপনাকে একটু সতর্ক করতে হাত ধোয়া নিয়ে থাকছে কিছু আলোচনা-

কখন ধুতে হবে হাত?
ঠাণ্ডা লাগলে বা ফ্লুর সিজনে হাত বার বার ধুতে হয়। এতে ফ্লু বা সর্দি-জ্বর লাগা অথবা ছড়ানো দুটোই ঠেকানো যায়।

প্রতিবার খাওয়ার আগে ও পরে ভালো করে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে ফেলা উচিত। নাক ঝাড়া, কফ ফেলা বা হাঁচি দেওয়ার পরেও অবশ্যই হাত ধোবেন।

খাদ্য প্রস্তুত করা বা পরিবেশনের আগে ও পরে ভালো করে হাত ধুয়ে নেওয়া উচিত। এতে ফুড পয়জনিং অনেকাংশেই প্রতিরোধ করা সম্ভব।

মুরগি বা গৃহপালিত পাখির মাংস, কাঁচা ডিম বা সি ফুড ধরা, খাবার তৈরি করার আগে ও পরে অবশ্যই হাত ধোয়া উচিত।

প্রতিবার বাথরুমে যাওয়ার পর ও ডায়াপার ব্যবহারের পর হাত না ধুলে সালমোনেলা বা হেপাটাইটিসের মতো সংক্রামক রোগের আক্রমণ ঘটতে পারে।

কীভাবে ধোবেন হাত
উষ্ণ ধারাপানি ও সাবান দিয়ে হাত কচলে ধোবেন। শিশুরা নাতিউষ্ণ পানির ধারায় হাত ধোবে। দুটি হাত কচলাতে ও ঘষতে হবে একনাগাড়ে অন্তত ২০ সেকেন্ড ধরে ধুতে হবে।

হাতের কবজি, হাতের পেছন দিক, আঙুলের ফাঁক ও নখের নিচে ভালো করে ধুতে হবে। এরপর কাগজের টাওয়েল দিয়ে হাত শুকিয়ে নিতে হবে।

পানির কল বন্ধ করার সময় কাগজের টাওয়েল দিয়ে ধরে বন্ধ করা ভালো। সাবান ও পানি না পাওয়া গেলে সংগ্রহ করা যায় জেল হ্যান্ড স্যানিটাইজার বা অ্যালকোহল হ্যান্ড ওয়াইপস।

হাত ধোয়ার ভুলত্রুটি
আমরা হাত ধুতে কতো ভুলই তো করি। হাতের দুই দিক সঠিকভাবে মাজি না, আঙুলের ফাঁকগুলো পরিষ্কার করি না, নখের নিচে বা কিনারে পরিষ্কার করি না এবং বুড়ো আঙুলের গোড়ার দিক মাজি না। অনেক সময় এক হাতে সাবান নিয়ে হালকা করে কচলিয়ে নিই। সাবান কিন্তু জীবাণু মারে না। সাবানের ফেনা হাতে লেগে থাকা ময়লা, চর্বি ও জীবাণুগুলোকে হাত থেকে আলগা করে ফেলে। আর তখন পানি দিয়ে সেগুলোকে সহজেই ধুয়ে পরিষ্কার করে ফেলা যায়। শুধু পানি দিয়ে যতই ঘষা হোক, ময়লা, চর্বি ও জীবাণু কখনোই পুরোপুরি পরিষ্কার হবে না।

বাইরে থাকার সময়
বাইরে এদিক ‍ওদিক ঘোরাঘুরির সময়ে হুট করে আমরা হাত না ধুয়েই টপ করে কিছু না কিছু খেয়ে ফেলি। হাতের জীবাণু বেমালুম পেটে চলে গেলো। আর বাইরে থাকলে বাইরের যাবতীয় ধুলাবালি, জীবাণু বেশি করে হাতে লেগে থাকে। ফলে সেগুলো আমাদের জন্য বেশি ক্ষতিকর। তাড়াহুড়া বা ক্ষুধার তাড়নায় কোনোরকম পানি দিয়ে হাত ধুয়ে বা কখনো না ধুয়ে খেতে বসে যাই আমরা। এতে পেটের রোগবালাই, জন্ডিস, টাইফয়েড হওয়ার ভয় থাকে।

তাই বাইরে থাকলেও হাত ধোয়ার ব্যাপারে আপনাকে আরও বেশি সতর্ক থাকতে হবে।

সঙ্গে সবসময় ওয়েট টিস্যুগুলো রাখবেন। ছোট হ্যান্ড স্যানিটাইজার গুলোও ব্যাগে রাখতে পারেন। জীবাণুনাশক ছোট সাবান বা সাবানের কুচিও সঙ্গে রাখতে পারেন। আবার বাজারে কাগজের সাবানগুলো পাওয়া যায়, সেগুলোও রাখতে পারেন। দামে কম, বহনেও সোজা।

আর বাইরে যেনতেন অপরিস্কার পানি দিয়ে হাত ধুবেন না। পানির ব্যাপারেও আপনাকে সচেতন থাকতে হবে। পানি যেন স্বাস্থ্যকর হয়।

সঙ্গে ছোট একটি তোয়ালে বা রুমাল রাখবেন। হাত ধোয়ার পর সুন্দর করে হাতদুটো মুছে নেওয়ার জন্য।

(দ্য রিপোর্ট/আরজেড/অক্টোবর ১৫,২০১৯)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর