thereport24.com
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬,  ১৩ রবিউস সানি 1441

সড়ক আইন : বিভিন্ন জেলায় আজও বাস বন্ধ

২০১৯ নভেম্বর ১৯ ১৫:০৬:৩০
সড়ক আইন : বিভিন্ন জেলায় আজও বাস বন্ধ

দ্য রিপোর্ট প্রতিবেদক: নতুন সড়ক পরিবহন আইন কার্যকর ঘোষণার পর আজও বিভিন্ন জেলায় বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।

মঙ্গলবার সকাল থেকে পিরোজপুর, ঝালকাঠি, সাতক্ষীরা, ঝিনাইদহ, মাদারীপুর, খুলনা, পাবনা, ময়মনসিংহ ও মেহেরপুরে কোনো বাস চলছে না।

ঝালকাঠি থেকে সংবাদদাতা জানান, নতুন সড়ক পরিবহন আইন বাস্তবায়নের প্রতিবাদে ঝালকাঠির আট রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে পরিবহন শ্রমিকরা।

সকাল থেকে ঝালকাঠি থেকে বরিশাল, বরিশাল থেকে ঝালকাঠি হয়ে খুলনা, বরিশাল থেকে ঝালকাঠি হয়ে পিরোজপুর, বরিশাল থেকে ঝালকাঠি হয়ে ভান্ডারিয়া, বরিশাল থেকে ঝালকাঠি হয়ে মঠবাড়িয়া, বরিশাল থেকে ঝালকাঠি হয়ে পাথরঘাটা, ঝালকাঠি-আমুয়া, ও ঝালকাঠি-ঢাকার বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।

কোনো ধরনের ঘোষণা ছাড়াই হঠাৎ করে বাস মালিক সমিতি দূরপাল্লা ও অভ্যন্তরীণ সকল রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়ায় যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। তারা বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত অর্থ খরচ করে বিকল্প পরিবহনে তাদের গন্তব্যে যাত্রা করছেন।

ঝালকাঠি বাস মালিক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক নাসির উদ্দিন আহমেদ জানান, সড়ক পরিবহন আইন বাস্তবায়নের প্রতিবাদে শ্রমিকরা ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। তারা এ আইনের পরিমার্জনের দাবি জানিয়েছেন।

শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক বাহাদুর চৌধুরী জানান, সড়ক পরিবহন আইন শ্রমিকদের স্বাভাবিক জীবনের বিপরীতে। তাই আইন সংশোধনের দাবিতে আমরা আন্দোলন করছি।

এদিকে পিরোজপুর থেকে সংবাদদাতা জানিয়েছেন, নতুন সড়ক পরিবহন আইন বাস্তবায়ন ও সংশোধনের দাবিতে পিরোজপুর থেকে সব রুটের বাস চলাচল বন্ধ করেছে বাস ও মিনিবাসের শ্রমিকরা। সকাল থেকে শুরু হওয়া এ ধর্মঘটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা।

পরিবহন শ্রমিক নেতারা বলছেন, সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও আইনটি সংশোধন ছাড়াই বাস্তবায়নের ঘোষণা দেওয়া হয়। এতে শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।

পিরোজপুর জেলা বাস মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়ন সভাপতি আলমগীর হোসেন বলেন, নতুন সড়ক পরিবহন আইন কার্যকরের প্রতিবাদে শ্রমিকরা বাস চালাচ্ছেন না। তারা অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি শুরু করেছেন।

পিরোজপুর জেলা বাস, মিনিবাস, কোচ মালিক সমিতির আহবায়ক রতন ঠাকুর বলেন, নতুন সড়ক আইনে ফাঁসি ও যাবজ্জীবন দণ্ডের ভয়ে শ্রমিকরা গাড়ি চালানো বন্ধ করে দিয়েছেন। এখানে মালিকদের কিছু করার নেই ।

অন্যদিকে চলাচলের মাধ্যম হিসেবে যাত্রীরা বেছে নিচ্ছেন ইজিবাইক, অটোরিকশা ও ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল। দূরের যাত্রীরা ভিড় করছেন বিআরটিসির কাউন্টারগুলোতে।

সাতক্ষীরা সংবাদদাতা জানান, নতুন সড়ক পরিবহন আইন বাস্তবায়নের প্রতিবাদে দ্বিতীয় দিনের মত সাতক্ষীরার সকল রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।

পরিবহন শ্রমিক নেতাদের দাবি, আইন সংশোধনের পর এটি বাস্তবায়ন করা হোক। এটা না করা পর্যন্ত এ ধর্মঘট অব্যাহত থাকবে।

এদিকে হঠাৎ করে সাতক্ষীরার সকল রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়ায় যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়েছেন। তারা অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে নছিমন, করিমন ও ইজিবাইকে গন্তব্যস্থলে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন।

সাতক্ষীরা জেলা বাস মিনিবাস মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি অধ্যক্ষ আবু আহমেদ জানান, নতুন সড়ক পরিবহন আইন বাস্তবায়নের প্রতিবাদে শ্রমিকরা বাস চালানো বন্ধ করে দিয়েছে। তারা চান, আগে এটি সংশোধন করা হোক। এরপর এটি বাস্তবায়ন করা হোক। শ্রমিকরা বাস চালানো বন্ধ করে দিলে মালিক পক্ষের কিছুই করার থাকে না।

ঝিনাইদহ সংবাদদাতা জানান, ঝিনাইদহের স্থানীয়সহ সকল রুটে বাস চলাচল বন্ধ রেখেছে বাস শ্রমিকরা।

সোমবার সকাল থেকে ঝিনাইদহ-যশোর, ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া, মাগুরা ও চুয়াডাঙ্গার অভ্যন্তরীন রুটে বাস চলাচল বন্ধ আছে।

মঙ্গলবার সকালে স্থানীয় রুট ছাড়াও ঢাকা-চট্রগ্রামগামী দুর-পাল্লার পরিবহনও চলাচল বন্ধ রাখে শ্রমিকেরা।

এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। বাস না পেয়ে অনেকে ইজিবাইক ও মহাসড়কে চলাচলে নিষিদ্ধ তিন চাকার যানবাহনে যাতায়াত করছেন। ঠিক সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন না চাকরিজীবীরা।

বাস চালকদের দাবি, নতুন সড়ক আইন সংশোধন করা হোক। সংশোধন না করা পর্যন্ত তারা বাস চালাবেন না।

মাদারীপুর সংবাদদাতা জানান, মাদারীপুরে সড়ক আইন সংশোধনের দাবিতে মঙ্গলবার সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্ম বিরতি পালন করছে পরিবহন শ্রমিকরা। কোন রকম পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই কর্ম বিরতি শুরু করায় ভোগন্তিতে পড়েছেন জেলার বিভিন্ন রুটের যাত্রীরা।

সংশ্লিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল থেকে মাদারীপুরের বিভিন্ন রুটের স্বল্প পাল্লার ও দূর পাল্লার পরিবহন বন্ধ করেছে দিয়েছে পরিবহন শ্রমিকরা।

তবে শ্রমিকদের দাবি, স্বেচ্ছায় কর্ম বিরতি করছেন তারা। বিদ্যমান আইনে দায়িত্বপালন করা সম্ভব নয়। তাই অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্ম বিরতি শুরু করেছেন তারা। আইন সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত তাদের এই কর্ম বিরতি চলবে।

মাদারীপুর সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান বলেন, গলায় ফাঁসির রশি নিয়ে শ্রমিকরা গাড়ি চালাবে না। এই আইন সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত অর্নির্দিষ্টকালের জন্য শ্রমিকরা কর্ম বিরতি পালন করবেন।

নতুন সড়ক আইন সংশোধন না করার প্রতিবাদে খুলনায় দ্বিতীয় দিনের মতো চলা ধর্মঘট নিয়ে নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, খুলনা থেকে রাজধানী ঢাকাসহ অভ্যন্তরীণ ও দূর পাল্লার সকল রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে । পরিবহন ধর্মঘটের কারণে যাত্রীদের সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

এদিকে, খুলনা থেকে বাস চলাচল বন্ধ থাকায় খুলনা রেল স্টেশনে যাত্রীদের তীব্র চাপ বেড়েছে। অনেক যাত্রী টিকিট না পেয়েও জোর করে ট্রেনে উঠছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে খুলনার সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনাল থেকে অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার কোনো যানবাহন ছেড়ে যায়নি। এ সুযোগে মাহিন্দ্র, মিনি পিকআপ, মাইক্রোবাসসহ ছোট গাড়িগুলোতে কয়েকগুণ বেশি ভাড়া দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে যাত্রীদের গন্তব্যস্থলে পৌঁছাতে হচ্ছে।

আন্দোলনরত বাস চালকরা বলছেন, নতুন আইনে দুর্ঘটনার জন্য চালকদেরই দায় নিতে হচ্ছে। পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা দিতে হবে। চালকরা ইচ্ছা করে দুর্ঘটনা ঘটায় না। তারপরও তাদের শাস্তি হবে। এ আইন মেনে নেওয়া যায় না। যার প্রতিবাদে চালকরা কর্মবিরতি পালন করছে।

এদিকে মঙ্গলবার সকালে খুলনা নগরীর সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনাল ও রয়্যালের মোড়ে বাসগুলো সারি সারি দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। যাত্রীরা এসে বাস চলাচল সম্পর্কে খোঁজখবর নিচ্ছেন। কিন্তু বাস চলাচল কখন শুরু হবে, কেউ তা বলতে পারছেন না।

মিজানুর রহমান নামের এক ব্যক্তি জানান, তার স্বজনরা ওমরা হজের জন্য ঢাকায় যাবেন। যে কারণে তারা রয়্যালের মোড় বাস কাউন্টারে এসে অপেক্ষা করছেন। কখন বাস ছাড়বে। কিন্তু বাস ছাড়ছে না। এখন কিভাবে যাবেন তাই নিয়ে ভীষণ চিন্তিত তারা।

খুলনা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. নুরুল ইসলাম বেবী বলেন, নতুন সড়ক পরিবহন আইন কার্যকরের প্রতিবাদে শ্রমিকরা দ্বিতীয় দিনের মতো বাস চালাচ্ছে না। তারা অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি শুরু করেছে। আইন সংশোধন না করা পর্যন্ত শ্রমিকরা ধর্মঘট চালিয়ে যাবেন।

সোমবার রাতে কিছু গাড়ি খুলনা থেকে ছেড়েছে আবার খুলনায় ঢুকেছে এমন প্রশ্নের উত্তরে বেবী বলেন, গতকাল ৯০ ভাগ বাস চলাচল বন্ধ ছিলো। কিন্তু আজকে (মঙ্গলবার) শতভাগ বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।

খুলনা জেলা বাস-মিনিবাস ও কোচ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আনোয়ার হোসেন সোনা বলেন, খুলনা থেকে কোনো রুটেই বাস চলাচল করছে না। সকল রুটেই বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।

পাবনা সংবাদদাতা জানিয়েছেন, জেলায় সকাল থেকে বাস চালক-শ্রমিকদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু হয়েছে। এতে করে পাবনা থেকে অভ্যন্তরীণ ও দুরপাল্লার রুটে বাস চলাচল আংশিক বন্ধ রয়েছে।

মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে পাবনার কেন্ত্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, কর্মবিরতি উপেক্ষা করে চালক শ্রমিকদের এক অংশ বাস চালাচ্ছেন। কিছু বাস ঢাকাসহ বিভিন্ন রুটে ছেড়ে যেতে দেখা যায়।

অপরদিকে, আরেকটি অংশ বাস চালানো থেকে বিরত থাকায় বন্ধ রয়েছে বাস চলাচল। তবে এ নিয়ে চালক শ্রমিকদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। যারা বাস চালাচ্ছেন তাদের বাধা দেন কর্মবিরতি পালন করা চালক শ্রমিকরা। এ নিয়ে কথা কাটাকাটি হয় চালক শ্রমিকদের মধ্যে।

ময়মনসিংহ সংবাদদাতা জানান, নতুন কার্যকর সড়ক পরিবহন আইন বাতিলের দাবিতে ময়মনসিংহ থেকে ঢাকাগামী দূরপাল্লার যানবাহন বন্ধ রয়েছে। পূর্ব ঘোষণা ছাড়া সকাল থেকে ঢাকাগামী যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছের যাত্রীরা।

তবে পরিবহনের মালিকরা বলছেন শ্রমিকরাই তাদের অনুমতি না নিয়েই বাস চলাচল বন্ধ রেখেছেন। তবে জেলায় অভ্যন্তরীণ রুটে বাস চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

মেহেরপুর সংবাদদাতা জানান, নতুন সড়ক আইন বাস্তবায়ন হওয়ায়সহ আইন সংশোধনের দাবিতে মেহেরপুরে দ্বিতীয় দিনের মতো সকল রুটে বাস চলাচল বন্ধ আছে। সোমবার

সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কোন ধরনের ঘোষণা ছাড়া চালকরা গাড়ি চালনা বন্ধ করে দেন। হঠাৎ করে বাস বন্ধ হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। সকালে যাত্রীরা বাস টার্মিনালগুলোতে এসে বাস না পেয়ে বিভিন্ন অবৈধ যানবাহন করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তাদের গন্তব্যে যাচ্ছেন।

(দ্য রিপোর্ট/আরজেড/নভেম্বর ১৯,২০১৯)

পাঠকের মতামত:

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

SMS Alert

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর