thereport24.com
ঢাকা, বুধবার, ৫ আগস্ট ২০২০, ২১ শ্রাবণ ১৪২৭,  ১৫ জিলহজ ১৪৪১

সারাদেশে যথাযোগ্য মর্যাদায় পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত

২০২০ আগস্ট ০২ ০৮:৪৮:২৬
সারাদেশে যথাযোগ্য মর্যাদায় পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত

দ্য রিপোর্ট প্রতিবেদক: আজ পবিত্র ঈদুল আজাহা। মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। সারাদেশে যথাযোগ্য মর্যাদা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে প্রধান ধর্মীয় উৎসব উদযাপিন করেছেন তারা।

এবারের ঈদ উদযাপিত হয়েছে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের আশঙ্কার মধ্যেই। ঈদকে ঘিরে যে আনন্দ-উচ্ছাস থাকার কথা মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে মহামারী করোনাভাইরাস, সাথে যোগ হয়েছে দীর্ঘস্থায়ী বন্যা এবার ম্লান করে দিয়েছে।

করোনা মোকাবেলায় ও সংক্রমণ বিস্তার রোধে সরকারের নির্দেশনায় এবার খোলা মাঠে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়নি। সারাদেশের ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয় মসজিদের ভেতরে শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে।

রাষ্ট্রপতি মো.আবদুল হামিদ তাঁর পরিবারের সদস্য এবং কয়েকজন সিনিয়র সরকারি কর্মকর্তাকে সঙ্গে নিয়ে বঙ্গভবনের দরবার হলে পবিত্র ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করেছেন।

রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন বাসসকে জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপ্রধান তাঁর পরিবারের সদস্য এবং কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কর্মকর্তাকে সঙ্গে নিয়ে আজ সকাল সাড়ে ৮টায় বঙ্গভবনের দরবার হলে ঈদের নামাজ আদায় করেন। ওই ঈদ জামাতে ইমামতি করেন বঙ্গভবন জামে মসজিদের পেশ ইমাম মুফতী মাওলানা সাইফুল কবীর।

এবার হাইকোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহে ঈদের জামাত হয়নি। শত বছরের ঐতিহ্য ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ময়দানেও ঈদ জামাত এবার অনুষ্ঠিত হয়নি। তবে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও ঈদের ৬টি জামাত অনুষ্ঠিত হয়। স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদের প্রধান জামাত এবার বায়তুল মোকাররম মসজিদেই অনুষ্ঠিত হয়েছে।

প্রত্যেকটি জামাতেই মসজিদে মুসল্লিদের ভিড় ছিল লক্ষণীয়। সকাল ৭টা থাকে প্রতিটি জামাত চলার সময় বিপুলসংখ্যক মানুষকে মসজিদের বাইরে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। মসজিদে জায়গা না পেয়ে দক্ষিণ গেটে বাইরে স্টেডিয়ামের সামনের সড়কে অনেককে নামাজে অংশ নিতে দেখা গেছে।

আজ সকাল ৭টায় বায়তুল মোকাররম মসজিদে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররমের সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মুফতি মাওলানা মিজানুর রহমান। মুকাব্বির হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মসজিদের মুয়াজ্জিন হাফেজ ক্বারি কাজী মাসুদুর রহমান।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস, ধর্ম সচিব মো. নূরুল ইসলাম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নিবার্হী কর্মকর্তা শাহ মো. ইমদাদুল হক, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আনিস মাহমুদ, ডিএসসিসি সচিব আকরামুজ্জামান ডিএসসিসি মেয়রের সাথে ঈদের প্রথম জামাতে নামাজ আদায় করেন।

এরপর পর্যায়ক্রমে ৭টা ৫০, ৮টা ৪৫, ৯টা ৩৫, ১০টা ৩০ এবং ১১টা ১০ মিনিটে অনুষ্ঠিত হয় শেষ ঈদ জামাত।

দ্বিতীয় জামাত সকাল ৭ টা ৫০ মিনিটে অনুষ্ঠিত হয়। এ জামাতের ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররমের পেশ ইমাম হাফেজ মুফতি মুহিব্বুল্লাহিল বাকী নদভী, মুকাব্বির থাকেন ক্বারী হাবিবুর রহমান মেশকাত।

তৃতীয় জামাত সকাল ৮ টা ৪৫ মিনিটে অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররমের পেশ ইমাম মাওলানা এহসানুল হক, মুকাব্বির ছিলেন মাওলানা ইসহাক। চতুর্থ জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটে। এ জামাতের ইমামতি করেন পেশ ইমাম মাওলানা মহিউদ্দিন কাসেম, মুকাব্বির ছিলেন মো. শহীদুল্লাহ।

পঞ্চম জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকাল ১০ টা ৩০ মিনিটে। এ জামাতের ইমামতি করেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মুহাদ্দিস হাফেজ মাওলানা ওয়ালিয়ূর রহমান খান, মুকাব্বির ছিলেন খাদেম হাফেজ মো. আব্দুল মান্নান।

ষষ্ঠ ও সর্বশেষ জামাত সকাল ১১ টা ১০ মিনিটে অনুষ্ঠিত হয়। ইমামতি করেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সাবেক উপ-পরিচালক মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুর রব মিয়া, মুকাব্বির ছিলেন খাদেম হাফেজ মো. আব্দুর রাজ্জাক।

নামাজ শেষে খুতবা পেশ করা হয়। এরপর অনুষ্ঠিত হয় দোয়া ও মোনাজাত। তবে করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে নির্দেশনা মেনে নিরাপদ শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখেন মুসল্লিরা।

নামাজ শেষে মোনাজাতে দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনা করা হয়। পাশাপাশি সম্প্রতি বৈশ্বিক করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও নিহতদের জন্য দোয়া করা হয়েছে। করোনা থেকে মুক্তির জন্য মুসল্লিরা আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ জানান।

তবে ঈদের নামাজ শেষে চির পরিচিত দৃশ্য মুসল্লিদের হাত মেলানো ও কোলাকুলির দৃশ্য এবার চোখে পড়েনি। করোনার সংক্রমণ রোধে সরকারের স্বাস্থ্যবিধি মেনে এ থেকে বিরত থাকেন মুসল্লিরা।

প্রত্যেকটি জামাতেই দক্ষিণ গেট দিয়ে মুসল্লিদের সারি ধরে আর্চওয়ে দিয়ে মসজিদে প্রবেশ করতে দেখা গেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঈদুল আযহা’র জামাত সকাল ৮টায় বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ- মসজিদুল জামিআয় অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, করোনা ভাইরাস উদ্ভূত পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ঈদের এই জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এই ঈদ জামাতে ইমামতি করেন মসজিদের সিনিয়র ইমাম খতীব ড. সৈয়দ মুহাম্মদ এমদাদ উদ্দীন। এছাড়া,বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হল জামে মসজিদে সকাল ৮ টায় ঈদ-উল-আযহা’র জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

এদিকে রাজধানীর গুলশান সেন্ট্রাল মসজিদে ৩টি জামাত অনুষ্ঠিত হয়। প্রথমটি সকাল ৬টা, দ্বিতীয়টি ৮টায় এবং তৃতীয়টি ১০টায় অনুষ্ঠিত হয়।

এদিকে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে সকাল ৮টায় ঈদের নামাজ আদায় করেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ।

পুলিশ সদর দফতরের এআইজি (মিডিয়া) সোহেল রানা জানান, সামাজিক সুরক্ষা বজায় রেখে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাসহ সাধারণ মুসল্লিরাও অংশগ্রহণ করেন।

মিরপুরের কাজীপাড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে ৩টি জামাত অনুষ্ঠিত হয়। প্রথমটি সকাল ৭টা, দ্বিতীয়টি ৮টা এবং তৃতীয়টি ৮টা ৪৫ মিনিটে অনুষ্ঠিত হয়।

এছাড়া ঐতিহ্যবাহী সরকারি মাদ্রাসা-ই-আলিয়া, ঢাকার মসজিদ এবং ধানমন্ডি ঈদগাহ মসজিদে সকাল ৮টায় ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

লক্ষ্মীবাজার নূরাণী জামে মসজিদে সকাল ৮ টায়, লক্ষ্মীবাজার মিয়া সাহেব ময়দান খানকা শরীফ জামে মসজিদে সকাল ৭ টায়, লালবাগ জে এন সাহা রোডস্থ বায়তুস সালাম জামে মসজিদে সকাল সাড়ে ৭ টায় প্রথম ঈদ জামাত। এখানে সকাল সাড়ে ৮ টায় দ্বিতীয় ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়। লালবাগ গফুর মসজিদে প্রথম জামাত সকাল সোয়া ৮টায় ও দ্বিতীয় জামাত সকাল ৯টায় অনুষ্ঠিত হয়।

কারওয়ান বাজার আম্বর শাহ জামে মসজিদে সকাল ৭ টা ৩০ মিনিটে ঈদ জামাতে ইমামতি করেন মসজিদের প্রধান খতিব ও বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমীর মাওলানা আতাউল্লাহ ইবনে হাফেজ্জী হুজুর,

নগরীর চকবাজার ইসলামবাগ বড় মসজিদে সকাল ৭ টায় ঈদ জামাতে ইমামতি করেন মসজিদের খতিব শাইখুল হাদিস মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দি, এছাড়া সকাল ৮ টায় ও সকাল ৯ টায় আরো দু’টি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

সেগুনবাগিচাস্থ মসজিদে নূর-এ সকাল সাড়ে ৭ টায় ঈদ জামাতে ইমামতি করেন খতীব মাওলানা আব্দুল কাইয়ূম সুবহানী, ঢাকার কামরাঙ্গীরচর জামিয়া নুরিয়া মসজিদে সকাল ৭ টা ৩০ মিনিটে ঈদ জামাতে ইমামতি করেন নুরিয়া মসজিদের খতিব ও বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াযী, কামরাঙ্গীরচর রহমতিয়া জামে মসজিদে সকাল ৭ টায় ঈদ জামাতে ইমামতি করেন খতিব মুফতি সুলতান মহিউদ্দিন, আকসা হুজুরপাড়া কামরাঙ্গীরচর মসজিদে সকাল ৭ টায় ঈদ জামাতে ইমামতি করেন মাওলানা সাইফুল ইসলাম সুনামগঞ্জী, ঢাকার ডেমরার ঐতিহ্যবাহী দারুননাজাত সিদ্দিকীয়া মাদরাসা জামে মসজিদে সকাল ৭ টায় ঈদ জামাতে ইমামতি করেন খতীব মাওলানা মো. মনিরুল ইসলাম এবং ডেমরার বড় ভাঙ্গাস্থ আল আকসা জামে মসজিদে (আলহাজ নান্নু মুন্সি) সকাল সাড়ে ৭টায় ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

মহাখালীর মসজিদে গাউসুল আজমে ৩টি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানা গেছে।

চট্টগ্রাম

নগরের দামপাড়া জমিয়তুল ফালাহ মসজিদে চসিকের তত্ত্বাবধানে পবিত্র ঈদ-উল-আজহার প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (১ আগস্ট) সকাল পৌনে ৮টায় ঈদ জামাতে ইমামতি করেন জমিয়তুল ফালাহ মসজিদের খতিব ও জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া মাদ্রাসার মুহাদ্দিস হজরতুল আল্লামা সৈয়দ আবু তালেব মোহাম্মদ আলাউদ্দীন আল কাদেরী।

নামাজ শেষে মোনাজাতে দেশ-জাতির মঙ্গল কামনায় আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা হয়। করোনার কারণে নামাজ শেষে মুসল্লিরা কোলাকুলি থেকে বিরত থাকলেও ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

সিলেট

এবার সিলেটে প্রধান ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয় ওলিকুল শিরোমনি হযরত শাহজালাল (রহ.) দরগাহে। সকাল ৮ টায় এই জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে সিলেটের রাজনৈতিক, প্রশাসনিক কর্মকর্তারা অংশ নেন। স্বাস্থ্য বিধি মেনে মসজিদের ভেতরে নামাজ আদায় করলেও বিপুল সংখ্যাক মুসল্লি উপস্থিত হওয়ার কারনে মাজার চত্বর ও প্রধান রাস্তা পর্যন্ত কয়েক হাজার মুসল্লী এক সঙ্গে নামাজ আদায় করেন। এদিকে- ঈদের জামাত শেষে মুসল্লিরা দেশ ও জাতির সমৃদ্ধি কামনা করে মোনাজাত করেন। পাশাপাশি করোনা ভাইরাস থেকে মুক্ত হওয়ার প্রার্থনা করা হয়। দরগাহ মসজিদের ঈদ জামাতে ইমামতি করেন হাফিজ হযরত মাওলানা আসজাদ আহমদ। এছাড়া সিলেটের প্রতিটি পাড়া ও মহল্লার মসজিদে স্বাস্থ্য বিধি মেনে একাধিক জামাতের আয়োজন করা হয়।

রাজশাহী

রাজশাহী নগরীতে পবিত্র ঈদুল আজহার প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিভিন্ন দফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা-কর্মচারী, রাজনৈতিক নেতাসহ ঈদের নামাজ আদায় করেন মুসল্লিরা। শনিবার (১ আগস্ট) সকাল ৮টায় হজরত শাহ মখদুম (রহ.) কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে ঈদ জামাতে ইমামতি করেন মসজিদের ইমাম ও খতিব মুফতি হাফেজ মাওলানা মো. মোস্তাফিজুর রহমান।

বরিশাল

করোনার কারণে ঈদুল ফিতরের মতো ঈদুল আজহায়ও বরিশালে ঈদের প্রধান জামাত হয়নি। নগরীর হেমায়েত উদ্দিন কেন্দ্রিয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদের প্রধান জামাতের আয়োজন করেনি সিটি করপোরেশন। তবে শনিবার (১ আগস্ট) সকাল ৭টা থেকে সাড়ে ৯টার মধ্যে নগরীর মসজিদগুলোতে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। শারীরিক দূরত্ব রক্ষায় সর্বাধিক ৪টি জামাত অনুষ্ঠিত হয় জেলা পুলিশ লাইনস জামে মসজিদে। বেশীরভাগ মসজিদে স্বাস্থ্যবিধি রক্ষার চেষ্টা করা হয়। তবে কিছু মসজিদে কিছুটা বিচ্যুতি হয় ঈদের জামাতে।

সকাল ৮টায় বরিশাল কালেক্টরেট জামে মসজিদে আয়োজিত ঈদ জামাতে অংশ নেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার আব্দুর রাজ্জাক এবং জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমান। নামাজ শুরুর আগে তারা সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে করোনা এড়াতে স্বাস্থ্যবিধি রক্ষা এবং কোরবানীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সরকারের দিকনির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানান। নামাজ শেষে মোনাজাতে করোনামুক্ত সুখি-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ কামনা করা হয়।

খুলনা



খুলনায় যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে পবিত্র ঈদ-উল-আজহা উদযাপন করা হয়েছে। করোনাভাইসার সংক্রমণ প্রতিরোধে সরকারি নির্দেশনা মেনে শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে এবং স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে শনিবার সকাল ৮ টায় খুলনা টাউন জামে মসজিদে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। জামাতে ইমামতি করেন টাউন জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মোহম্মদ সালেহ। এছাড়া কোর্ট জামে মসজিদে সকাল সাড়ে আটটায় একটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে সকল সরকারি, আধা-সরকারি, বেসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ও ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।

এ উপলক্ষে জাতীয় পতাকা ও ঈদ মোবারক বাংলা ও আরবি খচিত ব্যানার দ্বারা শহরের প্রধান প্রধান সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানসমূহ, সড়কদ্বীপ ও সার্কিট হাউজ সজ্জিত করা হয়।

রংপুর

রংপুর জেলার প্রায় ছয় হাজার মসজিদে পবিত্র ঈদুল আযহার জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। সরকারি নির্দেশনা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে মুসল্লিরা নামাজ আদায় করেন। শনিবার সকাল সোয়া ৭টা থেকে ১০টা পর্যন্ত মহানগরসহ জেলার প্রতিটি পাড়া-মহল্লার মসজিদে এসব ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

সকাল ৮টায় রংপুর নগরীর কোর্ট মসজিদে অনুষ্ঠিত ঈদুল আজহার জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে রংপুর বিভাগীয় কমিশনার কেএম তরিকুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক মো. আসিব আহসান, রংপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মো. মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফাসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ গ্রহণ করেন।

এছাড়া নগরীর কেরামতিয়া জামে মসজিদে সকাল সাড়ে ৮টায় ও সকাল সাড়ে ৯টা, পুলিশ লাইন্স জামে মসজিদে সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটে ও সাড়ে ৮টায়, শাপলা চত্বর আশরাফিয়া জামে মসজিদে সকাল সাড়ে ৮টায়, জুম্মপাড়া করিমিয়া মাদ্রাসায় সকাল সোয়া ৭টায়, দক্ষিণ মুলাটোল জামে মসজিদে ও গনেশপুর বায়তুন মামুর জামে মসজিদে সকাল ৮টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

নড়াইল

এদিকে করোনা থেকে মুক্তির পর কোরবানির ঈদের সময়টা নিজ এলাকা নড়াইলেই কাটাচ্ছেন জাতীয় ওয়ানডে দলের সাবেক অধিনায়ক ও নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা। শনিবার (১ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৭টায় জেলার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় করেন তিনি। সঙ্গে ছিলেন তার মামা নাহিদুল ইসলাম, ছোট ভাই মোরসালিন বিন মোর্ত্তজা সিজার। এবারও গরু কোরবানি দিয়েছেন মাশরাফী।

করোনা ভাইরাসের কারণে এবার ঈদের নামাজ কেন্দ্রীয় ঈদগাহের পরিবর্তে নড়াইল কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়।

নামাজ শেষে মাশরাফী সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি এই করোনার মহামারি থেকে সবাইকে সাবধানে থাকার জন্য আহ্বান জানান নড়াইল এক্সপ্রেস খ্যাত এই ক্রিকেটার।

দিনাজপুর

দিনাজপুরের বিভিন্ন মসজিদে বিপুল উৎসাহ উদ্দিপনা আর আনন্দঘন পরিবেশ এবং ধর্মীয়ভাব গাম্ভীর্য্যের মধ্যদিয়ে ঈদুল আজহা’র নামাজের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (১ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৭টায় করোনাভাইরাসের কারণে স্বাস্থ্যবিধি মেনে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে দিনাজপুরে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে জেলা সদর হাসপাতাল কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে। সেখানে ঈদের নামাজ আদায় করেন দিনাজপুর সদর-৩ আসনের সংসদ সদস্য জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম এমপি, ও বিচারপতি এনায়েতুর রহিম।

জেলা শহরসহ জেলার ১৩ উপজেলার প্রায় ৭ হাজার মসজিদে ঈদুল আজহা’র নামাজের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঈদের নামাজ শেষে প্রাণঘাতি করোনাভাইরাস থেকে দেশ জাতিকে হেফাজতে রাখতে ও মুসলিম উম্মাহ’র শান্তি ও সৃমদ্ধি কামনায় বিশেষ মুনাজাত করা হয়েছে।

নোয়াখালী

ত্যাগের মহিমায় পশু কোরবানীর মধ্য দিয়ে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে নোয়াখালীতে পবিত্র ঈদুল আজহা পালিত হয়েছে ।

নোয়াখালীর পুলিশ সুপার আলমগীর হোসেন জানান, জেলার ৯টি উপজেলায় ৪৩৪৯টি মসজিদে শান্তিপূর্ণ সুশৃঙ্খলভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। নামাজ শেষে পশু কোরবানির মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি খুঁজেছেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা।

ঠাকুরগাঁও

বৈশ্বিক করোনাভাইরাস (কোভিড১৯) এর কারণে সারাদেশের ন্যায় এবারও ঠাকুরগাঁও কেন্দ্রীয় ঈদগাঁহে ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করা হয়নি। তবে স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে ঠাকুরগাঁও কেন্দ্রীয় মসজিদে ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (১ আগস্ট) সকাল ৮টায় ঠাকুরগাঁও কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ঈদের প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হয়। মসজিদে পর পর ৩টি জামাত অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম নামাজের জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকাল ৮টায়, দ্বিতীয় জামাত পৌনে ৯টায় এবং তৃতীয় জামাত অনুষ্ঠিত হয় সাড়ে ৯টায়।

ঠাকুরগাঁওয়ে কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে প্রথম ঈদের জামাতে নামাজ পড়ান মসজিদের ইমাম মাওলানা আলহাজ্ব মো. খলিলুর রহমান।

(দ্য রিপোর্ট/আরজেড/০২আগস্ট, ২০২০)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর