thereport24.com
ঢাকা, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২০, ১২ কার্তিক ১৪২৭,  ১১ রবিউল আউয়াল 1442

এবার ৩০ কর্মকর্তা বিদেশ যাবেন বিল্ডিং দেখতে!

২০২০ সেপ্টেম্বর ১৮ ১০:২০:১৭
এবার ৩০ কর্মকর্তা বিদেশ যাবেন বিল্ডিং দেখতে!

দ্য রিপোর্ট প্রতিবেদক: খিচুড়ি নিয়ে বিদেশ ভ্রমণ বাণিজ্য নাটক শেষ হতে না হতেই গণগ্রন্থাগার অধিদফতরের আরেকটি বিদেশ প্রশিক্ষণ কেলেঙ্কারির কথা মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও তার সাঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন দপ্তরের ৩০ কর্মকর্তা এবার বিল্ডিং দেখতে বিদেশ যাবার খায়েশ ব্যক্ত করে প্রকল্প জমা দিয়েছেন।

জানা গেছে যে, ৫৩৩ কোটি ৪৭ লাখ টাকা ব্যয়ে রাজধানীতে ১০তলাবিশিষ্ট আবাসিক ভবন, দুটি বেজমেন্ট ও ৯তলা বিশিষ্ট অনাবাসিক ভবন নির্মাণ, দুটি জিপ, একটি ডাবল কেবিন পিক-আপ, একটি মিনিবাস কেনা, পরামর্শক, বই ও সাময়িকী ক্রয়, অফিস ভাড়া, কম্পিউটার ও যন্ত্রাংশ ক্রয় এবং অফিস সরঞ্জাম সংগ্রহ করার জন্য ‘গণগ্রন্থাগার অধিদফতর’ এই প্রকল্পটি হাতে নিয়েছে। অনুমোদন পেলে চলতি বছর থেকে শুরু হয়ে ২০২৪ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে গণগ্রন্থাগার অধিদফতর ও গণপূর্ত অধিদফতর।

প্রকল্পের ৩০ জন কর্মকর্তার বিদেশ ভ্রমণের অনুমতি ও তার জন্য ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে। অনেকের মনে প্রশ্ন আসতে পারে ৩০ জন কেন? গণগ্রন্থাগার অধিদফতর সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ একটি দপ্তর অন্য দিকে গণপূর্ত অধিদফতর পূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীন আরেকটি দপ্তর। এর পাশাপাশি গণগ্রন্থাগার অধিদফতরের এই প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক সহ উপরের ৫ টি পদ দখল করে আছেন প্রশাসন ক্যাডারের কর্তা ব্যক্তিরা। একইভাবে গণপূর্ত অধিদফতরের ইঞ্জিনিয়ার কর্তাগণ ছাড়াও তাঁদের মন্ত্রণালয়ের কর্তা ব্যক্তিরা কী বাদ যাবেন? ২টি মন্ত্রণালয় ২ টি দপ্তর মিলে এর চেয়ে কম হয় না বলে তাঁরা মনে করেছেন।

অভিযোগ আছে যে, ইঞ্জিনিয়ারিং প্রকল্প হলেও প্রশিক্ষণে সুযোগ পান নন-টেকনিক্যাল কর্মকর্তা বেশি। কারণ তাঁদের হাতে থাকে বর্তমান ও ভবিষ্যতের সম্ভাব্য ক্ষমতা। এদের মোটামুটি বিনা খরচেই বিদেশ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেন প্রকল্প পরিচালগণ। এদের অনেকে শুধু কাঞ্চনেই খুশি হন না, কারণ তাঁদের অনেকের যাওয়া আসা ছিল পাপিয়াদের ডেরায়। তাই তাঁরা কামিনীও চান তাঁদের পছন্দ মত। তাঁদের মন্ত্রণালয় বা দপ্তরে না থাকলে বিভিন্ন অজুহাতে অন্য দপ্তর যেমন, বিদ্যুৎ, ওয়াসা, ইত্যাদি অফিস থেকে পাপিয়াদের সাগরেদ কামিনীদের নেওয়া হয় বিদেশ প্রশিক্ষণের সাথী হিসেবে। যেহেতু প্রকল্প চলে ঋণের টাকায় তাই দাঁত্যা বা বিদেশী পরামর্শকদের কিছুই বলার থাকে না। বিভিন্ন দপ্তরে এমন নজির ভুরি ভুরি। মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক প্রধান ও একাউন্টিং চিফ সচিব হবার কারণে কারো কিছু বলার থাকে না। আগাম নিরাপত্তার জন্য মাঝে মাঝে স্থানীয় পরামর্শক, ঠিকাদার, বই সরবরাহকারীদের মাধ্যমে পিএস বা এপিএসকে ম্যানেজ করে ফাইলে মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীর একটা সাক্ষর নেওয়া থাকে যাতে বিপদে পড়লে সেই সই কাজে লাগিয়ে সব দোষ মন্ত্রী/ প্রতিমন্ত্রীর ঘাড়ে দেওয়া যায়।

এজন্যই, বিদেশ প্রশিক্ষণের নামে ফুর্তি করার টাকার যোগান দিতেই ৫৩৩ কোটি ৪৭ লাখ টাকা এই প্রকল্পে ৯৭৩ জন পরামর্শকের জন্য চাওয়া হয়েছে, নির্মাণকালীন সময়ের অস্থায়ী স্টিল শেড তৈরির খরচ ধরা হয়েছে ২২ কোটি টাকা, বই কেনার জন্য বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে ৮০ কোটি টাকার। প্রকল্পের স্থানীয় পরামর্শক প্রতিষ্ঠান, নির্মাণকালীন সময়ের অস্থায়ী স্টিল শেড তৈরির ঠিকাদার, বই সরবরাহকারীদের কাছ থেকে মোটা অংকের কমিশন জমা পড়ে প্রকল্প পরিচালকদের তহবিলে বলে অভিযোগ আছে।

(দ্য রিপোর্ট/আরজেড/১৮সেপ্টেম্বর, ২০২০)

পাঠকের মতামত:

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

SMS Alert

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর