thereport24.com
ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৮ মে 24, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১,  ২০ জিলকদ  1445

দেশে এইডস রোগীর বড় অংশই শনাক্ত ও চিকিৎসার বাইরে

২০২৩ মার্চ ১৭ ১৩:১১:৩৯
দেশে এইডস রোগীর বড় অংশই শনাক্ত ও চিকিৎসার বাইরে

কাওসার আজম,দ্য রিপোর্ট :বাংলাদেশে এইডস (এইচআইভি) রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। বিশেষ করে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আশঙ্কাজনক হারে এইডস রোগী শনাক্ত হচ্ছে।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এইডস/এসটিডি প্রোগ্রামের তথ্যানুসারে, বাংলাদেশে এ পর্যন্ত ৮ হাজার ৭৬১ জন এইডস রোগী শনাক্ত হয়েছে; এই রোগীদের মধ্যে মারা গেছে ১ হাজার ৫৮৮ জন। তবে, জয়েন্ট ইউনাইটেড নেশনস প্রোগ্রাম অন এইচআইভি/এইডস (ইউএনএইডস)- এর তথ্যমতে, বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে এইডস রোগের প্রাদুর্ভাব ০.০১ শতাংশের কম। সেই হিসেবে দেশে এইডস আক্রান্ত রোগীর আনুমানিক সংখ্যা ১৪ হাজারের মতো।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশে যে পরিমাণ এইডসের রোগী রয়েছে তার মধ্যে এখনো একটি বড় অংশ শনাক্তের বাইরে। আবার শনাক্ত রোগীদের মধ্যেও চিকিৎসা নেন না এমন সংখ্যাও কম না।

দেশে এইডস আক্রান্ত অনুমানিক ১৪ হাজার রোগীর মধ্যে ৩৭ শতাংশ এখনো শনাক্তের বাইরে। আর শনাক্ত হওয়া রোগীদের মধ্যে চিকিৎসার বাইরে রয়েছে ২৩ শতাংশ রোগী। শনাক্ত ও চিকিৎসার বাইরে থাকা রোগীদের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে এইডস সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

এমন পরিস্থিতে রোগী শনাক্ত ও চিকিৎসা সেবার পরিধি বাড়াতে উদ্যোগ নিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। রোগী শনাক্ত বাড়াতে ও চিকিৎসার আওতায় আনতে ১০টি কারাগারে এইচআইভি পরীক্ষা সুবিধা চালু , এইডস রোগীদের দিয়ে মাঠকর্মীর কাজ করানোসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এইডস/এসটিডি প্রোগ্রামের তথ্যানুসারে, বাংলাদেশে এ পর্যন্ত ৮ হাজার ৭৬১ জন এইডস রোগী শনাক্ত হয়েছে; এই রোগীদের মধ্যে মারা গেছে ১ হাজার ৫৮৮ জন। সংক্রামিত ব্যক্তিদের তুলনায় শনাক্তকরণের হার ৬৩ শতাংশ।

যদিও ন্যাশনাল এইচআইভি-এইডস প্রোগ্রামের মাধ্যমে শনাক্ত সব রোগীকে চিকিৎসার আওতায় আনা সম্ভব হয়নি; ৭৭ শতাংশ আক্রান্ত ব্যক্তিকে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয়েছে। এখনো পর্যন্ত ২৩ শতাংশ সংক্রামিত লোক চিকিৎসার বাইরেই রয়েছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংক্রমিত লোকদের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে।

বিশিষ্ট ভাইরোলজিস্ট এবং দেশের প্রথম জাতীয় এইডস কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. নজরুল ইসলামের মতে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর এইচআইভি টেস্ট করে শনাক্তের হার বাড়ানো এবং যারা শনাক্ত হবে, তারা যাতে চিকিৎসার আওতায় থাকে তা নিশ্চিত করতে হবে। এইডস রোগীরা নিয়মিত ওষুধ খেয়ে দীর্ঘদিন সুস্থ্য থাকতে পারে।

সংক্রামক এই ব্যাধি মোকাবেলায় ২০২৫ সালের মধ্যে ৯৫-৯৫-৯৫ লক্ষ্য পূরণের উদ্যোগ নিয়েছে ইউএনএইডস। এর আওতায় এইচআইভিতে আক্রান্ত লোকেদের ৯৫ শতাংশ তাদের এইচআইভি স্ট্যাটাস জানবে, যারা এইচআইভি পজিটিভ তাদের ৯৫ শতাংশ চিকিৎসার জন্য তালিকাভুক্ত হবে, এবং চিকিৎসাধীন আক্রান্তদের ৯৫ শতাংশের ভাইরাল লোড, অর্থাৎ তাদের দ্বারা যেন অন্যরা আক্রান্ত না হয় তা দমন করা হবে। ২০২৫ সালের মধ্যে এইডস নিয়ন্ত্রণে ইউএনএইডসের ৯৫-৯৫-৯৫ লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে বর্তমানে বাংলাদেশের অর্জন ৬৩-৭৭-৯৩।

জানা যায়, বাংলাদেশে সর্বপ্রথম এইডস রোগ শনাক্ত হয় ১৯৮৯ সালে। শনাক্ত হওয়া প্রথম ব্যক্তি ছিলেন একজন বিদেশি নাগরিক। এরপর ১৯৯০ সালে দুজন বাংলাদেশি নাগরিক এইচিআইভি পজিটিভ হন। তাদের মধ্যে একজন এখনো সুস্থ্য আছেন; অন্যদিকে, এইডস আক্রান্ত হওয়ার পর আরেকজন এইডস রোগীকে বিয়ে করেছেন। দুটি সুস্থ্য সন্তান রয়েছে ওই দম্পতির।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, দেশের ২৩টি অগ্রাধিকার প্রাপ্ত জেলা- যে জেলাগুলোয় ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী বেশি, অর্থাৎ প্রতি বছর বেশি সংখ্যক রোগী পাওয়া যায়, সেসব জেলায় ‘কম্প্রিহেনসিভ ট্রিটমেন্ট’ দিচ্ছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। পাশাপাশি চলতি বছর ১০টি কারাগারে এইচআইভি টেস্টের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এইডস/এসটিডি প্রোগ্রামের কর্মকর্তারা জানান, ২০২৫ সালের মধ্যে ইউএনএইডস লক্ষ্য অর্জনে আমরা কাজ করছে সরকার।

২০২১ সালে দেশে অন্তত ৭২৯ জন নতুন এইডস রোগী শনাক্ত হয়; এরমধ্যে মারা যায় ১৮৮ জন। তাদের মধ্যে প্রায় ২৬ শতাংশ সাধারণ মানুষ, ২০ শতাংশ অভিবাসী, ৮ শতাংশ শিরায় মাদক সেবনকারী, ২৬ শতাংশ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী, ৯ শতাংশ সমকামী জনসংখ্যার সদস্য, ৭ শতাংশ পুরুষ যৌনকর্মী, ২ শতাংশ হিজড়া সম্প্রদায়ের সদস্য এবং ২ শতাংশ নারী যৌনকর্মী।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এইডস রোগী বাড়ছে

মীয়ানমার থেকে আশ্রয় নেয়া বাংলাদেশের কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় এইচআইভি/এইডস আক্রান্ত হয়ে ৬১ রোহিঙ্গার মৃত্যু হয়েছে বলে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির সভায় জানানো হয়। সংসদীয় কমিটিতে উত্থাপিত প্রতিবেদনে বলা হয়, কক্সবাজারের রোহিঙ্গা এলাকায় এইচআইভি/এইডস, হেপাটাইটিস সি ও ডিপথেরিয়া রোগের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এসব রোগে এখনো পর্যন্ত ৭১০ জন শনাক্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে ৬১২ জনই রোহিঙ্গা। এর মধ্যে গত বছরের ২২ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৬১ রোহিঙ্গা এইচআইভি/এইডসে মারা গেছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, কক্সবাজারে বিভিন্ন হোটেলে পাঁচ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা নারী দেহ ব্যবসায় সক্রিয় রয়েছে।

পাঠকের মতামত:

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

SMS Alert

স্বাস্থ্য এর সর্বশেষ খবর

স্বাস্থ্য - এর সব খবর