thereport24.com
ঢাকা, শনিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮, ১ পৌষ ১৪২৫,  ৬ রবিউস সানি ১৪৪০

৪ এপ্রিল ঐতিহাসিক তেলিয়াপাড়া দিবস

২০১৪ এপ্রিল ০৪ ১৮:১০:২৭
৪ এপ্রিল ঐতিহাসিক তেলিয়াপাড়া দিবস

ফয়সল চৌধুরী, হবিগঞ্জ : ৪ এপ্রিল ঐতিহাসিক তেলিয়াপাড়া দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার তেলিয়াপাড়া চা বাগান এলাকার ম্যানেজার বাংলোতে ২৭ সেনা অফিসার এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হন।

বৈঠকেই সেনা কর্মকর্তাগণ দেশকে স্বাধীন করার শপথ নেন। এ ছাড়া যুদ্ধের রণকৌশলের অংশ হিসেবে দেশকে প্রথমে ৪টি সেক্টরে এবং পরে তা ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়।

ওই বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুসারে ১ নম্বর সেক্টরের দায়িত্ব পেয়েছিলেন মেজর জিয়াউর রহমান, পরে মেজর রফিকুল ইসলাম।

২ নম্বর সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন প্রথমে খালেদ মোশাররফ, পরে মেজর হায়দার। ৩ নম্বর সেক্টর কমান্ডার ছিলেন প্রথমে মেজর শফিউল্লাহ, পরে মেজর নূরুজ্জামান। ৪ নম্বর সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর সি আর দত্ত।

৫ নম্বর সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর মীর শওকত আলী। ৬ নম্বর সেক্টর কমান্ডার ছিলেন উইং কমান্ডার বাশার। ৭ নম্বর সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর কাজী নূরুজ্জামান। ৮ নম্বর সেক্টর কমান্ডার ছিলেন প্রথমে মেজর ওসমান চৌধুরী, পরে মেজর এম এ মনছুর। ৯ নম্বর সেক্টর কমান্ডার ছিলেন প্রথমে মেজর আব্দুল জলিল (অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করেন এমএ মঞ্জুর)। ১০ নম্বর সেক্টর নৌ-বাহিনীর সৈনিকদের নিয়ে গঠন করা হয়। ১১ নম্বর সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর আবু তাহের ও পরে ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট এম হামিদুল্লাহ।

মেজর জেনারেল ওসমানী মুক্তিবাহিনীকে ৩টি ব্রিগেডে ভাগ করে পরিচালনার জন্য ৩ মেজরকে দায়িত্ব দেন।

৩টি ব্রিগেডের মধ্যে জিয়াউর রহমানের দায়িত্বে ‘জেড ফোর্স’, মেজর শফিউল্লাহর দায়িত্বে ‘এস ফোর্স’ এবং খালেদ মোশাররফের দায়িত্বে ‘কে ফোর্স’ গঠন করা হয়। ওই বৈঠক শেষে মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক আতাউল গণি ওসমানী নিজের পিস্তল থেকে ফাঁকা গুলি ছুড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে পাক বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন। বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের উপ-সর্বাধিনায়ক মেজর জেনারেল এম এ রব (বীর উত্তম), সাবেক সেনা প্রধান মেজর জেনারেল শফিউল্লাহ, মেজর জেনারেল সি আর দত্ত, সাবেক সেনা প্রধান মেজর জিয়াউর রহমান, মেজর জেনারেল আব্দুল মতিন, মেজর খালেদ মোশাররফ, কমান্ডেন্ট মানিক চৌধুরী, ভারতের ব্রিগেডিয়ার শুভ্র মানিয়ম, এমপিএ মৌলানা আসাদ আলী, লেফটেন্যান্ট সৈয়দ ইব্রাহীম প্রমুখ।

৪ এপ্রিলের বৈঠকের পর থেকে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন তেলিয়াপাড়া চা বাগান ম্যানেজার বাংলোটিকে মুক্তিবাহিনীর সদর দপ্তর এবং পরে ৩ ও ৪ নম্বর সেক্টর কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

১৯৭১ সালের ২১ জুনের পরে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রচণ্ড আক্রমণের কারণে তেলিয়াপাড়া চা বাগানে স্থাপিত সেক্টর হেড কোয়ার্টার সরিয়ে নেওয়া হয়।

(দ্য রিপোর্ট/এফসি/এমএআর/আরকে/এপ্রিল ০৪, ২০১৪)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর

জেলার খবর - এর সব খবর