thereport24.com
ঢাকা, শনিবার, ২৫ মে 24, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১,  ১৭ জিলকদ  1445

সাক্ষরতার আওতায় আসছে ৪৫ লাখ নিরক্ষর

২০১৪ ফেব্রুয়ারি ১০ ০০:৩২:৩৭
সাক্ষরতার আওতায় আসছে ৪৫ লাখ নিরক্ষর

নতুন করে দেশের ৪৫ লাখ নিরক্ষর মানুষ সাক্ষরতার আওতায় আসছে। ১৫ থেকে ৪৫ বছর বয়সী এ সব মানুষকে সাক্ষরতা অর্জনের পাশাপাশি দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা দেওয়ার লক্ষ্যে মৌলিক সাক্ষরতা কর্মসূচি হাতে নিচ্ছে সরকার।

এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৫২ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। দেশের সাত বিভাগের যে সব উপজেলায় শিক্ষার হার সবচেয়ে কম সে রকম ২৫০টি উপজেলায় এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।

আগামী মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে অনুমোদনের জন্য এ সংক্রান্ত প্রকল্পটি উপস্থাপন করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। অনুমোদন দেওয়া হলে ২০১৮ সালের জুনের মধ্যে এটি বাস্তবায়নের কাজ শেষ করবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতায় উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো।

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠেয় বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপার্সন শেখ হাসিনা।

এ বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগের সদস্য আব্দুল মান্নান হাওলাদার বলেন, প্রকল্পটি অনুমোদিত হলে চলতি ২০১৩-১৪ অর্থবছরে মন্ত্রণালয়ের এমটিবিএফ (মধ্যমেয়াদি বাজেট কাঠামো) এর আওতায় এবং এডিপিতে সংস্থানকৃত থোক বরাদ্দ থেকে এর অনুকূলে বরাদ্দ দেওয়া সম্ভব হবে। প্রকল্পটি সবার জন্য শিক্ষা কার্যক্রম নিশ্চিতকরণ এবং নিরক্ষরতা দূরীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যায়। এটি জাতীয় শিক্ষানীতি ও ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ায় একনেকে অনুমোদনযোগ্য।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বাংলাদেশের সংবিধানে সকল নাগরিককে শিক্ষার সুযোগ প্রদানসহ দেশ থেকে নিরক্ষরতা দূরীকরণের অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে। নব্বই দশকের শুরু থেকে শিক্ষার ব্যাপারে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। ১৯৯০ সালে থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত সবার জন্য শিক্ষাবিষয়ক সম্মেলনের ওপর ভিত্তি করে ১৯৯৫ সালের জানুয়ারি মাসে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়। এ সময় দেশে সাক্ষরতা বিস্তারে সরকারিভাবে ব্যাপক উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ২০১০ সালের প্রতিবেদন অনুসারে দেশের বর্তমান সাক্ষরতার হার ৫৮ দশমিক ৩ শতাংশ। উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা (এনএফই) ম্যাপিং রিপোর্ট ২০০৯ অনুসারে দেশে ১১ থেকে ৪৫ বছর বয়সী নিরক্ষরের সংখ্যা প্রায় ৩ কোটি ৭৩ লাখ, যারা কখনও বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়নি বা প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়েছে। এ বিপুলসংখ্যক নিরক্ষর জনগোষ্ঠীকে সাক্ষরতা, দক্ষতা ও কর্মদক্ষতা প্রদান করতে না পারলে দেশের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাদের আনুষ্ঠানিক শিক্ষার আওতায় এনে শিক্ষিত করার সুযোগ নেই। উপানুষ্ঠানিক শিক্ষার আওতায় এদের শিক্ষার দ্বিতীয় সুযোগ প্রদান করা সম্ভব।

সবার জন্য শিক্ষা অর্জনের অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সরকারের ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা এবং জাতীয় শিক্ষা নীতিতে আনুষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি উপানুষ্ঠানিক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব প্রদান করে ২০১৪ সালের মধ্যে দেশ থেকে শতভাগ নিরক্ষরতা দূরীকরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।

সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী ২০১৪ সালের মধ্যে দেশ থেকে নিরক্ষরতা দূর করার অঙ্গীকারের প্রেক্ষাপটে এ প্রকল্পটি প্রণয়ন করা হয়েছে। যার মাধ্যমে দেশের ৬৪টি জেলার নির্বাচিত ২৫০টি উপজেলার ১৫ থেকে ৪৫ বছর বয়সী মোট ৪৫ লাখ নিরক্ষর কিশোর-কিশোরী, বয়স্ক পুরুষ ও নারীকে মৌলিক সাক্ষরতা ও জীবন দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা প্রদান করা হবে, যাতে তারা উন্নত জীবন লাভ করে আলোকিত ও উৎপাদনশীল নাগরিকে পরিণত হতে পারে।

প্রকল্পের আওতায় প্রধান কার্যক্রমগুলো হচ্ছে- দেশের ১৫ থেকে ৪৫ বছর বয়সী মোট ৪৫ লাখ নিরক্ষর জনগোষ্ঠীকে মৌলিক সাক্ষরতা ও জীবন দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা প্রদানের লক্ষ্যে মৌলিক সাক্ষরতা কার্যক্রম পরিচালনা করা। কারিকুলাম ও ম্যাটারিয়াল ডেভেলপমেন্ট, স্থানীয় প্রশিক্ষণ, ওয়ার্কশপ বা সেমিনার, স্টাডি অ্যান্ড সার্ভে (বেজলাইন সার্ভে, গবেষণা ও ডকুমেন্টেশন), সোশ্যাল মোবিলাইজেশন (সামাজিক উদ্বুদ্ধকরণ) এবং মনিটরিং, ইভালুয়েশন ও রিপোর্টিং ইত্যাদি।

(দ্য রিপোর্ট/জেজে/এনআই/এএল/শাহ/ফেব্রুয়ারি ৯, ২০১৪)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

বিশেষ সংবাদ এর সর্বশেষ খবর

বিশেষ সংবাদ - এর সব খবর