thereport24.com
ঢাকা, রবিবার, ৬ এপ্রিল 25, ২২ চৈত্র ১৪৩১,  ৭ শাওয়াল 1446

ঢাকামুখী মানুষের ঢল

২০২৫ এপ্রিল ০৬ ০০:৪৬:১০
ঢাকামুখী মানুষের ঢল

দ্য রিপোর্ট প্রতিবেদক:ঈদুল ফিতরের ছুটি শেষ হয়েছে শনিবার। রোববার থেকে সব সরকারি অফিস খুলছে। পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও খুলছে। কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সেবাগ্রহীতাদের পদচারণায় মুখরিত হবে এসব অফিস। তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠদান শুরু হবে আরও কয়েকদিন পর। শুক্র ও শনিবার সড়ক-নৌ ও রেলপথে ছিল ঢাকামুখী লাখ লাখ মানুষের ঢল। বড় ধরনের কোনো ভোগান্তি ছাড়াই এবার মানুষ নির্বিঘ্নে ফিরছেন বলে জানিয়েছেন যাত্রীরা।

ঈদুল ফিতরের টানা ৯ দিনের লম্বা ছুটি শেষে রোববার সরকারি অফিস-আদালত, ব্যাংক-বিমাসহ আর্থিক প্রতিষ্ঠান খুলছে। রোজার আগের নিয়মে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত অফিস চলবে। ঈদের আগে ২৮ মার্চ (শুক্রবার) ছিল শবেকদরের ছুটি। এবার ২৯ মার্চ (শনিবার) থেকে শুরু হয় ঈদুল ফিতরের ছুটি। ২৯ মার্চ থেকে ২ এপ্রিল পর্যন্ত টানা ৫ দিনের ছুটি (২৯, ৩০, ৩১ মার্চ এবং ১ ও ২ এপ্রিল) ছিল। মাঝখানে ৩ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) অফিস খোলা ছিল। তবে ওই দিন নির্বাহী আদেশে ছুটি ঘোষণা করে সরকার। আবার ৪ ও ৫ এপ্রিল শুক্র ও শনিবার দুদিনের সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় সরকারি অফিস-আদালত বন্ধ ছিল।

সরকারি ছুটি শেষ হওয়ায় শনিবার সড়ক, রেল এবং নৌপথে রাজধানীতে ফিরেছেন লাখ লাখ মানুষ। আর প্রতি ট্রেনে দেড় থেকে দুই হাজার মানুষ নিয়ে ঢাকায় এসেছে আন্তঃনগর ট্রেনগুলো। ঈদে প্রিয়জনদের সঙ্গে যাওয়ার সময় যেমন নির্বিঘ্নে হয়েছে, তেমনিভাবে স্বস্তিতে ঢাকায় ফিরছেন মানুষ। সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরতরা ঢাকায় ফিরলেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আরও কয়েকদিন বন্ধ থাকায় পরিবারের অন্য সদস্যরা চলতি সপ্তাহে ধীরে সুস্থে ফিরবেন। এজন্য পুরো সপ্তাহজুড়ে ঢাকায় ফেরা মানুষের চাপ অব্যাহত থাকবে। বাস স্টপেজ, রেল স্টেশন ও লঞ্চঘাটে ঢাকা ফেরত যাত্রীদের চাপ থাকলেও রাজধানী ঢাকার প্রধান সড়ক থেকে অলিগলিতে এখনো চিরচেনা সেই দৃশ্য নেই। কিছুক্ষণ পরপর কয়েকটি বাস, প্রাইভেটকার, রিকশা, অটোরিকশা বা অন্যান্য পরিবহণ চলাচল করতে দেখা গেছে।

সরেজমিন বাস টার্মিনাল, লঞ্চঘাট এবং রেলওয়ে স্টেশন ঘুরে জানা গেছে, প্রিয়জনের সঙ্গে স্বস্তিতে ঈদ উদযাপন করে সুখস্মৃতি নিয়ে ঢাকায় ফিরছেন মানুষ। শনিবার লঞ্চে ছিল না উপচে পড়া ভিড়; তবে লঞ্চভেদে ভাড়া ১০০ থেকে ১২০ টাকা বেশি নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে যাত্রীদের।

লঞ্চঘাটে শনিবার লাখ লাখ মানুষকে ঢাকায় ফিরতে দেখা গেছে। অতিরিক্ত ভাড়া ছাড়া লঞ্চে তেমন কোনো ভোগান্তি ছিল না। তবে লঞ্চঘাট থেকে বেরিয়ে যাত্রীরা পড়েন চরম ভোগান্তিতে; কেননা, সেখানে পরিবহণের জটলা ছিল। আর গাবতলী-সায়েদাবাদ-মহাখালী এবং বাসের অন্যান্য পয়েন্টেও ঢাকার বাইরে থেকে আসা বাসের যাত্রীরা জানিয়েছেন, সড়কে কোনো যানজট নেই। নির্বিঘ্নে তারা ফিরেছেন। ট্রেনের যাত্রা এবার বেশি স্বস্তি দিয়েছে টিকিট কালোবাজারি না হওয়ায়। কোনো ধরনের শিডিউল বিপর্যয় ছাড়াই চলাচল করেছে। তবে শুক্রবার সার্ভারের ত্রুটির কারণে টিকিটি পেতে অনেকের ভোগান্তি হয়েছে। পরে দ্রুততম সময়ে তা নিরসনও করা হয়েছে।

গাবতলী বাস টার্মিনাল ঘুরে মিরপুর প্রতিনিধি জানান, শনিবার সকাল থেকেই রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনালে ঢাকামুখী যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় ছিল লক্ষণীয়। ঈদের ছুটি শেষে গত ২ দিনের তুলনায় শনিবার অনেক বেশি মানুষকে ঢাকায় ফিরতে দেখা গেছে। গ্রাম থেকে গাবতলীতে প্রবেশ করা বাসগুলো থেকে অনেক যাত্রীকে নামতে দেখা গেছে।

শনিবার দুপুর ১২টায় সরেজমিন গাবতলী বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা গেছে, আমিন বাজার ব্রিজ দিয়ে শত শত যাত্রী বোঝাই বাস গাবতলীতে ঢুকছে। গাবতলী এবং আশপাশের এলাকায় গাড়ির চাপ বেশি থাকায় অনেক সময় পর্বতা সিনেমা হল থেকে গাবতলী মাজার রোড পর্যন্ত যানজট লক্ষ্য করা গেছে।

গাবতলীর দর্শনা ডিলাক্স পরিবহণের ম্যানেজার শল্টু বলেন, আমাদের ঢাকা ছেড়ে যাওয়া বাসে যাত্রী কম থাকলেও ঢাকামুখী গাড়িগুলোর কোনোটির সিট ফাঁকা নেই। সব আসনে যাত্রী রয়েছে। এমনকি ৪০ সিটের বাসে ৪৫ জন যাত্রীও এসেছে। শনিবার সকাল থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৩টি বাস যাত্রী নিয়ে গাবতলীতে এসেছে। সবকটি বাসে আসনের অতিরিক্ত যাত্রী ছিল। তিনি বলেন, অনেকে পরিবার গ্রামে রেখে কাজের উদ্দেশে ঢাকায় এসেছেন। পুরো সপ্তাহজুড়ে গাবতলীতে ঢাকামুখো লোকজনের ভিড় থাকবে।

গাবতলীর ট্রাফিক পুলিশের এক সদস্য জানান, ঈদের ৩-৪ দিন যাত্রী না থাকলেও শনিবার থেকে গাবতলীতে ঢাকায় ফেরা মানুষের সংখ্যা বেড়েছে। শনিবার সকালে লোকজনের চাপ বেশি থাকায় ট্রাফিক পুলিশকেও অনেক তৎপর থাকতে হয়েছে।

একটি বেসরকারি ব্যাংকের ক্যাশ অফিসার সুফিয়ান আহমেদ বলেন, সকালে ফরিদপুরের বোয়ালমারি থেকে রওয়ানা দিয়ে দুপুরে তিনি গাবতলী নেমেছেন। সড়কে অনেক বাস থাকলেও তেমন একটা যানজট নেই। রোববার ব্যাংক খোলা। তাই পরিবার গ্রামে রেখে তিনি একা ফিরেছেন। সপ্তাহের শেষের দিকে পরিবারের লোকজন ঢাকায় ফিরবে।

যাত্রাবাড়ী-সায়েদাবাদ এলাকা ঘুরে যাত্রাবাড়ী প্রতিনিধি জানান, শনিবার সকাল থেকে রাজধানীর সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল, ঢাকা-মাওয়া সড়কের দোলাইরপাড়, যাত্রাবাড়ী মোড়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সাইনবোর্ড, মাতুয়াইল, শনিরআখড়া ঘুরে দেখা যায়, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বাস এসে পৌঁছাচ্ছে একের পর এক। প্রতিটি বাসেই ছিল যাত্রীদের ভিড়, সবার চোখেমুখে ঈদের আনন্দের রেশ। যাত্রীরা বাস থেকে নেমে ব্যাগ-লাগেজ হাতে নিয়ে ছুটছেন কেউ সিএনজিচালিত অটোরিকশার খোঁজে, কেউ রিকশায়, কেউবা হেঁটেই যাচ্ছেন। বেসরকারি চাকরিজীবীদের কেউ কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে, কেউবা বাসায় ফিরছেন।

ফেরত আসা যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এবারের ঈদযাত্রা ছিল তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক। তবে ফিরতি যাত্রায় ভাড়া বেশি নেওয়ারও অভিযোগ করেছেন অনেকে। সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে সপরিবারে চট্টগ্রাম থেকে শ্যামলী পরিবহণে আসা আব্দুল হালিম জানান, ঈদের এই দীর্ঘ ছুটিতে পরিবারের সঙ্গে আনন্দ করেছি। বাচ্চাদের স্কুল খুব শিগগির খুলবে এবং রোববার থেকে আমাকেও অফিসে যেতে হবে।

যাত্রাবাড়ী বাসস্ট্যান্ডে বরিশাল থেকে আগত ইলিশ পরিবহণ থেকে নেমে ব্যাগ হাতে নিয়ে স্ত্রী-সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে সিএনজির খোঁজ করছেন আবুল কালাম। তিনি বলেন, পূর্বের ভাড়া থেকে ২০০ টাকা ভাড়া বেশি নিয়েছে। ঢাকা-কচুয়া সড়কের সুরমা বাসের যাত্রী নিয়াজ খোরশেদ সানী যুগান্তরকে বলেন, যেখানে বাসের ভাড়া ছিল ১৬০ টাকা; সেখানে ঢাকায় আসতে ভাড়া নিয়েছে ২৫০ টাকা। দীর্ঘ সময় বাসের জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে।

পাঠকের মতামত:

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

SMS Alert

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর