thereport24.com
ঢাকা, মঙ্গলবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬,  ১১ রবিউস সানি 1441

সেকেন্ড হোম: নাগরিকত্ব দেবে না মালয়েশিয়া

২০১৯ অক্টোবর ০৪ ১০:২৮:২৮
সেকেন্ড হোম: নাগরিকত্ব দেবে না মালয়েশিয়া

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক: বাংলাদেশের ব্যবসায়ী, সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের আমলা, রাজনীতিবিদ থেকে শুরু করে নানা পেশার চার হাজারের বেশি নাগরিক নাম লিখিয়েছেন মাই সেকেন্ড হোমে।

কিন্তু যে স্বপ্ন নিয়ে মালয়েশিযায় সেকেন্ড হোম করেছেন তাতে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বর্তমান মাহাথির সরকার। মালয়েশিয়া সেকেন্ড হোমধারীদের নাগরিকত্ব দেবে না বলে ঘোষণা দিয়েছে। দেশটির উপ-প্রধান মন্ত্রী ওয়ান অজিজাহ এই ঘোষণা দিয়েছেন।

মালয়েশিয়ার মিনিস্ট্রি অ্যান্ড ট্যুরিজম আর্টস অ্যান্ড কালচারের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, পৃথিবীর ১৩০টি দেশের ৪০ হাজার নাগরিক ‘মাইয়েশিয়া মাই সেকেন্ড হোমের (এমএম২এইচ) বাসিন্দা হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম স্থানে রয়েছে চীন ও দ্বিতীয় জাপান। আর তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছে বাংলাদেশের নাম।

তবে মালয়েশিয়ায় বসবাসরত একটি কমিউনিটি সূত্র জানিয়েছে, মালয়েশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে ১০ থেকে ১৫ হাজার বাংলাদেশি বসবাস করছেন। আরো প্রায় ৫ হাজার ব্যক্তি সেকেন্ড হোমের আবেদন করে অপেক্ষায় রয়েছেন। অনেকেই বলছেন, মালয়েশিয়া টাকার উৎস নিয়ে প্রশ্ন না করায় বাংলাদেশিরা এই সুযোগ নিচ্ছেন।

সূত্র জানায়, কয়েক হাজার বাংলাদেশি দেশটিতে রেস্টুরেন্ট ব্যবসা গড়েছেন। এছাড়া বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের পাঁচতারকা হোটেল, গার্মেন্ট কারখানা, ওষুধ শিল্পসহ নানা খাতে বিপুল বিনিয়োগ রয়েছে। কেউ কেউ রাজধানী কুয়ালালামপুরসহ বড় বড় শপিংমলে দোকানও কিনেছেন। এছাড়া অনেকে স্বর্ণ, খেলনা, তৈরি পোশাকের ব্যবসা করছেন। অনেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করেছেন কৃষি খাতসহ বিভিন্ন খাতে।

তথ্য মতে, বাংলাদেশিদের বর্তমান শেয়ার সর্বোচ্চ ১০ পারসেন্ট অফ দ্য টোটাল মালয়েশিয়া মাই সেকেন্ড হোম (এমএম২এইচ) প্রকল্পের বেনিফিশিয়ারি। এদের মধ্যে অনেকে ব্যবসা-বাণিজ্যের পাশাপাশি স্থায়ীভাবে সপরিবারে বসবাস করছেন। কিন্তু দেশটির সরকারের এই ঘোষণার ফলে তাদের আশাভঙ্গ হতে যাচ্ছে।

প্রকাশিত পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, মালয়েশিয়া মাই সেকেন্ড হোমে চীনের নাগরিক রয়েছেন ১১ হাজার ৮২০ জন। জাপানিজ চার হাজার ১৮ জন। আর বাংলাদেশির সংখ্যা চার হাজার ১৮ জন।

এরপর যথাক্রমে ব্রিটেন দুই হাজার ৬০৮ জন, দক্ষিণ কোরিয়া দুই হাজার ৬৯ জন, সিঙ্গাপুর এক হাজার ৪২১ জন, ইরান এক হাজার ৩৮১ জন, তাইওয়ান এক হাজার ৩৪৭ জন, পাকিস্তান এক হাজার ১৭ এবং ভারতের এক হাজার আটজন।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে মালয়েশিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম শাখার প্রথম সচিব মো. হেদায়েতুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি সরাসরি মালয়েশিয়া সরকারের ঘোষণার প্রেক্ষিতে শুরু হয়েছে। তবে দূতাবাস বিষয়টিতে নজরদারি করে। এরই মধ্যে আমাদের পরামর্শ এবং বিভিন্ন অনুধাবন বাংলাদেশ সরকারকে আমরা জানিয়েছি।

মালয়েশিয়া মাই সেকেন্ড হোমে আবেদনের ক্রাইটেরিয়ার মধ্যে উল্লেখ করা হয়েছে, যাদের বয়স ৫০+ (বেশি) তাদের জন্য লিকুইড এসেট-এর পরিমাণ থাকতে হবে সাড়ে তিন লাখ মালয়েশিয়ান রিংগিত। বাংলাদেশি টাকায় ৭৩ লাখ টাকা। সাথে মাসিক আয় দেখাতে হবে ১০ হাজার মালয়েশিয়ান রিংগিত। অপর দিকে আবেদনকারী যাদের বয়স ৫০ এর নিচে তাদের জন্য লিকুইড এসেট থাকতে হবে পাঁচ লাখ মালয়েশিয়ান রিংগিত।

ভিসা পারমিট পাওয়ার আগে যাদের বয়স ৫০ এর নিচে তাদের জন্য মালয়েশিয়ান ব্যাংকে তিন লাখ রিংগিত ফিক্সড ডিপোজিট জমা করতে হবে। আবেদনকারী এক বছর পর সেখান থেকে দেড় লাখ রিংগিত উত্তোলন করতে পারবে।

তবে দ্বিতীয় বছরে অবশ্যই একই পরিমাণ ব্যালেন্স লেনদেনের পর জমা থাকতে হবে মালয়েশিয়া মাই সেকেন্ড হোম প্রোগ্রাম পর্যন্ত। অপরদিকে আবেদনকারী ৫০-এর ওপরে হলে দেড় লাখ রিংগিত দিয়ে ব্যাংকে ফিক্সড ডিপোজিট রাখতে হবে।

এক্ষেত্রে এক বছর পর আবেদনকারী তার জমা রিংগিত থেকে ৫০ হাজার রিংগিত উত্তোলন করতে পারবে। এই তালিকার আবেদনকারীকে অবশ্যই এক লাখ রিংগিত ব্যাংকে ব্যালান্স টাকা জমা রাখতে হবে।

অভিযোগ রয়েছে, বাংলাদেশে নানাবিধ সমস্যার মুখে পড়তে পারেন এমন আশঙ্কায় অনেকে সেকেন্ড হোম নিচ্ছেন মালয়েশিয়ায়। দেশটির শিক্ষা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা দেশের থেকে অনেক উন্নত, এ কারণে মালয়েশিয়ায় সেকেন্ড হোম প্রোগ্রামে আবেদনের হিড়িক পড়ে যায়। তবে সেকেন্ড হোম করতে যে টাকার প্রয়োজন হয়, তা বাংলাদেশ থেকে কেউই বৈধ পথে নেননি।

এ দিকে মালয়েশিয়ায় নিরাপত্তার অজুহাতে চলছে অবৈধভাবে অর্থ-পাচার। দেশটিতে সেকেন্ড হোমে বসবাসকারী অনেকের কাছেই ওপেন সিক্রেট। বিষয়টি জানে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটও। তবুও থামছে না এ অর্থপাচার।

কী পরিমাণ অর্থ মালয়েশিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে তার সুনির্দিষ্ট কোনো হিসেব জানা যায়নি। তবে গড়ে ২০ লাখ টাকা ব্যয় ধরে দেখা গেছে, বাংলাদেশিরা নিয়ে গেছেন প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা। এই টাকা কেবল সরকারকে দিতে হয়েছে। তবে একাধিক সূত্রে জানা গেছে, জনপ্রতি ১২ কোটি টাকা করে প্রায় ৪২ হাজার ৫৫২ কোটি টাকা সেকেন্ড হোমধারীরা মালয়েশিয়ায় অবৈধ পথে নিয়ে গেছেন।

সেকেন্ড হোমধারীদের অর্থপাচার ও কর ফাঁকির বিষয়টি খতিয়ে দেখতে সরকারিভাবে মালয়েশিয়ায় যোগাযোগ অব্যাহত রাখলেও সঠিক কোন সুরাহা হয়নি এখনও। ২০১৫ সালের শেষের দিকে বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল নিয়ে একটি কমিটিও করা হয়েছিল। ওই কমিটির কার্যপরিধি সংক্রান্ত আদেশে বলা হয়েছিল, আয়কর না দিয়ে অবৈধভাবে অপ্রদর্শিত অর্থ বিদেশে পাচার বা সেকেন্ড হোম নির্মাণ করেছেন তাদের তালিকা প্রস্তুত ও ব্যবস্থা নেয়ার জন্য কর্মকৌশল নির্ধারণ করা হয়েছিল।

এ ছাড়া তিন সদস্যের বিশেষ টিম সেকেন্ড হোম নেয়া ব্যক্তিদের সম্পর্কে অনুসন্ধানও চালিয়েছিল। এ ছাড়া ইমিগ্রেশন বিভাগের মাধ্যমে ১০ বছর মেয়াদি মালয়েশিয়ান ভিসাকারীদের রয়েছে এমন তালিকা তৈরির পরই কাজ শুরুর কথা ছিল কিন্তু কোনটাই আলোর মুখ দেখেনি।

(দ্য রিপোর্ট/আরজেড/অক্টোবর ০৪,২০১৯)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

প্রবাস কথা এর সর্বশেষ খবর

প্রবাস কথা - এর সব খবর