thereport24.com
ঢাকা, সোমবার, ৩০ জানুয়ারি ২০২৩, ১৭ মাঘ ১৪২৯,  ৮ রজব ১৪৪৪

কারসাজির শেষ কোথায় ?

ইউসুফ ফ্লাওয়ার : ২৬ টাকার শেয়ার দেড় মাসে ২৮৮৪ টাকায়   

২০২২ ডিসেম্বর ২২ ২৩:৫৩:১৬
ইউসুফ ফ্লাওয়ার : ২৬ টাকার শেয়ার দেড় মাসে ২৮৮৪ টাকায় 
 

তৌহিদুল ইসলাম মিন্টু,দ্য রিপোর্ট : দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত এসএমই কোম্পানি বোর্ডের ইউসুফ ফ্লাওয়ার মিলস। সম্প্রতি কোম্পানিটির শেয়ার দর অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ১৩ নভেম্বর কোম্পানিটির শেয়ারদর ২৬ টাকা ১০ পয়সা ছিলো যা বর্তমানে লেনদেন হচ্ছে ২৮৮৪ টাকায়। এই অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির পেছনে মূল্যসংবেদনশীল তথ্য নেই বলে জানিয়েছে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ।

ডিএসই সুত্রে পাওয়া খবরে দেখা গেছে , খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতের কোম্পানিটির শেয়ারদর অস্বাভাবিক আচরন করছে নভেম্বর মাসের ১০ তারিখ থেকে। ১০ নভেম্বরের পর থেকে ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে ইউসুফ ফ্লাওয়ার মিলসের শেয়ারদর। এর মধ্যে ১৩ নভেম্বর কোম্পানিটির শেয়ারদর ২৬ টাকা ১০ পয়সা থেকে বেড়ে ৫৯৪ টাকা ৪০ পয়সায় দাঁড়ায়। এরপর থেকে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম কোনভাবেই আটকে রাখা যাচ্ছে না। ২১ নভেম্বর কোম্পানিটির শেয়ারের দাম ৭৭৩ টাকা ১০ পয়সায় দাঁড়ায়। ৬ দিন পর একই মাসের ২৭ তারিখ শেয়ারের দাম ১১৩১ টাকা ৭০ পয়সায় দাঁড়ায়। নভেম্বর মাসের এই উর্ধ্বমুখীতা চলমান থাকে ডিসেম্বর মাসেও। পহেলা ডিসেম্বর এই কোম্পানিটির শেয়ার দর আরো বৃদ্ধি পায়। এদিন কোম্পানিটির শেয়ারের দাম হয় ১৬৫৬ টাকা ৭০ পয়সা। দুই সপ্তাহের মাথায় দুই হাজারের ঘর পার হয়ে যায় শেয়ারটির দাম। ডিসেম্বর মাসের ১৩ তারিখ কোম্পানিটির শেয়ারমূল্য ২৬২২ টাকায় পৌছায়। সর্বশেষ কোম্পানিটির শেয়ারের দাম ২৮৮৪ টাকায় পৌছেছে।

সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে গত পহেলা ডিসেম্বর কোম্পানিটির শেয়ার সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে। এদিন কোম্পানিটির মোট ৯০টি শেয়ার লেনদেন হয়। গতকাল কোম্পানিটির কোনো শেয়ার লেনদেন হয়নি।

ওটিসি থেকে ফেরা পঞ্চম কোম্পানি হিসেবে চলতি বছরের ২৮ জুলাই ২৬ টাকা ১০ পয়সায় এসএমই মার্কেটে লেনদেন শুরু করে ইউসুফ ফ্লাওয়ার মিলস। সেখান থেকে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত কোম্পানিটির শেয়ারদর অপরিবর্তিত ছিল। এরপর থেকেই অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে ।

উল্লেখ্য, ইউসুফ ফ্লাওয়ার মিলস লভ্যাংশ ঘোষনার দিন থেকে শেয়ার দর বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত মাসের ১৩ তারিখ ইউসুফ ফ্লাওয়ারের পরিচালনা পর্ষদের শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ঘোষণা করা ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশের তথ্য ডিএসইর ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। যা কোম্পানিটির ২০২১-২২ অর্থবছরের মুনাফার ১৮ শতাংশ। প্রকাশিত খবরে জানা যায় এ ব্যাপারে জরিমানাও গুনতে হয়েছে কোম্পানিটিকে। ২০১৯-২০ অর্থবছরের আয়কর পরিপত্র মোতাবেক শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোকে মুনাফার কমপক্ষে ৩০ শতাংশ লভ্যাংশ আকারে শেয়ারহোল্ডারদেরকে দিতে হবে। যদি ৩০ শতাংশের কম দিয়ে থাকে তাহলে কোম্পানির রেখে দেওয়া আয় থেকে ১০ শতাংশ অতিরিক্ত আয়কর দিতে হবে। ইউসুফ ফ্লাওয়ারের ২০২১-২২ অর্থবছরে শেয়ারপ্রতি ৫ টাকা ৫৩ পয়সা হিসাবে ৩৩ লাখ ৫৫ হাজার ৬০৪ টাকার নিট মুনাফা হয়েছে। এর বিপরীতে কোম্পানিটির পর্ষদ ১০ শতাংশ হিসেবে ৬ লাখ ৬ হাজার ৮০০ টাকার লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। যা মুনাফার ১৮ শতাংশ। বাকি ২৭ লাখ ৪৮ হাজার ৮০৪ টাকা বা ৮২ শতাংশ আয় হিসেবে রেখেছে। মুনাফার ৭০ শতাংশের বেশি রেখে দেওয়ার সিদ্ধান্তের ফলে ২৭ লাখ ৪৮ হাজার ৮০৪ টাকা টাকার উপরে ১০ শতাংশ হারে অতিরিক্ত ২ লাখ ৭৪ হাজার ৮৮০ টাকা কর দিতে হয়েছিলো ইউসুফ ফ্লাওয়ারকে।

এভাবে এসএমই খাতের কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দাম বৃদ্ধির ব্যাপারে কথা হয় পুঁজিবাজার বিশেষজ্ঞ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক আবু আহমেদের সাথে। তিনি বলেন, "এসএমই খাতের কোম্পানিগুলো নিয়ে আগে থেকেই নানা অনিয়মের কথা শোনা যায়। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সমস্যার কথা শোনা যায়। ” নিয়ন্ত্রক সংস্থা এব্যাপারে নজর দিবে বলে তিনি আশা করেন।

এছাড়া কথা হয় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুঁজিবাজারে বিশেষজ্ঞের সাথে। তিনি বলেন "লক্ষ্য করলে দেখা যায় এই কোম্পানিটির ৫৩ দশমিক ৮৮ শতাংশ শেয়ার আছে পরিচালক বিনিয়োগকারীদের হাতে। অন্যদিকে, ৪৬ দশমিক ০৫ শতাংশ শেয়ার আছে সাধারন বিনিয়োগকারীদের হাতে। ইউসুফ ফ্লায়ারের বর্তমানে ৬০ লাখ ৬৮ হাজার টাকা পরিশোধিত মূলধন রয়েছে। হিসাবমতো বিনিয়োগকারীদের মালিকানা ২৭ লাখ ৯৪ হাজার ৩১৪ টাকা বা ৪৬.০৫ শতাংশ। অর্থাৎ সাধারন বিনিয়োগকারীদের হাতে কোম্পানিটির শেয়ার সংখ্যা মাত্র ২ লাখ ৭৯ হাজার ৪৩১টি।" তিনি বলছেন এই নামমাত্র শেয়ারের কারনে ইউসুফ ফ্লাওয়ারের লভ্যাংশ পরবর্তী সার্কিট ব্রেকারহীন দিন (১৩ নভেম্বর) শেয়ারটির দর বেড়েছে অস্বাভাবিক হারে।

এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য কোম্পানির সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। ডিএসই ওয়েবসাইটে কোম্পানির কোন যোগাযোগের নম্বর পাওয়া যায়নি। এমনকি ডিএসই ওয়েবসাইটে কোম্পানিটির ঠিকানা ছাড়া আর কোন তথ্য নেই।

প্রসঙ্গত এসএমই কোম্পানিগুলোর কোন কারণ ছাড়াই দাম বৃদ্ধি আগেও দেখা গিয়েছে। আছিয়া সিফুড,এপেক্স ওয়েভিং,বিডি পেইন্টস,ওয়ান্ডারল্যান্ড টয়েস সহ একাধিক কোম্পানির বিভিন্ন সময় কোন কারন ছাড়াই দাম বাড়তে দেখা গেছে।

দ্য রিপোর্ট/ টি আই এম/

পাঠকের মতামত:

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

SMS Alert

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর