thereport24.com
ঢাকা, রবিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮, ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৫,  ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪০

এখনও শেষ হয়নি শোলাকিয়ার হামলার তদন্ত

২০১৭ জুন ২৫ ২০:৩৬:৫৩
এখনও শেষ হয়নি শোলাকিয়ার হামলার তদন্ত

শহীদুল ইসলাম পলাশ, কিশোরগঞ্জ : কিশোরগঞ্জের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় দুর্ঘটনা দেশের সর্ববৃহৎ শোলাকিয়া ঈদগাহে জঙ্গি হামলার পূর্ণ হবে এক বছর। দুঃখজনক হলেও সত্য, বছর ঘুরলেও পুলিশ এখনো পর্যন্ত শেষ করতে পারেনি শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলার তদন্ত।

এদিকে তদন্ত কমিটি জানিয়েছে, এ হামলায় সরাসরি জড়িত সবাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে মারা গেছে। যার ফলে সহজেই কোন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। সব চেয়ে বড় বিষয় হলো এখনো ধরাছোয়াঁর বাইরে রয়ে গেছে অর্থদাতা ও মদদদাতারা। আমরা তাদের সন্ধানে আছি। তাদের পেলেই দ্রুত তদন্ত শেষ শেষ করা যেতো।

শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলার ঘটনার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কিশোরগঞ্জ মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মুর্শেদ জামান জানান, আমরা এখনও এ মামলার তদন্ত শেষ করতে পারিনি। আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি খুব দ্রুত এ মামলার অভিযোগপত্র দিতে। তবে শোলাকিয়া হামলার পর দেশের বিভিন্ন জায়গায় যে সব জঙ্গিবিরোধী সফল অভিযান হয়েছে, তা থেকে এ মামলার অনেক তথ্য আমরা সংগ্রহ করেছি। তা মামলার তদন্ত রিপোর্টে কাজে লাগবে।

তিনি আরও জানান, গত ঈদুল ফিতরের দিন শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলার অন্যতম নেপথ্য হোতা ছিলেন জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজিব গান্ধী (৩২)। গত ২৯ মে তাকে তিন দিনের রিমান্ডে নেয় কিশোরগঞ্জ পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের কাছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে সে। পুলিশের কাছে অস্ত্রদাতা, অর্থদাতা এবং হামলার নেপথ্যে কারা তাদের নাম প্রকাশ করেছে রাজিব গান্ধী। জিজ্ঞাসাবাদে গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁ ও শোলাকিয়ায় হামলায় রাজিব গান্ধী নিজের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে এবং জড়িত আরও কয়েকজনের নাম বলেছে। রিমান্ড শেষে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছে সে। তবে জিজ্ঞাসাবাদে কাদের নাম বা কত জনের নাম এসেছে তা জানাননি তদন্ত কর্মকর্তা।

একটি সূত্র জানায়, নব্য জেএমবির সদস্যরা রংপুরে জাপানি নাগরিক হোসি কুনিও এবং ধর্মান্তরিত রহমত আলী, পঞ্চগড়ের যজ্ঞেশ্বর পুরোহিত, কুড়িগ্রামের মুক্তিযোদ্ধা হোসেন আলী, গাইবান্ধার তরুণ দত্ত, দেবেশ ও ফজলে রাব্বী, টাঙ্গাইলের দর্জি নিখিল, পাবনার নিত্যানন্দ পান্ডব, নাটোরের সুনীল গোমেজ, কুষ্টিয়ার ডা. সানাউল, রাজশাহীর প্রফেসর রেজাউল ও ঢাকার সিজার তাবেলা হত্যাসহ ২৪টি হত্যাকাণ্ড ঘটায়। এসব হত্যাকাণ্ডে যারা জড়িত ছিল তাদের মধ্যে থেকে সাহসী ও হিংস্রদের হলি আর্টিজান এবং শোলাকিয়ায় হামলার দায়িত্ব দেওয়া হয়।

শোলাকিয়া হামলা সম্পর্কে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মুর্শেদ জামান জানান, শোলাকিয়ায় পুলিশের ওপর সরাসরি হামলা চালায় মূলত দু’জন। কিন্তু পরিকল্পনায় তাদের ছিল পাঁচজন। শোলাকিয়া হামলার মূল পরিকল্পনাকারী রাজীব গান্ধী। তার সঙ্গে তামিম চৌধুরী, মারজান, সারোয়ান জাহান মানিক ও জাহিদ মিলে হামলার ছক তৈরি করে। এরা সবাই নব্য জেএমবির সদস্য বলে জানা যায়।

তদন্ত কর্মকর্তা আরও বলেন, হামলার প্রধান উদ্দেশ্য ছিল শোলাকিয়া জামাতের ইমাম ফরিদ উদ্দিন মাউসদকেও হত্যা করা এবং মাঠে নামাজ পড়তে অবস্থানরত বিপুল সংখ্যক মানুষের প্রাণহানি ঘটিয়ে বর্তমান সরকারের পতন ঘটানো।

পুলিশ জানায়, হলি আর্টিজান ও শোলাকিয়ায় হামলার পরিকল্পনা এক সঙ্গেই করা হয়। এ নিয়ে জঙ্গিরা ঢাকায় দুদফা বৈঠক করে। হামলাকারীদের মধ্যে খায়রুল ইসলাম পায়েল বাধন, শরিফুল ইসলাম ডন, রোহান ইমতিয়াজ স্বপন ও শফিকুল ইসলাম উজ্জ্বলকে দুটি হামলার দায়িত্ব দেয় রাজীব গান্ধী। পরবর্তী সময়ে শোলাকিয়া হামলায় অংশ নেওয়া তামিম চৌধুরী নারায়ণগঞ্জে, জাহিদ ঢাকার রূপগঞ্জে, আকাশ গাজীপুরের পাতারটেকে, শরিফুল ইসলাম ডন পুলিশের জঙ্গিবিরোধী অভিযানে নিহত হয়।

এ ছাড়া আবির রহমান শোলাকিয়ায় পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়। সে কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার ত্রিবিদ্যা গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে। আবির ঢাকায় নর্থ-সাউথ ইউনিভার্সিটির বিবিএ’র ছাত্র ছিল। একইদিন পুলিশের গুলিতে আহত হয় আরেক জঙ্গি শফিউল ইসলাম (ডন)। তাকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে গত ৪ আগস্ট র‌্যাবের একটি দল ময়মনসিংহ থেকে কিশোরগঞ্জ নিয়ে আসার পথে নান্দাইলে সন্ত্রাসীদের সঙ্গে র‌্যাবের বন্দুকযুদ্ধের সময় শফিউল গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়। সে দিনাজপুর জেলার ঘোড়াঘাট এলাকার আব্দুল হাইয়ের ছেলে। পুলিশের কাছে হস্তান্তর করার জন্য র‌্যাবের দলটি তাকে কিশোরগঞ্জে নিয়ে আসছিল।

শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলার ঘটনায় ডন, জাহিদুল হক তানিম এবং অজ্ঞাত কিছু আসামির বিরুদ্ধে গত বছরের ১০ জুলাই পাকুন্দিয়া থানার বর্তমান অফিসার ইনচার্জ মো. শামসুদ্দিন বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। এই জঙ্গি হামলায় পুলিশ সদস্য আনসারুল হক ও জহিরুল ইসলাম নিহত হন। দু’পক্ষে গোলাগুলির সময় নিহত হন ঝর্ণা রানী ভৌমিক নামে শোলাকিয়া এলাকার এক নারী।

পুলিশ জানিয়েছে, এ মামলায় এখন রাজিব গান্ধী ছাড়াও গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের আনোয়ার হোসেন (৪৬) এবং কিশোরগঞ্জ শহরের জাহিদুল হক তানিম (২৫) কারাগারে রয়েছে।

(দ্য রিপোর্ট/এপি/ এনআই/জুন ২৫, ২০১৭)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

বিশেষ সংবাদ এর সর্বশেষ খবর

বিশেষ সংবাদ - এর সব খবর