thereport24.com
ঢাকা, শুক্রবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ৯ ফাল্গুন ১৪২৬,  ২৫ জমাদিউস সানি 1441

প্রাথমিকে উত্তীর্ণ নতুন শিক্ষকদের যোগদান যথাসময়ে

২০২০ জানুয়ারি ২৯ ১০:৪৪:৩৬
প্রাথমিকে উত্তীর্ণ নতুন শিক্ষকদের যোগদান যথাসময়ে

দ্য রিপোর্ট প্রতিবেদক: প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আকরাম আল হোসেন জানিয়েছেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০১৮’ পরীক্ষায় নির্বাচিতদের নিয়োগ আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সম্পন্ন করা হবে। তবে যেসব জেলায় নিয়োগের বিরুদ্ধে আপিল করা হয়েছে, সেসব জেলায় এ কার্যক্রম স্থগিত রাখা হবে। এ নিয়ে কোনো জটিলতা সৃষ্টি হবে না।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে নিয়োগ-সংক্রান্ত বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এ কথা বলেন। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যথাযথভাবে কোটা সংরক্ষণ হয়নি অভিযোগ তুলে বঞ্চিতদের রিটের পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন জেলায় প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে হাইকোর্ট স্থগিতাদেশ দিয়েছেন। এজন্য দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে নিয়োগের জন্য নির্বাচিতদের।

আকরাম আল হোসেন জানালেন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ নওগাঁ জেলায় সহকারী শিক্ষক নিয়োগে স্থগিতাদেশ বাতিল করেন। ফলে ওই জেলায় নিয়োগে আর কোনো বাধাই থাকছে না। দেশের আরো ২৪ জেলায় স্থগিতাদেশ দেয়া হয়েছে। সেগুলোর ব্যাপারে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আপিল বিভাগে আবেদন করতে আমাদের আইনজীবীকে বলা হয়েছে।

নওগাঁ বাদে বাকি যেসব জেলায় স্থগিতাদেশ রয়েছে, সেসব জেলার নির্বাচিত প্রার্থীরা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। তারা শেষ পর্যন্ত যোগদান করতে পারবেন নাকি নিয়োগ পরীক্ষার ফল বাতিল হবে- এমন নানা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

সচিব বলেন, নিয়োগবিধি অনুসরণ করে এবং কোটার শর্ত পূরণ করেই সব সহকারী শিক্ষক নিয়োগের ফল প্রকাশ ও যোগ্য প্রার্থী নির্বাচন করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে নিয়োগবিধির কোনো ধরনের লঙ্ঘন হয়নি। এ সংক্রান্ত বিষয়ে আমাদের কাছে সব তথ্য-প্রমাণ রয়েছে। আমি আশা করি নওগাঁ জেলার বিষয়ে আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে অন্য সব জেলায় নিয়োগে স্থগিতাদেশও আপিল বিভাগে বাতিল হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রার্থী জানান, সরকার যোগদানের সময় নির্ধারণ করলেও আদালতে রিট হওয়ায় তারা অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। নিয়োগ পরীক্ষায় পাস করেও যোগদান করতে পারছেন না। এ বিষয়ে জেলা-উপজেলা থেকে কোনো তথ্য দেয়া হচ্ছে না। এসব নিয়ে তাদের স্বাভাবিক জীবন যাপন ব্যাহত হচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব আকরাম আল হোসেন বলেন, সব নিয়ম অনুসরণ করে চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। নারী কোটায় ৬০ শতাংশ, পোষ্য ২০ ও মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ২০ শতাংশ অনুসরণ করা হয়েছে। তবে যেসব জেলায় পর্যান্ত নারী প্রার্থী পাওয়া যায়নি সেখানে অন্যান্য কোটার মাধ্যমে পূরণ করা হয়েছে। চূড়ান্ত ফলে যারা যোগ্য হয়েছেন তাদের সবাইকে নিয়োগ দেয়া হবে। কাউকে বাদ দেয়া হবে না। তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করে উচ্চ আদালতে যাওয়ার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের ৩০ জুলাই সহকারী শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। পরে ওই বছরের ১-৩০ আগস্ট পর্যন্ত সারা দেশ থেকে ২৪ লাখ পাঁচজন প্রার্থী আবেদন করেন। প্রথম ধাপে ২৪ মে, দ্বিতীয় ধাপে ৩১ মে, তৃতীয় ধাপে ২১ জুন এবং চতুর্থ ধাপে ২৮ জুন লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

সেপ্টেম্বরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ লিখিত পরীক্ষায় ৫৫ হাজার ২৯৫ জন পাস করেন। গত ৬ অক্টোবর থেকে নিয়োগ পরীক্ষার মৌখিক পরীক্ষা শুরু হয়। মাসব্যাপী সারা দেশের সব জেলায় মৌখিক পরীক্ষা আয়োজন করা হয়। গত ২৪ ডিসেম্বর রাতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এ নিয়োগ পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করে। এ পরীক্ষায় ৬১ জেলায় ১৮ হাজার ১৪৭ জন চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হন।

(দ্য রিপোর্ট/আরজেড/জানুয়ারি ২৯,২০২০)

পাঠকের মতামত:

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

SMS Alert

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর