thereport24.com
ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২০, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭,  ৩ শাওয়াল ১৪৪১

প্রণোদনার অর্থ লোপাটে তৎপর অসাধু ব্যবসায়ী:সতর্ক বাংলাদেশ ব্যাংক

২০২০ এপ্রিল ০৫ ২০:০২:৪৫
প্রণোদনার অর্থ লোপাটে তৎপর অসাধু ব্যবসায়ী:সতর্ক বাংলাদেশ ব্যাংক

দ্য রিপোর্ট প্রতিবেদক: প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের কালো থাবায় বিপর্যস্ত অর্থনীতিকে বাঁচাতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। অর্থনৈতিক সংকট উত্তরণে রবিবার (০৫ এপ্রিল) নতুন করে ৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার ৪ টি প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এর আগে শ্রমিকদের বেতন দেয়ার জন্য ৫ হাজার কোটি টাকার প্যাকেজ ঘোষণা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সব মিলিয়ে ৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার প্রণোদনা ঘোষণা দিয়েছে সরকার।

ব্যবসা বাণিজ্য টিকিয়ে রাখার জন্য ৮০ ভাগ রপ্তানীমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানকে তাদের কর্মচারীদের বেতন দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

জানা যায়, এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে সঙ্গেই অসৎ ব্যবসায়ীরা তৎপর হয়ে উঠেছে শ্রমিকদের জন্য সরকারি প্রণোদনার টাকা লুটপাট করতে। সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী বিগত ৩ মাসের শ্রমিকের বেতন দেবে। আর এ কারণে এক শ্রেণির অসৎ ব্যবসায়ী ভুয়া, জাল কাগজ পত্র দেখিয়ে বাড়াচ্ছে কর্মচারীর সংখ্যা। এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, দুর্যোগের এই মুহূর্তে যারা এমন অসৎ কাজ করছেন তারা দেশ ও জাতির শত্রু।

করোনার কারণে বেশির ভাগ ব্যাংক কর্মকর্তারা ব্যাংকে যেতে পারছে না বলে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর লেজার একাউন্ট চেক করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে এই সুযোগটাও কাজে লাগানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের অসাধু ব্যবসায়ীরা।

আরো জানা যায়, বেশি সংখ্যক কর্মচারী দেখিয়ে সরকারি প্রণোদনার টাকা অসাধু মালিকরা তাদের একাউন্টে নিতে চাচ্ছে। কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করতে ও এই অনিয়মে সহায়তার জন্য ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন ব্যাংকের অফিসারদের চাপ সৃষ্টি করছে। এর সঙ্গে কিছু অসৎ ব্যাংক কর্মকর্তারাও জড়িত বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকার যদি এদিকে নজর না দেয়, তাহলে এই সুযোগে লোপাট হবে সরকারি টাকা।

বিশেষজ্ঞদের দাবি, শ্রমিকদের জাতীয় পরিচয় পত্র নিশ্চিত করে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে শ্রমিকদের কাছে বেতনের অর্থ পৌছে দেবার। আর তা করতে পারলে এই লুটপাট অনেকাংশেই কমবে। আর তাই এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছে তারা।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র বলেন, দেশের ক্রান্তিকালে এমন কার্যক্রম কেউ যদি করে সেটা অত্যন্ত দু:খজনক। গত বছরের ডিসেম্বর, এই বছরের জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি মোট তিন মাসের গড় যে বেতন শ্রমিকরা পেয়েছে তার উপর ভিত্তি করেই এই প্রণোদনার বেতন দেয়ার কথা।

তিনি বলেন, মালিকরা বহুবার বলেছে তাদের কিংবা টাকা কোম্পানির একাউন্টে দিতে। আমরা তা করছি না। আমরা দুই ম্যাকানিজম ট্রাই করছি। এর মধ্যে একটি হলো আমরা বেতন শ্রমিকের একাউন্টেই দিয়ে দিবো। আরেকটি হলো শ্রমিকদের বেতন নিতে হলে মালিকদের বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচার ইমপোর্টার্স এসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) কাউন্টার সাইন লাগবে। বিজিএমইএ'র কাছে যেহেতু প্রকৃত তথ্য আছে কোন গার্মেন্টেসে কতজন কাজ করে, সেক্ষেত্রে বিজিএমইএ' কাউন্টার সাইন ছাড়া আমরা কিন্তু বেতন দিচ্ছিনা। এর দায় দায়িত্ব বিজিএমইএ নিবে। এর পর আমরা আর কি করতে পারি।

তিনি বলেন, বিশেষ এই তহবিল থেকে মালিকরা অনুদান হিসেবে কোন অর্থ পাবেন না। মালিকরা তহবিল থেকে নিতে চাইলে তা ঋণ হিসেবে নিতে হবে। নির্ধারিত গ্রেস পিরিয়ডসহ লম্বা সময় ও ২% সুদে শিল্প মালিকরা ওই অর্থ পরিশোধ করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, মালিকরা টাকা নিলে তারা সেই টাকা ফেরত দিতে বাধ্য। পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে কয়েকটি পক্ষ জড়িত। কোনো প্রতিষ্ঠান যদি অনিয়ম করে তারা কিন্তু রেডমার্ক হয়ে যাবে। ভবিষ্যতে তাদের কিন্তু ব্যাংকিং করতে হবে।

অসাধু ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে হুশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেন, এটাই কিন্ত শেষ প্রণোদনা নয়। তারা শুধু এই প্রণোদন না আরো অনেক সুবিধাই পায়। অনিয়ম, জালিয়াতিতে ধরা পড়লে তারা সব কিছু হারাবে।

তিনি বলেন, ব্যবসায়ীদের আমাদের সঙ্গে প্রতিনিয়ত লেনদেন করতে হয়। তারা আমাদের হাতে কিন্তু বাধা আছে। একবার যে তারা নিয়ে চলে গেলো আর কোনোদিন লেনদেন হবে না এমনটা কিন্তু হবে না।

(দ্য রিপোর্ট/আরজেড/০৫এপ্রিল,২০২০)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

অর্থ ও বাণিজ্য এর সর্বশেষ খবর

অর্থ ও বাণিজ্য - এর সব খবর