রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে স্থায়ীভাবে রাখার কোন ইচ্ছে তার আছে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন,আমার দেশে ইতোমধ্যে ১৬ কোটি মানুষ রয়েছে। আমি আর কোন বোঝা নিতে চাই না, আমি তা নিতে পারবো না,আমার দেশ তা বহন করতে পারবে না।
জাতিসংঘ সম্মেলনে যোগদান করা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বুধবার নিউ ইয়র্কে রয়টার্সের কাছে এসব কথা বলেন।
আগামী ডিসেম্বরে দেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এরমধ্যে মিয়ানমারের সঙ্গে রোহিঙ্গা ইস্যুতে তিনি কোন সংঘাতে যেতে চান না। তবে তিনি সুপারিশ করে বলেন, অং সান সু চি ও মিয়ানমারের ক্ষমতার উৎস সামরিক শাসকের সঙ্গে ধৈর্যের মাত্রা ধীরে ধীরে হালকা হয়ে উঠছে।
রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমার সরকারের মুখপাত্র জ হিতাই জানতে চাইলে তিনি গণমাধ্যমের কাছে ফোনে এ মুহূর্তে কিছু বলবেন না বলে জানান। পরে তিনি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ বিষয়ে প্রশ্নের উত্তর দিবেন বলে জানান।
দুই মাসের মধ্যে রোহিঙ্গাদের ফেরত নেয়ার প্রক্রিয়া শুরুর বিষয়ে গত নভেম্বরে দুই দেশ সমঝোতায় পৌঁছায়, তবে তা শুরু হয়নি। এখনও রাষ্ট্রহীন রোহিঙ্গারা সীমনা পারি দিয়ে কক্সবাজারে আশ্রয় নিচ্ছে।
এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই চুক্তি বাস্তবায়নে মিয়ানমারের ওপর চাপ প্রয়োগের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান।
শেখ হাসিনা বলেন, তারা (মিয়ানমার) সবকিছুতেই সম্মত হয়, তবে কাজ করে না, এটাই সমস্যা। সবকিছুই ঠিকঠাক, তবে সবসময় তারা নতুন নতুন অজুহাত খোঁজে।
যদিও মিয়ানমার বলে আসছে, তারা রোহিঙ্গাদের নিতে প্রস্তুত এবং প্রাথমিকভাবে তাদের জন্য বাড়ি ও আশ্রয়ণ কেন্দ্র তৈরি করেছে।
উপরন্তু তারা অভিযোগ করে আসছে, বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের কোন সঠিক পদ্ধতি নেয়নি। বাংলাদেশ এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক সহযোগী সংস্থাগুলো বলে আসছে, রোহিঙ্গাদের ফেরার পরিবেশ এখনো নিরাপদ নয়।
বিলম্বের কারণে বাংলাদেশ ভাসান চরে রোহিঙ্গাদের জন্য নতুন আবাসস্থল তৈরির প্রস্তুতি নিচ্ছে। যদিও অধিকার গোষ্ঠীগুলো বলছে সেখানে বন্যার প্রকোপ দেখা দিবে। কক্সবাজারও বন্যার জন্য সুরক্ষিত নয়, তবে এবছর বর্ষাকালের প্রকোপ ছিল হালকা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মূল ভূখণ্ডে রোহিঙ্গাদের জন্য স্থায়ী আবাসস্থল তৈরি সম্ভব নয় এবং তা গ্রহণযোগ্যও হবে না। তারা মিয়ানমারের নাগরিক এবং তাদের অবশ্যই ফিরে যেতে হবে।
গত বছরের আগস্ট থেকে মিয়ানমার থেকে লাখ রাখ রোহিঙ্গা জীবন বাঁচাতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো জানায়, নিরাপত্তা বাহিনীর দমন-পীড়নেগত বছর কয়েক হাজার রোহিঙ্গা নিহত হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের হামলার কারণে তাদের ওপর এই নির্যাতন চালানো হয়।
চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র সরকার এক তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এতে তারা দেখায়, রোহিঙ্গাদের গণগত্যা, ধর্ষণসহ অন্যান্য নির্যাতনে মিয়ানমার সেনাবহিনী পরিকল্পিত প্রচারিভাযানসহ যুদ্ধের পরিকল্পনা করে।
যদিও মিয়ানমার এই অভিযোগ অস্বীকার করে, একে একপাক্ষিক বলে উল্লেখ করেছে। রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে অভিযানকে তারা বিদ্রোহী দমনেবৈধ অভিযান বলে দাবি করে আসছে।
(দ্য রিপোর্ট/একেএমএম/সেপ্টেম্বর ২৬,২০১৮)